ক্রাইস্টচার্চের কড়চা।

বাংলাদেশ দল এখন চার্চে। চমকে গেলেন তো? চমকানোর কিছু নেই, আপনিও জানেন বাংলাদেশ এখন চার্চে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। এ শহরের মাঠেই রাত পোহালে নামবে আমাদের টাইগারেরা।

২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো অচেনা কন্ডিশনে। কেমন হবে দল, কে থাকবে দলে ইত্যাদি নিয়ে আলোচনার যেন শেষ নেই। যেই মাঠে খেলা হবে, সেই মাঠটাই বা কেমন?

২০১১ সালের ভয়াল ভূমিকম্পে পুরো ক্রাইস্টচার্চের মতো ধ্বসে পড়ে এর ক্রিকেট মাঠও। এরপর মাঠকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি করার মিশনে নামে নিউজিল্যান্ড সরকার। হ্যাগলি ওভাল নামে। ক্রিকেট খেলার কারণে আমাদের কাছে এই মাঠ জনপ্রিয়তা পেলেও আসলে হ্যাগলি ওভাল একটি স্পোর্টস সেন্টার। ক্রিকেট ভেন্যু সেই সেন্টারেরই এক অংশ।

নতুনভাবে তৈরি হবার পরে এই ভেন্যুতে এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে ৮ টি। সিমিং কন্ডিশনে রান বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকলেও তা যে সম্পূর্ণ সঠিক, এই মাঠের ক্ষেত্রে অন্তত তা বলা যাবে না। এই ভেন্যুতে ৩০০ এর বেশি রান হয়েছে ৪ ইনিংসে। যদিও সর্বশেষ ২ ওয়ানডেতে শ্রীলংকা অলআউট হয়েছে ২০০য়ের কমে। যার শেষটি গত বছরের বক্সিং ডেতেই। সেটাই হয়ে আছে এই ভেন্যুর শেষ ওয়ানডে।

যদি ক্রাইস্টচার্চের কিউরেটর তথা গ্রাউন্ডসমম্যানের উপর বিশ্বাস রাখা যায়, তবে বলা যাচ্ছে, সেই দুই ওয়ানডের পুনরাবৃত্তি অন্তত এবার হচ্ছে না। প্রধান কিউরেটরের ভাষ্যমতে, উইকেট হবে ট্রু স্পোর্টিং উইকেট। ব্যাটসম্যানের শটস খেলার প্রচুর চান্স যেমন থাকবে, ভালো বলে উইকেটের সম্ভাবনাও থাকবে। উইকেট ব্যাটসম্যানের রান করার জন্য সুযোগ বিছিয়ে বসে আছে। ব্যাটসম্যানের এখন তা কেবল লুফে নেওয়ার অপেক্ষা। বল মাঝ ব্যাটে করতে পারলে বল যে রকেটগতিতে ছুটবে, তা আর বলতে। ২.৫ ইঞ্চি ঘাস রাখা আছে মাঠে, দ্রুততম আউটফিল্ড বলতেযাযা বোঝায়, ঠিক তাই।

কোন একটি মাঠ সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভালো উপায়, সেই মাঠের আগের রেকর্ড। দেখা যাক, এই মাঠের আগের ৮ ওডিয়াইতে কি হয়েছিলো।

নিউজিল্যান্ডের মাঠ মানেই মিনি ক্রিকেটের ভেন্যু, এমন কথা চালু আছে। এই মাঠও তার ব্যতিক্রম নয়। চার ছক্কার ফুলঝুরি ছুটেছে এই মাঠে। ৮ ম্যাচেই ছয়ের হাফ সেঞ্চুরি, এর বিপরীতে চার ৩৫০ ছুঁইছুঁই।

এই চার ছয়ের মেলায় রানও উঠেছে প্রচুর। ৮ ম্যাচের প্রথম ইনিংসের গড় রান ২৫৯, ২য় ইনিংসের বেলায় তা অবশ্য ২০০ রানের কোটাও অতিক্রম করতে পারেনি। ফলাফলে যার ছাপ অবশ্য খুঁজে পাবেন না, চার ম্যাচে জয় আগে ব্যাট করা দলের, ২য় ইনিংসেও সংখ্যাটা একই আছে।

কাল যখন গাপটিল ব্যাট করতে নামবেন, পুরোনো রেকর্ড তার পক্ষেই কথা বলবে। মাঠের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি, ৪ ম্যাচে ২২১। সুখস্মৃতি হিসেবে ৩০ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের কথা তার মাথায় খেলেও যেতে পারে।

সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মিচেল ম্যাকলেনাহান, যিনি এখন দলের বাইরে। ম্যাট হেনরিই তাই কাল বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাইবেন বাংলাদেশের ইনিংসে, তালিকার ২য় স্থান আছে তার দখলেই। ছোট মাঠে বোলারদের রান রেট কম রাখার আশা করা বৃথা। পাঁচের সামান্য উপরে রানরেটকে তাই যথেষ্ট উজ্জ্বল বলতেই হচ্ছে।

এ মাঠেই কাল নামবে বাংলাদেশ। বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও আধুনিক পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর গ্রাউন্ডসম্যানদের প্রচেষ্টায় একটা জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশাই করা যাচ্ছে।

গ্রাউন্ডসম্যানের কথা যখন এসে পড়লো, হ্যাগলি ওভালের গ্রাউন্ডসম্যানদের সম্পর্কে এক মজার তথ্য দিই। পুরো হ্যাগলি ওভাল ক্রিকেট ভেন্যু ঘুরে আপনি চারজন গ্রাউন্ডসম্যান খুঁজে পাবেন। অবাক করা তথ্য হলেও এটাই সত্যি। মাঠ পরিচর্যা থেকে উইকেট তৈরি, গোটা হ্যাগলি ওভাল ক্রিকেট মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ করেন এই চারজনই। তাতেই হ্যাগলি ওভাল যেন সবুজ গালিচা। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের অর্ধশতাধিক গ্রাউন্ডসম্যান শুনছেন কি!

Leave a Reply