সোনার হরিণ ছুয়ে দেখা; বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিকই যে প্রথম!

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম, ৮ই মার্চ, ২০১৩ তারিখে শ্রীলঙ্কার গলে নিজ টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১ তম ম্যাচ খেলতে নামেন। তখন পর্যন্ত তার টেস্ট ক্যারিয়ার বলতে ১টি মাত্র সেঞ্চুরি। কে জানত এই মি. ডিপেন্ডেবলই হবেন বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান!
স্যার ডন ব্রডম্যান একাই ১২টি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। তাই টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল-সেঞ্চুরি ডালভাত ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটি ছিল সোনার হরিণ! সেই সোনার হরিণই ছুয়ে দেখলেন মুশফিক!

২০১৩ সালে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তিন লঙ্কানের সেঞ্চুরির উপর ভর দিয়ে ৪ উইকেটে ৫৭৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে লঙ্কান অধিনায়ক। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৭৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তখনি মাঠে নামেন মি. ডিপেন্ডেবল। আশরাফুলের সাথে জুটি গড়েন। একে একে প্রমাণ করতে থাকেন কেন তিনি মি. ডিপেন্ডেবল!
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ অনেকটা শক্ত অবস্থানে। আশরাফুল ব্যক্তিগত ১৮৯ আর মুশফিক ১৫২ রানে অপরাজিত থেকেই তৃতীয় দিন শেষ করেন। শুরু হয় জল্পনা কল্পনা! কে হবে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান? ৯৯ শতাংশ মানুষই উচ্চারণ করেছিল আশরাফুলের নাম।
পরের দিন মাঠে নেমে মাত্র ১ রান যোগ করে ১৯০ রানেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন আশরাফুল। ৪৯৯ বলে ২০ চার ও ১ ছয়ে ১৯০ রান করেছিলেন তিনি। ভেঙ্গে যায় আশরাফুল-মুশফিকের ২৬৭ রানের অবিশ্বাস্য জুটি। হতাশায় ডুব দেয় বাংলাদেশ। তখন অনেকে ভেবেছিল আর হয়ত হবে না । মুশফিক ও হয়ত পারবে না।
কিন্তু মুশফিক পেরেছিল। অত্যন্ত ধীরে সুস্থে খেলে নাসিরের সাথে আবার ১০৬ রানের জুটি গড়েছিলেন মূশফিক। এবং অবশেষে মুশফিক পৌঁছেছিল তার লক্ষে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটা নিজের নামে করে নিয়েছিল মুশফিক।
৩২০ বল মোকাবিলা করে ২২ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেন তিনি। পরের বলেই কুলাসেকারার এব্লিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে আউট হন। কিন্তু ততক্ষণে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখে ফেলেছিলেন। হয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। এরপর নাসিরের সেঞ্চুরিতে ৬৩৮ রানে ইনিংস শেষ হয় বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত ড্র হয় গলে টেস্ট। কিন্তু সব ছাপিয়ে আলোচনার মধ্যমণি হয়েছিল ঐ মুশফিক।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরো অনেক ডাবল সেঞ্চুরি হবে কিন্তু মুশফিকের নাম থাকবে শীর্ষে কারণ তিনিই যে প্রথম।মুশফিকের পর অবশ্য শুধুমাত্র তামিমই এই ডাবল টনে পৌছতে পেরেছেন। তবুও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিকই তো প্রথম!

Leave a Reply