ম্যাশ বাহিনী কি পারবে কিউইদের মাঠে জয়ের পতাকা উড়াতে?

২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর এই প্রথম দেশের বাইরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য হলেও দেশের বাইরে টাইগারদের সামর্থ্য নিয়ে নিন্দুকদের সমালোচনার অন্ত নেই। তিনটি ওয়ানডে, তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল এখন নিউজিল্যান্ডে। ক্রাইস্টচার্চে ওয়ানডে দিয়ে সিরিজ শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে হবে ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর। নিউজিল্যান্ডে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য। ২০১৫ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেললেও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড গেল প্রায় সাত বছর পর।
চলতি ট্যুর নিয়ে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে এ পর্যন্ত মোট ৪ বার ট্যুর করে। এবারের বাংলাদেশ আগের ৪ বারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারন হতে পারে নিউজিল্যান্ডের উইকেট। নিউজিল্যান্ডের পিচে খেলে অভ্যস্ত নয় এমন ব্যাটসম্যানদের জন্য সিমিং মুভমেন্ট বোঝাটা বেশ কঠিন। সবুজ ঘাসের উইকেটে স্পিনারদের জন্য তেমন কিছুই থাকে না। এটাও বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারন হতে পারে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের মাঠগুলো মিরপুরের তুলনায় অনেক ছোট। মাঠ ছোট হওয়ায় অনেক সময় উপমহাদেশের ব্যাটসম্যানদের শট সিলেকশন করতে সমস্যা হয়। আর ছোট মাঠে স্পিনারদের জন্য বোলিং করাটা খুব কঠিন হয়ে দাড়ায়। বছরটা ভাল কাটেনি নিউজিল্যান্ডের। টেস্ট, ওয়ানডেতে জয়ের চেয়ে হারের পাল্লা ভারী। ১৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ৭টি জয়। হার ৮টি।
এ বছর নিউজিল্যান্ড দলের পারফরম্যান্সের উপরে আছে বাংলাদেশের গ্রাফ। ৬টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩ জয়ের পাশে ৩ হার। তার উপর গত ২ বছর বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের পারফর্মেন্সটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে নিউজিল্যান্ডকে। ওয়ানডে সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে না নিউজিল্যান্ড। চোখে সার্জারির পর খেলার জন্য ফিট হয়ে ওঠেননি রস টেলর। তাঁর জায়গায় ছয়বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে নেইল ব্রুমকে। অফ ফর্মের কারণে ওয়াটলিং-ও নেই ওয়ানডে দলে, নির্বাচক কমিটি লুক রনচিকে নিয়েছে অনেকটা অপারগ হয়েই । অন্যদিকে বাংলাদেশ মাঠে নামবে পূর্ন শক্তির দল নিয়েই। টাইগার সমর্থকেরা তাকিয়ে থাকবে তামিম ইকবাল খানের দিকে। দেশসেরা ব্যাটসম্যান। জিবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন। বিপিএলেও রানের ফুলঝুরি ফুটিয়েছেন। প্রতিপক্ষ কিউইরা বলে সাকিব আল হাসানের প্রতি আশাটা একটু বেশিই।
প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডকে পেলে যে একটু বেশিই চাঙ্গা হয়ে পড়েন ওয়ানডে র্যাংঙ্কিয়ে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান এই অল রাউন্ডার। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০তে হোয়াইট ওয়াশে বাংলাদেশের ইতিহাসময় সিরিজে ম্যান অব দ্য সিরিজ হওয়া এই অল রাউন্ডারকে তাই একটু বেশিই সমীহ করতে হচ্ছে নিউজিল্যান্ড দলকে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে গাপটিল, উইলিয়ামসনরা নিশ্চয় আলাদা করে টিম ওয়ার্ক করেছেন। ইডেন গার্ডেনসে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে কার্টার জাদুতে মুস্তাফিজুরের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৫ শিকারের ৪ জনই বোল্ড। কেন উইলিয়ামসন, নিকোলাস, স্যান্টনার, ন্যাথান ম্যাককালামকে বোল্ড আউট করে ফিরিয়ে দেওয়া সেই ডেলিভারিগুলির কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে ওঠার কথা গাপটিলদের।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের প্রতি টাইগার ভক্তদের আশার পারদটা উচুই থাকবে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মাঝে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডেরই বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট এ দুই ফর্মেটেই সেঞ্চুরী আছে কেবল সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলের সেরা খেলোয়াড় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। মিরাজের উপরও বাড়তি নজর রাখতে হবে। ১৯ বছরের অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ এখন আলো ছড়ানোর অপেক্ষায়। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে মুখিয়ে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অসাধারণ খেলে সিরিজ সেরা হওয়া মিরাজ জায়গা করে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে। এছাড়া তাসকিন, রুবেলের গতির ঝড় সামলাতেও বেগ পেতে হতে পারে কিউই ব্যাটসম্যানদের। তাছাড়া ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিকের ক্যাপ্টেন্সি তো থাকছেই।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স অনেকটাই ছন্নছাড়া। একের পর এক পরাজয়ে দলে অনেক পরিবর্তন এনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মাইক হেসনের তুরুপের তাস হতে পারেন গাপটিল। ২০১৫ সাল স্বপ্নের মত কাটলেও এই বছর ইনিংসগুলোকে বড় করতে পারছেন না। তবে দেশের মাটিতে গাপটিলকে সমীহ করতেই হবে।
কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট হাসলে কপাল পুড়তে পারে বাংলাদেশি স্পিনারদের। স্পিনটা যে একটু বেশিই ভালো খেলেন কিউই কাপ্তান। সাউদি, ফারগুসনের বাড়তি পেস ও বাউন্স সামলাতে তামিম, মুশফিকদের দেখে শুনেই খেলতে হবে। টাইগাররা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে বলা যায় গাপটিল, সাউদিদের জন্য কঠিন সময়ই অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ–অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশিস রায় ও তানভীর হায়দার।

নিউজিল্যান্ড দল: কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ব্রুম, লকি ফার্গুসন, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মার্টিন গাপটিল, ম্যাট হেনরি, টম ল্যাথাম, কলিন মানরো, জেমস নিশাম, লুক রনকি, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি।

Leave a Reply