নতুন শুরুর সূচনাঃ বিপিএল ২০১২

নতুন শুরুর সূচনাঃ বিপিএল ২০১২

২০১২ বিপিএল এর কথা কি হিসাবে মনে আছে? ইঞ্জুরি ফেরত মাশরাফির অধিনায়ক হয়ে বিপিএল জয়ের? নাকি অতিমানব সাকিব আল হাসানের অতমানবিকতার পরও খুলনার সেমিফাইনালে হার? নাকি চিটাগাং কে টপকে বরিশালের সেই বিতর্কিত সেমিফাইনালে প্রবেশ?

বিপিএল ২০১২ ছিলো ইতোমধ্যে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠা আইপিএল এর বাংলাদেশী সংস্করণ। নিলাম এর পর ঢাকায় গেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, খুলনায় সাকিব আল হাসান, চিটাগাং এ তামিম ইকবাল, রাজশাহীতে মুশফিকুর রহিম, বরিশালে শাহরিয়ার নাফিস আর সিলেটে অলক কাপালি। দল গঠনের পর বলা যাচ্ছিলো না চ্যাম্পিয়ন কে হবে। জমজমাট এক আসরের অপেক্ষায় ছিলো সারাদেশ।

আসরের প্রথম ম্যাচে সিলেট রয়্যালস কে হারায় বরিশাল বার্নার্স। গ্রুপ পর্ব হয় রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে, সব দল খেলে ১০টি করে ম্যাচ। গ্রুপ পর্ব শেষে ৭ জয় নিয়ে শীর্ষে থাকে দুরন্ত রাজশাহী। শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যায় সাকিবের খুলনা। ১০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানের জন্য লড়াই হয় ঢাকা, চিটাগাং ও বরিশালের মধ্যে। উন্নত রানরেট থাকায়, ঢাকা পেয়ে যায় তৃতীয় স্থান। ঘোষণা দেওয়া হয় চতুর্থ হচ্ছে চিটাগাং, তাদের মোকাবেলা হবে মুশফিকের রাজশাহীর সাথে। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন বিপিএল কমিটি হঠাৎ ঘোষণা দেয় চিটাগাং নয় বরিশাল খেলবে রাজশাহী’র সাথে। এই নিয়ে চিটাগাং কিংস আপিল করলেও বিপিএল কমিটি তাদের সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

প্রথম সেমিফাইনালে বরিশাল বার্নার্সের সামনে ১৮৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় দুরন্ত রাজশাহী। শন আরভিন ৬১ বলে করেন ৮২ রান। জবাবে আহমেদ শেহজাদের ৪৯ বলে ১১৩ রানের দুর্দান্ত এক শতকে মাত্র ১৬ ওভারে সেই রান টপকে যায় বরিশাল ২ উইকেট হারিয়ে।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় সাকিবের খুলনা রয়েল বেঙ্গলস ও মাশরাফির ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। প্রথমে ব্যাট করে আজহার মাহমুদের ৩৯ বলে ৬৫ রানের উপর ভর করে ১৯১ রানের বড় সংগ্রহ করে ঢাকা। জবাবে সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ৪১ বলে ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসও ব্যর্থ হয় যোগ্য সঙ্গের অভাবে। খুলনার ইনিংস থেমে যায় জয় থেকে ৯ রানের দুরত্বে। দুর্দান্ত ডেথ বোলিং করেন পাকিস্তানি অফ স্পিনার সাইদ আজমল যা ছিলো খুলনাকে আটকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

ফাইনালে মিরপুরের শের-এ-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ঢাকা ও বরিশাল। ঢাকার অধিনায়ক মাশরাফি টস জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন। ব্র‍্যাড হজের ৭০ রানের ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৪০ রান করে বরিশাল। শহীদ আফ্রিদি ৩ উইকেট নেন ২৩ রানের বিনিময়ে। জবাবে ইমরান নাজিরের ৭৫ রানের সাহায্যে মাত্র ১৫.৪ ওভারেই টপকে যায় ঢাকা। চ্যাম্পিয়ন ঢাকা, বিজয়ী অধিনায়ক মাশরাফি, যাকে দলে নিতে দ্বিতীয়বার আর নিলামে ডাকতে হয়নি মাশরাফিকে।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অতিমানবীয় পারফরমেন্স ছিলো সাকিব আল হাসানের ২৮০ রানের পাশাপাশি নেন ১৫ টি উইকেটও। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সেরা এই সাকিব আল হাসানই যদিও হয়নি শিরোপা জেতা। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন আহমেদ শেহজাদ করেছিলেন ৪৬৮ রান। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন ইলিয়াস সানি ও মোহাম্মদ সামি নিয়েছিলেন ১৭টি করে উইকেট।

তবে এই বিপিএল এ ফিক্সিং ও বকেয়া নিয়ে হয়েছিলো নানা সমস্যা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিক্সিং এর প্রস্তাব পান ঢাকা দলপতি মাশরাফি মর্তুজা। এছাড়াও বকেয়া পরিশোধ হয়নি অনেক খেলোয়াড়ের।

তবুও এই বিপিএলটা ছিলো এক নতুন শুরুর, কেননা এই বিপিএলই যে দেশের ক্রিকেটের অনেক নতুন অধ্যায় সামনে নিয়ে আসবে!

Leave a Reply