২০০৯, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি রোমন্থন!

সালটা ২০০৯! বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির সময়টা মনে হয় তখন থেকেই শুরু। বছরের শুরুতেই তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে এসেছে বাংলাদেশে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিন ম্যাচ! শুরুটা ১৯ শে জানুয়ারি। তবে শুরুটা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। প্রথম ম্যাচে পরাজয় দিয়েই শুরু। লো স্কোরিং ম্যাচে ২ উইকেটে পরাজিত বাংলাদেশ। মাত্র ১২৪ রানে অল আউট বাংলাদেশ! মাশরাফি আর সাকিবের বোলিং দাপটে অবশ্য জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিল টাইগাররা। ৪৯.২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। মাশরাফি এবং সাকিব নেন ৩ উইকেট করে।

দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। লো স্কোরিং ম্যাচ এটাও! ৫০ ওভারে ৯ উইকেট এর বিনিময়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ মাত্র ১৬০ রান। চার উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের এই ম্যাচে জয়। মাত্র দু দিন আগে বাংলাদেশের পরাজয়ে যাদের মনে অভিমানের আকাশ ভেঙ্গে পরেছিল এবার তাঁদের মুখেও হাসি। শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে সিরিজ নির্ধারণকারী!

শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের মুখ যতখানি উজ্জ্বল ঠিক ততখানিই অনুজ্জ্বল আকাশের মুখ। বেলা ১১ টার পর যখন খেলা শুরু হল তখনো সূর্যের মুখটা যে ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে না। ৫০ ওভারের ম্যাচ নেমে এল ৩৭ ওভারে। টস থেকেই ভাগ্য যেন বাংলাদেশের পক্ষে। আবহাওয়ার সুবিধা পুরোপুরি নিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। টসে জিতে তাই ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করলেন না অধিনায়ক আশরাফুল। মিরপুরে সেদিন যেন আরও একবার জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশ বোলিং এর প্রাণ ভোমরা মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রথম ওভারে শুন্য রানে সিবান্দাকে এলবিডব্লিউ করে শুরু। দলীয় ১৯ রানে মাসাকদজাকে দ্বিতীয় এবং ৩১ রানের মাথায় মাতসেকানেরিকে আউট করে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ভাঙ্গার দায়িত্ব একাই পালন করলেন মাশরাফি। মাত্রই একদিন আগে বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার এর স্থান দখল করা সাকিব আল হাসানই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? মাশরাফি যেখানে থামলেন, সেখান থেকেই ধ্বংস শুরু করলেন সাকিব! ৮ ওভার ৪ মেডেন ১৫ রান দিয়ে সাকিব নিলেন ৩ উইকেট। ফলাফল ৩৭ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের পুঁজি মাত্র ১১৯ রান।

মাত্র ১২১ রানে টার্গেট হলেও দর্শক সারিতে বাংলাদেশের উৎকণ্ঠা কম ছিল না। এর আগেও যে নিশ্চিত জয়কে পরাজয়ে রূপ নিতে দেখেছে দর্শক। ৮৯ রানে চার উইকেটের পতন দেখে একটু ভয় অবশ্য কাজ করছিল! সাকিব আর মুশফিক অবশ্য আর দুশ্চিন্তায় পরতে দেয় নি আমাদের। দুই জন অপরাজিত থেকে দলকে এনে দিয়েছিলেন সিরিজ বিজয়। শন উইলিয়ামস যদি সাকিবের ক্যাচ মিস না করতেন তাহলে অবশ্য ফলাফল অন্য কিছুও হতে পারত। ভাগ্য দেবতা হয়ত সঙ্গী ছিল সেদিন সাকিবের।

দিন শেষে বাংলাদেশের মুখে অস্টম দিপাক্ষিয় সিরিজ জয়ের হাসি। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যান অব দ্যা সিরিজ সাকিব আল হাসান। হতাশা দিয়ে শুরুর সিরিজটা শেষ হল বাংলাদেশের হাঁসিতেই।

Leave a Reply