ক্যাপ্টেন; দ্য ড্রীমম্যান অন দ্য ফিল্ড – স্টিফেন রজার ওয়াহ (স্টিভ ওয়াহ)

একজন ক্যাপ্টেন কতদিন নিজের দলকে সাফল্য এনে দেন? উত্তর হল যতদিন তিনি দলের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু এই উত্তরটা স্টিভ ওয়াহ এর ক্ষেত্রে মোটেই ঠিক না। স্টিভ ওয়াহ দলটাকে এমন একটা জায়গায় এনে দিয়ে গেছেন যে কখনো দলটাকে দেখে মনেই হয়নি যে পালাবদল ঘটল। দেশটার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী অধিনায়কই দল ছেড়ে গেলেন! যেন একটা মেশিন চালু করে দিয়ে বিশ্রাম নিতে গেছেন অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। অস্ট্রেলিয়া দলটা এমনই হয়ে গড়ে উঠেছিল দ্য গ্রেট স্টিভের হাতে!

অস্ট্রেলিয়া দলটাতে স্টিভ ওয়াহ আসলে কি করেছিলেন? এক কথায় উত্তর দিতে গেলে বলতে হয় দলটাকে একটা জিনিসই শিখিয়েছিলেন-জয়, জয়, এবং জয়। জেতার জন্য যা করা দরকার সবই করতে হবে। সব মানে, ‘সব’ করতে হবে। মনে প্রাণে বসিয়ে দিয়েছিলেন যে অস্ট্রেলিয়া মাঠে নামবে এবং খেলায় জিতবে। এজন্যে আগ্রাসী মনোভাবের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। খেলায়, মনোভাবে, শরীরী ভাষায়, মুখে চোখে মোটকথা আগ্রাসন যেন ব্যক্তিত্বের অংশে পরিণত হয় মাঠে থাকার সময়টা! স্লেজিংকে এত নিখুঁত ভাবে ব্যবহার করাটাও ছিল এই আগ্রাসী প্রকাশেরই অংশ।

অজেয় অস্ট্রেলিয়া দলটা তখনও হারত। প্রায়ই হারত। কিন্তু জয় পরাজয় যাই হোক, ম্যাচ শেষ হলে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক হয়ত গোপনেই হাঁফ ছাড়তেন! বিপক্ষকে মাঠেই নরক দেখানোর জন্য কি কি করতে হয় সেটা দলকে স্টিভ ওয়াহের চেয়ে ভালো করে কেউ শিখিয়ে দিয়ে যেতে পেরেছেন কিনা আমার জানা নেই। ওই দলটার বৈশিষ্টই ছিল এটা; হারলেও এমন ভাবে হারত যে প্রতিপক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই জয় অর্জন করে নিতে হত। মুহুর্তের অসতর্কতায় জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে সবচেয়ে বেশী স্টিভ ওয়াহের দলটার কাছেই!

বিংশ শতকের শেষভাগে যখন প্রতিটা দলই তারকার ভীড়ে গ্যালাক্সিতে পরিণত হয়েছে, তাদের মধ্যেও নিজের দলটাকে একেবারে আলাদা করে চিনিয়েছিলেন এই দুর্দমনীয় মনোভাবের বদৌলতেই। রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা, ক্রোনিয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তান, শচিন আজহারদের ইন্ডিয়া, ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ফ্লেমিং এর নিউজিল্যান্ড, কারোই নিস্তার ছিল না স্টিভ ওয়াহের দলের কাছ থেকে। সবার সাথেই একই কৌশল, বিপক্ষকে যতভাবে পারা যায় দুর্বল করে দিতে হবে। প্রেশার অব্যাহত রাখতে হবে শুরু হওয়ার আগে থেকেই, একেবারে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত! তাই পরিসংখ্যানে পন্টিং থেকে পিছিয়ে থাকলেও অজেয় অস্ট্রেলিয়া বলতে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়াই বোঝা যায়। এমনকি রিকি পন্টিংকে স্টিভ ওয়াহর শিষ্য অধিনায়ক পর্যন্ত বলে এমন লোকও কম না!

স্রেফ এই একটা কারণেই অ্যালান বোর্ডান গ্রেগ চ্যাপেল মার্ক টেলর পন্টিংকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা ক্যাপ্টেন স্টিভ ওয়াহ। স্রেফ এই একটা জিনিসই যথেষ্ট ছিল আগামী সাত আট বছর ক্রিকেট বিশ্বের উপর ছড়ি ঘোরানোর জন্য! রিকি পন্টিং এর ক্যাপ্টেন্সির প্রতি কোন রকম অশ্রদ্ধা না করেও চোখ বুজে বলা যায়, অজেয় অস্ট্রেলিয়ার রূপকথার জাদুর কাঠির নাম ছিল স্টিভ ওয়াহ!
পরিসংখ্যানে স্টিভ ওয়াহকে মাপতে চাইলে আপনাকে হয়ত ১৯৯৮ থেকে নিয়ে ২০০৯ পর্যন্ত পুরো সময়টুকু মাপতে হবে, তাতে যদি কিছুটা আন্দায করা যায়!

লেখকঃ আব্দুল্লাহ মারুফ

ম্যানিয়াক্স ডেস্ক
ক্রিকেট ভালোবাসি, কেননা বাংলাদেশকে ভালোবাসি।

Leave a Reply