শুভেচ্ছা বার্তা – ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি বিজয়ী দল।

নিজের ঘরটাকে সুন্দর পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখতে কে না ভালবাসে! সবাই চায় তার ঘরটা যেন অন্য সবার চেয়ে আলাদা হয়। ছোট্ট একটি শো পিছ, পেইন্টিং, একুরিয়াম কিংবা বনসাই। পর্দা, মেঝেতে কার্পেট আরও কত কি! কিন্তু মাথার উপর যদি ছাদই না থাকে তাহলে কি আর এগুলো করা সম্ভব হত? নিশ্চয়ই না। ঘরটাকে সুন্দর করে সাঁজাতে হলে প্রথমেই চাই একটি ঘর। আমাদের ক্রিকেটে আজকের মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মুস্তাফিজরা যদি একেকটি রত্ন হয় তাহলে সেই রত্নদের ধারণ করে আছে আমাদের সাবেক খেলোয়াড়দের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সেই ঘরটা। যে ঘরটার শক্ত গাঁথুনি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে। যে টুর্নামেন্ট এর শিরোপা আমাদের দিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটে অবাধ বিচরণের সুযোগ। যে বিজয় আমাদেরকে আইসিসি সহযোগী সংগঠন এর গণ্ডি পার করে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপের মহা আসরে। তাঁদেরকে সম্মান, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যই আমাদের এই আয়োজন। এই ডক ফাইলে তাঁদেরকে সম্মান জানিয়ে আসা বার্তাগুলো আমরা সংরক্ষণ করে রাখব। এই থ্রেড নির্দিষ্ট কোন সময়ের জন্য নয়, সবসময় আপনাদের মন্তব্যের জন্য খোলা থাকবে। অনন্তকাল ভালোবাসায় সিক্ত হোক সেই সকল স্বপ্ন সারথিরা।
Abdullah Maruf’র শুভেচ্ছা বার্তাঃ মালয়েশিয়ার কিলাত ক্লাব মাঠের সেই ধারাভাষ্য শুনে মুখস্ত হয়ে গেছিল। মনে হচ্ছিল খেলা দেখছি সশরীরে! জয়ের পরে কি কি হয়েছিল পুরান ঢাকায় সেটাকে পাগলামি বললেও কম বলা হবে!

Wasim Akram’র শুভেচ্ছা বার্তাঃতখন আমার জন্মই হয়নি ম্যাচ দেখা তো দূরের কথা 🙂 সেই টুনার্মেন্টের নায়কদের স্যালুট জানাই ৷ তারাই আসল হিরো ৷

Mahmud Rahmam’র শুভেচ্ছা বার্তাঃএসিসি ট্রফির ফাইনাল খেলাটা রেডিওতে শুনেছি। শেষ অভারে পাইলটের ছক্কা আর শান্তর ১ বলে ১ রান নেয়ার পর আমি – আমরা – গোটা দেশই যেন আনন্দে ফেটে পড়েছিল। এ সৃতি ভোলার নয়। আপনাদের জন্যই ক্রিকেট আজ এ অবস্থানে। হয়ত এই দেশ অনেক রথী- মহারথীর জন্ম দেবে, দেশের বুকে নানা সাফল্যের পালক জমা হবে , কিন্তু ম্যাচ জেতার জন্য, দেশকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য – ভেজা মাঠে কোঁচ সহ সব খেলোয়াড়ের মাঠে নেমে পিচ শুকানোর অকান্ত প্রচেষ্টা দৃশ্য আর রচিত হবে কিনা জানি না। আপ্নারাই আমাদের প্রথম হিরো। আছেন ,থাকবেন ।

স্বপ্নবাজ অভি’র শুভেচ্ছা বার্তাঃ বহুদিনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বদলে দেয়ার মহানয়ায়কদের শুভেচ্ছা, জাতীয় পর্যায়ে আমাদের গর্ব করার মতো উপলক্ষ্য খুব একটা আসে না, যে কয়টা আসে তাঁর সিংহভাগই ক্রিকেট এনে দেয়। এই স্বপ্নযাত্রার শুরুর দিকের কান্ডারী আপনারা। মালয়েশিয়ার ৯৭ এর ফাইনালে আমরা ছিলাম না, এই প্রজন্ম ছিলো না । সেদিন আপনারা যে পতাকাটা তুলে দিয়েছিলেন সেটা দুই রান কিংবা এক রানের হারের বিষাদে থেমে থাকবে না, রক্তে ক্রিকেট নিয়ে জন্মানো নতুন প্রজন্ম আরো বহুদূর নিয়ে যাবে। বিশ্বাস রাখেন … বাংলাদেশ ক্রিকেট <3 আপনাদের ধন্যবাদ। মোস্তফা মোহসীন'র শুভেচ্ছা বার্তাঃআমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন একটা কবিতা পড়তাম " আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"। আপনারা জানেন কি আপনারাই আমাদের দেশের সেই ছেলে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মা আজ তাদের ছেলেকে আপনাদের মতো ক্রিকেটার বানাতে চায়। আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসকে যদি একটা আকাশের সাথে তুলনা করা হয়, তবে সেই আকাশের একেকটা 'তারা' হলেন আপনারা। আপনাদের বিরত্বগাথা শুনেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছি একদিন আমরা বিশ্ব জয় করবো। আপনাদের প্রতি থাকল বুক ভরা ভালোবাসা। #চলো_বাংলাদেশ Mithu EM'র শুভেচ্ছা বার্তাঃওই ম্যাচটা আজো রিপিট দেখলে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ পাই, সেই বীরদের বীরত্ব কখনই ভোলার নয়.. অভিনন্দন টীম97💙💜💚💛 প্রবাসী পাঠক'র শুভেচ্ছা বার্তাঃবাংলাদেশ এর যে কোন ম্যাচে বর্তমান গ্যালারীর দৃশ্যটা মোটামুটি পরিচিত। গ্যালারীর চারদিকেই ভক্তদের উল্লাস। যার উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ভক্ত। জীবনের ৬০ টি বসন্ত পার করা বৃদ্ধ জাতীয় পতাকা হাতে খেলার মাঠে আমাদের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। বিজয়ের আনন্দে এক সাথে উল্লাস, পরাজয়ে কান্না এ যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতি পরিচিত রূপ। বাংলাদেশ ক্রিকেট শুধুমাত্র আমাদের ভালোবাসাই নয় পেয়েছে পুরো বিশ্বেই এক অনন্য মর্যাদা। আমাদের ক্রিকেটের আজকের এই অবস্থান কিন্তু একদিনেই তৈরি হয় নি। এর পিছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ। শুরুর সময়গুলোতে আমরাও ছিলাম না তাঁদের পাশে। কিন্তু তাঁরা থেমে থাকে নি। তাঁরা এগিয়ে গিয়েছে, এগিয়ে দিয়েছে আমাদের। আজকে আমাদের ক্রিকেটের যে অবস্থানে এসেছে তার পিছনে তাঁদের অবদান অপরিসীম। ৯৭ এর এই দলটি একটি ধাক্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন কয়েক দশক। আজ ক্রিকেটের বিশ্ব মঞ্চে আমরা দাপটের সাথে বিচরন করতে পারি শুধু আপনাদের জন্যই। আপনাদের জন্যই আমরা পেয়েছিলাম বিশ্ব মঞ্চে পারফর্ম করার টিকিট। ধন্যবাদ আপনাদের, আমাদের স্বপ্ন দেখানোর জন্য। ধন্যবাদ আপনাদের, সেই স্বপ্নকে স্বার্থক করে দেয়ার জন্য। বিশ্ব মঞ্চে আমাদের পতাকাটা আপনারা তুলে ধরেছিলেন। আমরা শক্ত হাতে সেই পতাকা আজও উঁচু করে ধরে আছি। যে পতাকা আপনারা উত্তোলন করেছিলেন তার মর্যাদা আমরা রাখবোই। চলো বাংলাদেশ। Shahed Abdullah'শুভেচ্ছা বার্তাঃ কিছুই বলবো না শুধু বলবো আপনারা আমাদের প্রথম বাঘ আপনারাই আমাদের প্রথম অহংকার। এদেশে সাকিব তামিম মুশফিক মাশরাফি মুস্তাফিজ এর মতো আরও অনেকই জন্ম নিবে কিন্তু আপনাদের মতো না আপনাদের ঋন এ জাতি কখন পরিশোধ করতে পারবে। আপনারাই এ ক্রিকেট খেলা শিখিয়েছেন। আপনাদের কারনে এ জাতি এখন ক্রিকেট একটি ম্যাচ হারলে কাঁদতে জানে একটি ম্যাচ জিতলে আনন্দে পাটিয়ে তুলতে জানে।#সেলুট_টিম_টাইগার্স_১৯৯৭ আমিনুর রহমান জেসন'র শুভেচ্ছা বার্তাঃবর্তমানের যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সারা দুনিয়া মাতিয়ে বেড়াচ্ছে আর পৃথিবীর কোনায় কোনায় পৌছে দিচ্ছে বীর বাঙালির বার্তা যা হয়ত সম্ভব হতো না কিংবা সময়টা আরো দীর্ঘায়িত হতো যদি না সেদিন আপনারা আইসিসি ট্রফি জয় না করতেন। আপনাদের সে শুরুটার জন্য আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট। আজকে বাংলাদেশ ও ক্রিকেট একটা অবিচ্ছেদ অংশ সেটাই কেবল আপনাদের জন্য। আপনাদের জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীরতম ভালোবাসা। কৃতজ্ঞতা রইল আইসিসি বিজয়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি সদস্যের জন্য। মশিকুর রহমান মামুন'র শুভেচ্ছা বার্তাঃ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক নব অধ্যায়ের সংযোজন করে। সেই এক বলে এক রান এবং পাইলটের ছক্কা যেন ছিল রূপকথার কাহিনী। ১৯৯৭ সালে খেলাটা সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে এখন ইউটিউবে খেলাটা দেখলে ঠিক তখনকার মতনই উত্তেজনা অনুভব করি। বিশেষ করে শেষদিকে বাংলাদেশ দল যে মানসিক শক্তির পরিক্ষা দিয়েছে নতুন দল হিসেবে তা বিরল। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বের ভালোবাসা পায়নি। অনেকে আড় চোখে তাকিয়েছে, অনেকে কটাক্ষ করেছে। প্রথমদিকে এসবকেও মোকাবেলা করেছে ১৯৯৭ সালের দলটা। আত্নবিশ্বাস, টিম স্পিরিট এবং আবেগ দিয়ে গড়া দলটিকে হাজার স্যালুট।

ম্যানিয়াক্স ডেস্ক
ক্রিকেট ভালোবাসি, কেননা বাংলাদেশকে ভালোবাসি।

Leave a Reply