আবারও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে খুলনার জয়!

ক্রিকেটে একটা কথা আছে, ‘Captain leading from the front.’ এই কথাটা এমন হলে কেমন হয়? ‘Captain leading from the front, back, side, up & down!’ বলছিলাম খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কথা। রিয়াদ ইতোমধ্যেই দুইটা টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিয়ে ফেলেছে। তবে আজকের ম্যাচ ছিল কাগজে কলমে এগিয়ে থাকা ঢাকার সাথে।

টসে জিতে খুলনা প্রথমে ব্যাট করতে নামে। ইনিংসের চতুর্থ বলেই প্রথম উইকেটের পতন! চতুর্থ ওভারের শেষ বলে দ্বিতীয় উইকেট পরলে উইকেটে আসেন ক্যাপ্টেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এসেই শুভাগতের সাথে ২৭ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। অপরদিক থেকে উইকেট পড়তে থাকলেও মাহমুদুল্লাহ একদিক আঁকড়ে থাকেন। ১৮ তম ওভারে ৬ মেরে তুলে নেন এই বিপিএলে খুলনার হয়ে প্রথম অর্ধশতক! ২০ তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিলো ৪ টি ছয় এবং ৪ টি চারের মার। মূলত তার ইনিংসেই ভর করেই খুলনা ১৫৭ রানের মোটামুটি একটি সংগ্রহ পায়।

জবাবে ঢাকা ১০ রানে তাদের ওপেনার মেহেদি মারুফকে হারায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে এক পর্যায়ে ৩০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ঢাকা উল্টা পথে হাটতে শুরু করে। কিন্তু তখনই মোসাদ্দেক ম্যাজিকের শুরু হয়। গত কয়েক ম্যাচের মতই মোসাদ্দেক দলের হাল ধরে ফেলে। এক পর্যায়ে সাকিবের সাথে ৩৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলে যেখানে সাকিবের অবদান মাত্র ৮ রান! সাকিব দলীয় ৬৮ রানে, ব্রাভো দলীয় ৭৩ রানে এবং মোসাদ্দেক দলীয় ৮৩ রানে আউট হলে ঢাকার আশা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু কে জানতো ৮৩ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও খেলার তখনও অনেক বাকি। সেই সময় ৩৮ বলে দরকার ৭৫ রান! হাতে মাত্র ৩ উইকেট। তখন ক্রিজে আসলেন প্রশন্ন… এসেই শুরু করলেন ৬ এর বৃষ্টি! ১৬তম ওভারে তিনটি ৬ মেরে ওভারে ২১ রান করে ঢাকাকে পুনরায় ম্যাচে ফিরান প্রশন্ন। শেষ তিন ওভারে দরকার ৩২ রান। ম্যাচটি ইতোমধ্যেই উত্তেজনায় পূর্ণ হয়ে গেছে। তার উপর প্রথম ২ বলে দুই ছয়ে খেলা প্রায় ঢাকার হাতে এসে যায়। প্রশন্ন মাত্র ১৮ বলে ৭ টি ছয়ের মাধ্যমে ৫০ রান পূর্ণ করেন। তখন ১২ বলে দরকার মাত্র ১৫ রান। তবে ১৯ তম ওভারে আসে মাত্র ৫ রান, সাথে একটি উইকেটও যায়। শেষ ওভারে দরকার ১০ রান হাতে ১ উইকেট। কিন্তু কিছুক্ষন আগে লাইফ পাওয়া প্রশন্ন প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হয়ে গেলে খুলনা ৫ বল বাকি থাকতেই ৯ রানের জয় তুলে নেয়। মোশারফ গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট নেয়ায় ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন।

তবে দক্ষ ক্যাপ্টেনসিতে এখানেও সাইলেন্ট কিলার নেতৃত্ব দেন। কখনও ব্যাটে, কখনও বলে, কখনও বা ক্যাপ্টেনসিতে। মাহমুদুল্লাহ এভ্রিহয়ার!

 

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

খুলনা টাইটানসঃ ১৫৭/৫ (২০)

ঢাকা ডায়নামাইটসঃ ১৪৮/১০ (১৯.১)

ফলাফলঃ খুলনা টাইটানস ৯ রানে জয়ী

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ মোশারফ রুবেল (খুলনা টাইটানস)

Leave a Reply