টি টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান অফ বাংলাদেশ

বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে যে ক্রিকেটের ফরম্যাট তা হলো টি-টোয়েন্টি। ২০ ওভারের এই ক্রিকেটে সবচেয়ে প্রয়োজন হলো ‘ধুম-ধারাক্কা’ মারা কোনো ব্যাটসম্যান। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান করার মতন ক্ষমতাবান কেউ। তামিম ইকবালকে বাদ দিলে এমন কাউকে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেখা যায়নি। অনেকে আশার বেলুন ফুলালেও শেষমেশ ফ্লপ খেতাব নিয়ে দল ছেড়েছে। কিন্তু এখন সেই ‘টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান’ কে আমরা পেয়ে গেছি। সে আর অন্য কেউ নয় আমাদের সবার প্রিয় সাব্বির রহমান।

বাংলাদেশের হয়ে ১৯ ওয়ানডে ইনিংসে ৪৮২ রান তার। তবে টিটোয়েন্টিতে আরো বেশি উজ্জল তিনি। ২৫ ইনিংসে তার রয়েছে ৬০৪ রান! এর মধ্যে বেশ কিছু ইনিংস রয়েছে যেগুলোর কারনে জয়ের প্রান্তে পৌছে ছিলো মাশরাফি বাহিনী।

১৯৯১ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজশাহী শহরে জন্ম সাব্বিরের। বাবা – মার সাথে পরিবারে বড় হয়েছেন তিনি কিশোর কালে রাজশাহী ভিত্তিক ক্লাব গুলোই খেলে হাতখড়ি তার। এরপর রাজশাহী ডিভিশনের হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে আগমন তার। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব -১৯ ও অনূর্ধ্ব – ২৩ দলের হয়ে খেলেন তিনি। ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে নজরে আসেন প্রথমবারের মতন। এর মাধ্যমে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে প্রথম গোল্ড মেডল এনে দেন এই হার্ডহিটার।

২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের হয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। ওই ম্যাচে ৩৬ বলে ২৬ করেন তিনি। ম্যাচটাও হারে বাংলাদেশ। কিন্তু গল্পের যে এইখানেই শেষ না। ডিসেম্বরে মাশরাফির অধীনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে টাইগার বাহিনী। প্রথমে ব্যাটিং করে ২৮১ রানের টার্গেট দেওয়ায় সাব্বিরের ২৫ বলে ৪৪ রানের মূল্য অনেক ছিলো। তার পারফর্মেন্সে খুশি হয়ে কোচ হাতুররুসিংহে তাকে বিশ্বকাপের জন্য গ্রিন কার্ড দেয়। ফল দিতেও দেরি করে না এই ক্লিন হিটার! স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৮ চেজ করতে নামা বাংলাদেশের জয়ে সাকিবের সাথে তার পার্টানারশিপের ‘ইম্প্যাক্ট’ ছিলো অনেক। ৪০ বলে ৪২ করে দলকে জয়ের দ্বারে পৌছানোর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর শ্রীলংকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যথাক্রমে ৫৩ ও ৪০ করেন তিনি। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়েও ৩২ বলে ৫১ করেন তিনি। আবারো জুটিতে তার সঙ্গি ছিলেন সাকিব আল হাসান। দুর্দান্ত ইনিংসটির জন্য বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন সবার কাছে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়েও জ্বলে উঠেন এই হার্ড হিটার। দুটি ম্যাচে ৪১ ও ৪৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এরপর বিশ্ব মিডিয়াতেও তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। তবে সেগুলোকে চাপ না বানিয়ে অনুপ্রেরনায় বদলে নেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন তিনি ২০১৬ এশিয়া কাপ টি টোয়েন্টিকে কেন্দ্র করে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩২ বলে ৪৪ করেন তিনি। এরপর ৫২ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। বাংলাদেশের ফাইনাল খেলায় তার অবদান অতুলনীয়। ১৭৬ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হন তিনি। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তামিমের সেঞ্চুরির দিনও ২৬ বলে ৪৪ করেন তিনি।
সবে তো মাত্র শুরু। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না হলে আরো এক দশকের উপর বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সার্ভিস দিবেন তিনি। কে জানে পরিশ্রম করলে ও ভাগ্য পাশে থাকলে হয়েও যেতে পারেন টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বা তাদের মধ্যে একজন।

লেখকঃ ফারদিন হাসান

ম্যানিয়াক্স ডেস্ক
ক্রিকেট ভালোবাসি, কেননা বাংলাদেশকে ভালোবাসি।

Leave a Reply