শততম টেস্টের প্রথম দিন!

দুইটি বিশেষ কারণে ১৫ই মার্চ হতে শুরু হওয়া শ্রীলংকা বনাম বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। প্রথমত টেস্ট ক্রিকেটের জন্ম দিন আর দ্বিতীয়ত টেস্ট ক্রিকেটের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য বাংলাদেশের শততম টেস্টের মাইলফলক স্পর্শ করা। টেস্ট ক্রিকেটের জন্মদিনে নিজেদের শত তম টেস্ট খেলতে কলম্বোর পিসারা ওভালে নামে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের মাইলফলক স্পর্শ করা টেস্ট ম্যাচ এর সম্মানে শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ড রেখেছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলকে নীল গালিচার অভিভাদন জানায় শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড।

 

শততম টেস্ট ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থকদের আগ্রহের কোন কমতি ছিল না। যদিও এই টেস্টের আগে দল নির্বাচন নিয়ে বোর্ড কর্মকর্তা, কোচ, নির্বাচকরা মিলে যেভাবে নোংরামিতে মেতেছিল তাতে করে বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও বাংলাদেশ দলের উপর থেকে আস্থা বিন্দুমাত্র কমেনি। এই টেস্টের জন্য এসেছে বেশ কিছু পরিবর্তন। শততম টেস্টের প্লেয়িং একাদশ সমর্থকদের জন্য এক রকম চমকই বলা যায়! যদিও সব কিছু ছাপিয়ে প্রথম দিনের পারফর্মেন্সই ছিল আলোচনায়।

 

দিনের শুরুতেই টস ভাগ্য আমাদের বিপক্ষে। প্রথম টেস্টের মত এবারো টসে জয়ী লংকান দলপতি রাঙ্গানা হেরাথ। শত তম টেস্টে টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশ। টসে হারলেও শুরুটা ছিলো স্বপ্নের মত। মুস্তাফিজ শুভাসিস এর বোলিং সামলাতে যেন হিমশিমই খাচ্ছিলো লংকান ব্যাটসম্যানরা। তার সুফল পেতেও অবশ্য দেরি হয়নি। নবম ওভারেই মুস্তাফিজের বলে মেহেদী হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাঁজ ঘরে ফিরেন করুনারত্নে। তারপরের আঘাত হানে মেহেদি হাসান নিজেই। তার ফ্লাইটেড বল ডাউন দ্যা ট্রাকে এসে খেলতে যেয়ে স্ট্যামড হন প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৯৫ করা মেনডিস। মেহেদি ১৬ তম ওভারে থারাঙ্গা ও শুভাষিস ২৮ তম ওভারে গুনারাত্নেকে আউট করলে প্রথম সেশনটা যেনো বাংলাদেশেরই ছিলো।

প্রথম সেশন যদি বাংলাদেশের হয় তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় দ্বিতীয় সেশন ছিল শ্রীলংকার!  ২য় সেশনে মাত্র ১টি উইকেটেরর পতন ঘটে। ৪৮ তম ওভারে তাইজুল ফেরত পাঠান ধনঞ্জয় ডি সিলভা কে। অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন ডিনেস চান্দিমাল।চান্দিমাল প্রথমে সিলভাকে নিয়ে ৭৬ রান ও পরে ডিক ওয়ালকে নিয়ে গড়েন ৪৪ রানের পার্টনারশিপ ।

৩য় সেশনে ২টি উইকেটের পতন ঘটে শ্রীলংকার ৬০ তম ওভারে সাকিব ডিক ওয়াল ও ৬৫ তম ওভারে মুস্তাফিজ দিলরুয়ান পেরেরা কে আউট করেন। তার পর লংকান সেনাপতি হেরাথ ও দুঃসময়ে জ্বেলে উঠা চান্দিমাল ভালো ভাবেই পার করে দেন। হেরাথ ৬৩ বলে ১৮ ও চান্দিমাল ২১০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত আছে। এবং শ্রীলংকা ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান করেছে। পরিশেষে বলা যায় দিনটা আজ বাংলাদেশেরই ছিলো। বোলাররা যদি তাদের এই ধরাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে তবে তাদের প্রথম সেশনে অল আউট করা সম্ভব।
দিনের শুরুতে লংকান্দের দ্রুত অল আউট করাটাই এখন মুখ্য বিষয়! যদি ব্যাটসম্যানরা কাল তাদের কাজটা ঠিক করে করতে পারে তবে হয়ত টেস্টটা আমাদেরও হতে পারে।

Leave a Reply