ইতিহাসের বাঁকবদল নাকি র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিরিজ?

ক্রিকেটের একনিষ্ঠ অনুসারীদের জন্য এবারের বক্সিং ডে বেশ ব্যস্ত কাটবে, বুঝাই যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে ঢুলুঢুলু চোখে টিভির সামনে বসবেন বাংলাদেশের খেলা দেখতে। খেলা শেষে যদি ভেবে থাকেন, সকালের কাঁচা ঘুমটা পূর্ণ করবেন, সম্ভব হবে না। সাউথ আফ্রিকা আর শ্রীলংকা নেমে যাবে আপনার ব্যস্ততা বাড়িয়ে দিতে।

এমনিতেই সিরিজটা হতে পারতো দারুণ জমজমাট। র‍্যাংকিংয়ের পাঁচ আর সাতের লড়াই। এ উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে র‍্যাংকিংই। অনেক যদি আর কিন্তুর সমীকরণ নিয়ে হাজির এই সিরিজের ফলাফল।

যদি সাউথ আফ্রিকা ৩ টেস্টের সিরিজ জিতে যায় ৩-০ ব্যবধানে, তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট হবে ১০৭। যেই রেটিং পয়েন্ট তাদের উঠিয়ে দেবে র‍্যাংকিং তালিকার ৩ নাম্বারে। আবার ভাগ্য একটু সহায় হলে, মানে বক্সিং ডের আরেক টেস্টে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানের সাথে পরাজিত হলে, তারা নেমে যাবে ৩-এ। ২য় স্থানে উঠে যাবে প্রোটিয়ারা।

কিন্তু এর বিপরীত ফলাফল আসলে? শ্রীলংকা ঠিক একই ব্যবধানে জিতে গেলে আরেক দফা পরিবর্তন। এবার অবশ্য কিঞ্চিৎই। লংকানদের রেটিং পয়েন্ট হবে ১০২। কিন্তু অল্প পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকে প্রোটিয়ারা পাঁচেই থাকবে, সিংহলিজরা ছয়ে।

এত গাণিতিক সমীকরণের পাল্লায় আসল যে মাঠের লড়াই সেটাই ভুলতে বসার উপক্রম। দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম কিন্তু এখানেই বেশি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

জিম্বাবুয়ের মাটিতে সদ্যই ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতে আসা শ্রীলংকা তার আগে স্বাগতিকদের ধবলধোলাই করেছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। আর গত আগস্টে নিজেদের মাটিতে অজিদের হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতি তো এখনো টাটকাই।

অজিদের কথা যখন এসেই গেলো, মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে আফ্রিকানরাই। অজিদের তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এসেছেন সদ্যই।

এক অর্থে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন সূচনা হতে যাচ্ছে এই সিরিজেই। এর আগে খন্ডকালীন ভাবে দলকে নেতৃত্ব দিলেও পূর্ণকালীন দায়িত্ব এই সিরিজ থেকেই বর্তাবে ফ্যাফ ডু প্লেসির কাঁধে। অজিদের হারিয়ে যার হোমওয়ার্কও সেরে রেখেছেন তিনি।

যার অনুপস্থিতিতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই ডি ভিলিয়ার্স এবারও ইনজুরির কারণে দলের বাইরে। একই সমস্যায় বাইরে দলের প্রধান বোলিং অস্ত্র ডেল স্টেইনও। এরই ফাঁকে দলে সুযোগ মিলেছে এবারের সাউথ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগের সেরা ব্যাটসম্যান থেনুসা ডি ব্রুইন। এই মৌসুমে যার নামের পাশে প্রায় ৬১ গড়ে ৪২৩ রান। এছাড়া গত অস্ট্রেলিয়া সফরের সবাই আছেন এই সিরিজেও। তাই, ডেল সস্টেইন, ডি ভিলিয়ার্সের অভাব দক্ষিণ আফ্রিকা ঠিক তেমনভাবে অনুভব করবে না, বলাই যায়।

সাউথ আফ্রিকার ঘরে চোটাঘাতের প্রকোপ থাকলেও সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা শ্রীলংকার ঘরে। চার মাস ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকার পর ফিরেছেন দলের অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। সেই সাথে দিনেশ চান্দিমাল আর তরুণ উদীয়মান পেসার দুশমন্থ চামীরাকে ফিরে পেয়ে সিরিজ জয়ের আশা করতেই পারে লংকানরা।

তবে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে অতীত ইতিহাস। দুই দলের ২২ দেখায় ১১ বারই জয়ী দলের নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলংকা জয়ের মুখ দেখেছে চারবার এবং বাকি ৬ ম্যাচ ড্র। এমন কি সর্বশেষ লড়াইয়ের ফলও সাউথ আফ্রিকার পক্ষে। আর খেলাটা যখন দক্ষিন আফ্রিকার মাঠে, শ্রীলংকা কোন ম্যাচ জিতে ফিরতে পারে নি সেখান থেকে।

শ্রীলংকা কি পারবে ইতিহাসের ধারা বদলাতে! নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ধরে রাখবে তাদের রেকর্ড? র‍্যাংকিংয়ের গাণিতিক হিসাব আর মাঠে এক জমজমাট লড়াই দেখার প্রত্যাশায় টিভি পর্দায় চোখ রাখতে পারেন আপনিও।

Leave a Reply