টেস্ট ক্রিকেটে তামিম ইকবালের সাথে ইমরুল কায়েসের সেরা জুটি।

এই পর্যন্ত ৯৫ টেস্ট খেলা বাংলাদেশ দলের হাহাকার ছিল ওপেনিং নিয়ে। তামিম ইকবাল আসার পর ভালো একজন ওপেনার খুঁজে পায় টাইগাররা। আশা ও ভরসা দুটিই দিচ্ছিল এই তরুণ। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছিল না তার সঙ্গে থিতু হওয়ার মতো জুটি। ইমরুল ছাড়াও তামিম ইকবালের সঙ্গে টেস্টে আরও চার ব্যাটসম্যান জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন ওপেনিংয়ে। কিন্তু কেউ তামিমের যোগ্য সঙ্গী হতে পারেনি।

তামিমের সঙ্গে সেরা জুটিতে জুনায়েদ সিদ্দিকীর সংগ্রহ ১২ ইনিংসে ২৯৭ রান। একই সমান ইনিংসে শামসুর রহমান শুভর সঙ্গে ২৩৮, জহুরুল ইসলাম অমির সঙ্গে ১৫৮, এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে ১০২ ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন তিনি।
অন্যদিকে ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ২৪ ম্যাচের ৪২ ইনিংসে তামিম-ইমরুল জুটির সংগ্রহ ৪৯.০৯ গড়ে ২০১৩ রান। এর মধ্যে আছে ৪টি সেঞ্চুরি ও সাতটি ফিফটি।

২ মে, ২০১৫ তারিখে সফরকারী
পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টের ২য় ইনিংসে ইমরুল কায়েসকে (১৫০) সাথে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৩১২ রান তোলেন তামিম।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।

এর ফলে উভয়ে টেস্টের ২য় ইনিংসে ১৯৬০ সালে কলিন কাউড্রে ও জিওফ পুলারের গড়া ২৯০ রানের রেকর্ড ভঙ্গের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়েন।তামিম ২০৬ রান করেন যা তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট শতরান। এ রান সংগ্রহের ফলে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের গড়া সর্বোচ্চ ২০০ রানের রেকর্ড ভঙ্গ করে নিজের করে নেন।

 

এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে ২২৪ ও ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসের মাঠে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের ৪.৮২ রান রেটে করা ১৮৫ রানের পার্টনারশিপটি। লর্ডস টেস্টের আগে জেফ্রি বয়কটের ‘টেস্ট খেলার যোগ্য নয়’ মন্তব্যের পর তামিম-ইমরুলের ব্যাটে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে স্ট্রাউস-ট্রটের ব্যাট ভর করে প্রথম ইনিংসে ৫০৫ রানের বোঝা মাথায় নিয়ে সোয়ান-অ্যান্ডারসনদের বেধড়ক পিটিয়ে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। আরেকপ্রান্ত থেকে পার্টনারশিপে খেলে ৭৩ রান করেন ইমরুল।

গত দুই বছরে তামিম-ইমরুল জুটিতে টেস্টের ১০ ইনিংসে এসেছে ৮৭.১১ গড়ে ৭৮৪ রান। এই সময় তামিমের সঙ্গে শামসুর রহমান শুভ চার ইনিংসে মাত্র ৪৪ রানেরই জুটি বাঁধতে পেরেছিলেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দু’ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ২৩১ রান করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। দ্বিতীয়স্থানটিও দখলে রয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে আছেন তামিমের ওপেনিং পার্টনার ইমরুল কায়েস করেন ১৪৩ রান।

ব্যাক্তিগত টেস্ট ক্যারিয়ারঃ
তামিম ইকবাল
ম্যাচ: ৪৪
ইনিংস: ৮৪
মোট রান : ৩৩৪৯
গড়: ৪০.৩৫
সর্বোচ্চ: ২০৬
শতক: ৮ টি
অর্ধশতক : ১৯টি

ইমরুল কায়েসঃ
ম্যাচ: ২৬
ইনিংস: ৫০
মোট রান :১৩৯৫
গড়:২৮.৪৭
সর্বোচ্চ :১৫০
শতক :৩ টি
অর্ধশতক :৪ টি



টেস্ট ক্রিকেট বাংলাদেশের সেরা পাঁচ ওপেনিং জুটি

ক্রিকেটার (জুটি)                                            সময়                            ইনিংস                    রান                গড়                   সর্বোচ্চ
ইমরুল কায়েস-তামিম ইকবাল               ২০০৮-২০১৫                           ৪২                    ২০১৩            ৪৯.০৯                    ৩১২
জাভেদ ওমর-নাফিস ইকবাল                  ২০০৪-২০০৬                           ১৯                     ৬৬৫           ৩৫.০০                    ১৩৩
জাভেদ ওমর-শাহরিয়ার নাফীস              ২০০৫-২০০৭                            ১৭                       ৪০৭            ২৩.৯৪                     ৮৬
জুনায়েদ সিদ্দিকী-তামিম ইকবাল             ২০০৮-২০১২                           ১২                       ২৯৭            ২৪.৭৫                    ১৬১
আল শাহরিয়ার-হান্নান সরকার                 ২০০২-২০০২                           ৮                        ২৫৩          ৩১.৬২                     ৫২

খুলনা টেস্টের পর তামিম-ইমরুল সর্বকালের সেরা ওপেনিং জুটির তালিকায় এখন ১২ নম্বরে।

টেস্ট ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ
পার্টনার/ দেশ রান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সালঃ
ম্যাকেঞ্জি-স্মিথ (দ.আফ্রিকা) ৪১৫ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ২০০৮
মানকড়-রয়(ভারত) ৪১৩ নিউজিল্যান্ড চেন্নাই ১৯৫৬
শেবাগ-দ্রাবিড় (ভারত)৪১০ পাকিস্তান লাহোর ২০০৬
টার্নার-জারভিস (নিউজিল্যান্ড) ৩৮৭ উইন্ডিজ জর্জটাউন ১৯৭২
লরি-সিম্পসন (অস্ট্রেলিয়া) ৩৮২ উইন্ডিজ ব্রিজটাউন ১৯৬৫
স্মিথ-গিবস (দ. আফ্রিকা) ৩৬৮ পাকিস্তান কেপটাউন ২০০৩
হুটন-ওয়াশব্রুক (ইংল্যান্ড)৩৫৯ দ.আফ্রিকা জো.বার্গ ১৯৪৮
স্মিথ-গিবস (দ. আফ্রিকা)৩৩৮ ইংল্যান্ড বার্মিংহাম ২০০৩
আতাপাত্তু-জয়সুরিয়া (শ্রীলংকা)৩৩৫ পাকিস্তান ক্যান্ডি ২০০০
মার্শ-টেলর (অস্ট্রেলিয়া)৩২৯ ইংল্যান্ড নটিংহ্যাম ১৯৮৯
হবস-রোডস (দ. আফ্রিকা)৩২৩ অস্ট্রেলিয়া মেলবোর্ন ১৯১২
তামিম-ইমরুল (বাংলাদেশ) ৩১২ পাকিস্তান খুলনা২০১৫।

 

Leave a Reply