টেস্টের সোনার হরিণ

টেস্ট ক্রিকেট হলো ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো সংস্করণ । আইসিসির প্রতিটি সহযোগী দেশ টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখে । যেমনটা দেখেছিলো বাংলাদেশ ও। ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে পাকিস্তান কে হারায় বাংলাদেশ ।  আর তার পুরস্কার সরুপ ২০০০ সালের ২৬ জানুয়ারি আইসিসির পূর্ণ সদস্য পদ লাভ করে বাংলাদেশ।আর তারই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের সাথে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ । কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে জয়টা সোনার হরিণ হয়েই থাকলো। ২০০০-২০০৫। বাংলাদেশ টানা ২১টা ম্যাচ হারের রেকর্ড গরলো । কিন্তু আরতো অপেক্ষা সয়না। এবার আসে সেই সোনার হরিণ বাংলাদেশ এর হাতে। হিথ স্ট্রিক, এন্ডি ফ্লাওয়ার দের পরবর্তী প্রজন্মের জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টেস্টে সেই সোনালী জয় পায় বাংলাদেশ।

 

২০০৫ সালের ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম এর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েরর মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টসে জিতে অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা ভালোই হয়েছিলো। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৯১ রান। জাভেদ ওমর বেলিম ব্যাক্তিগত ৩৩ রানে আউট হন। আার ২ রান যোগ করে দলিয় ৯৩ রানে ব্যাক্তি গত ৫৬ রানে আউট হন আরেক ওপেনার নাফিস ইকবাল। ৩য় উইকেট জুটিতে আশরাফুল কে সাথে নিয়ে আরও ৬০ রান যোগ করেন অধিনায়ক বাশার। কিন্তু দলিয় ১৫৩ রানে ব্যাক্তিগত ১৯ রানে কাটা পরেন আশরাফুল। চতুর্থ উইকেটে বাশার ও রাজিন সালেহ্ মিলে যোগ করেন আরও ১১৯ রান। কিন্তু দলিয় ২৭২ রানে ব্যাক্তি গত ৯৬ রান করে এমপুফুর বলে মাসাকাজ্জার কাছে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাশার। ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস এর আক্ষেপ তিনি করতেই পারেন।
আর ১১ রান যোগ করে ব্যাক্তিগত ৬রান করে আফতাব আহমেদও আউট হয়ে যান। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রাখেন রাজিন সালেহ। ৭ম উইকেট জুটিতে রাজিন সালেহ ও খালেদ মাসুদ পাইলট যোগ করেন ৫৮ রান। দলিয় ৩৪১ রানে ব্যাক্তিগত ৮৯ রান করে আউট হন রাজিন সালেহ । তখনো নাটক কিন্তু বাকি ছিলো। আর তাই মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাসুদ পাইলট মিলে যোগ করেন ৬৯ রান দলিয় ৪১০ রানে ব্যাক্তিগত ৪৯ রানে আউট হন পাইলট। তারপর মাশরাফি ও রফিক মিলে যোগ করেন আরও ৬২ রান। দলিয় ৪৭২ রানে ব্যাক্তিগত ৬৯ করে আউট হোন রান করে আউট হন রফিক। আার লাস্ট ২ উইকেট থেকে আসে ১৬ রান। আউট হবার আগে মাশরাফি করেন ৪৪ রান। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস এ টার্গেট দেয় ৪৮৮ রানের।
জিম্বাবুয়েকে প্রথম ইনিংসে লীড নিতে দেয়নি মাশরাফি রফিক দের খুনে বোলিং। শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশ দলিয় ৩১ রানে সাজঘরে ফিরান তাদের  ওপেনারকে। ৪৪ রানে ১২ রান করাভুসি সিবান্দাকে রান আউট করেন মোহাম্মদ রফিক। তার পর পুরোটা সময় জুড়ে চলে মাশরাফি রফিকদের রাজত্ব। ব্রেন্ডন টেইলর তাতেন্দা টাইবু ও এলটন চিগাম্বুরা ছাড়া আর কেউই দারাতে পারেনি। বাংলাদেশ এর হয়ে মাশরাফি ও রফিক নেয় যথাক্রমে ৩টি ও ৫টি  উইকেট। জিম্বাবুয়ে ৩১২ রানে অল আউট ।
২য় ইনিংস এ বাংলাদেশ করে ২০৪। মিস্টার ফিটি ক্ষ্যাত হাবিবুল বাশার ৫৫ ছাড়া আর কেউই দাঁড়াতেই পারেনি । বাংলাদেশ লীড নেয় ৩৮০ রানের। জিততে গেলে জিম্বাবুয়ে কে রেকর্ড করতেই হতো। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে কোনো উইকেট না পাওয়া এনামুল হক জুনিয়র হয় সেদিন তাদের তুরুপের তাস। তুলে নেন ৬ উইকেট । হ্যামিল্টন মাসাকাজ্জা ও ব্রেন্ডন টেইলর করেন যথাক্রমে ৫৬ ও ৪৪ রান। তা ছাড়া আর কেউ লড়াই করতে পারেনি। জিম্বাবুয়ে অল আউট হয় ১৫৪ রানে। বাংলাদেশ জিতে জায় ২২৬ রানে। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ এনামুল হক জুনিয়র।

বাংলাদেশ প্রথম জয় পেয়েছিলো তাদের ৩৫ তম ম্যাচে। যা টেস্ট ক্রিকেটের ১৭৩৩ তম ম্যাচ। ২০০০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ৯৫ টি জিতেছে ৮ টি । এবং ৮ নাম্বার জয় পায় তাদের ৯৫ তম ম্যাচে আার টেস্ট ক্রিকেটের২২২৭ তম ম্যাচ।
ভবিষ্যৎ এ বাংলাদেশ আরও বেশি বেশি টেস্ট খেলবে ও জয় লাভ করবে সেই কামনাই করি।

Leave a Reply