পিছলে হাতে ফসকে যাওয়া টেস্ট!

বাংলাদেশ ভারতের হায়দ্রাবাদ টেস্টটা শুরুর আগে অনেক রোমাঞ্চ জাগালেও, ম্যাচটা ছিলো একপেশেই। শেষ পর্যন্ত ভারত ২০৮ রানে জয়ী, যেটা বিশাল ব্যাবধান। বাংলাদেশ যে লড়াই করেনি তা নয়, কিন্তু পিছলে হাত আর ব্যাটিং এ দায়িত্বহীনতায় টেস্টটা খোয়াতে হলো টাইগারদের।

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিপতি ভিরাট কোহলি। প্রথম ওভারে তাসকিন লোকেশ রাহুল এর স্টাম্প ভেঙে শুরু করলেও, এরপরের গল্পটা হতাশার। বিজয় আর পুজারা করেন এক দীর্ঘ জুটি, যা ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ, পুজারা কে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী করে। তবে তা ভাঙতে পারতো আগেই। ব্যাক্তিগত ৩৫ রানে ভুল বোঝাবুঝি তে প্রায় আউটই হয়ে যাচ্ছিলেন বিজয়, রাব্বির করা থ্রো ধরতে পারেননি মিরাজ, বেচে যান বিজয়, করেন ১০৯ রান। তাকে তুলে নেন তাইজুল। এরপর রাহানে আর কোহলি দুই শতাধিক রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ করেন, যা ভাঙেন তাইজুল। অসাধারণ এক ক্যাচ তালুবন্দী করে রাহানেকে প্যাভিলিয়ন এ ফেরত পাঠান মিরাজ। রিদ্ধিমান সাহা আউট হতেন শূন্যতেই, স্টাম্পিং মিস করলেন মুশফিক, বেচে গেলেন সাহা, করলেন সেঞ্চুরি। এর মধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি করে টানা ৪ সিরিজে ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েন এই ভারতীয় অধিনায়ক। তাকে এলবিডব্লিউ এর ফাদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম, এরপর অশ্বিন কে তুলে নেন মিরাজ। জাদেজা ৮ এ নেমে ফিফটি করায় ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৮৭ তে।

জবাবে নেমে শুরুতেই ফিরে যান সৌম্য সরকার। আউট দেননি আম্পায়ার, কোহলির নেওয়া রিভিউ এ পরিষ্কার ইনসাইড এজ, সৌম্য ফিরে গেলেন। পরদিন সকালে ভুল বোঝাবুঝি তে তামিম ইকবালও সাজঘরে। ইশান্ত শর্মা আর উমেশ যাদব এর আঘাতে ফিরে গেলেন মমিনুল ও মাহমুদুল্লাহ ও, ১০৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয় এ বাংলাদেশ। এরপর সাকিব আল হাসানের কাউন্টার এটাক। প্রায় ৮০ এর স্ট্রাইক রেটে ৮২ করলেন, এবং স্বভাবসুলভভাবে আত্মহত্যা করলেন। এরপর সাব্বির এসে চলে গেলেন কিছুক্ষণ পর, অন্য প্রান্তে মুশফিক দাতে দাত চেপে ক্রিজে আছেন। মিরাজকে নিয়ে গড়ে তুললেন অসাধারণ এক পার্টনারশিপ, মিরাজ তুলে নেন তার প্রথম ফিফটি। ইনিংসের শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ড এ চোট পাওয়া আঙুলে লাগলো বল, ব্যাথায় কাতরালেন মুশফিক কতক্ষণ। উঠে দাড়ালেন, ইশান্ত শর্মা আবার বাউন্সার দিলেন, ৪ মেরেই জবাব দিলেন টাইগার দলপতি। পরদিন সকালে প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বর কুমারের এক অসাধারণ ইনসুইং এ ফিরে গেলেন মিরাজ। এরপর তাইজুল, তাসকিন আর রাব্বি কে নিয়ে টিকে থাকলেন মুশফিক, তুলে নিলেন নিজের পঞ্চম আর ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত আউট হলেন ১২৭ রানে, বল খেলেছেন ২৬২টি! বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৮৮।

ফলো অন না করিয়ে ব্যাটিং এ ভারত। এবার শুরুতে জোড়া আঘাত তাসকিনের, রাহুল আর বিজয় কে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী করলেন। এরপর পুজারা কোহলি রাহানে জাদেজা দ্রুত রান তুলে সংগ্রহ করলেন ১৫৯, ৪৫৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে।

ব্যাটিং এ নেমে শুরুতেই নেই তামিম ইকবাল। সৌম্য আর মমিনুল জুটি গড়লেন, তবে দিন শেষ হওয়ার আগেই ফেরত গেলেন তারাও। শেষ দিনের প্রথম সেশনেই নেই সাকিব আল হাসান আর মুশফিক, সাকিবের উইকেটটা রাফে পড়ে লাফিয়ে ওঠা এক বলে হলেও, মুশফিকের উইকেটটা আত্মহনন ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপর মাহমুদুল্লাহ, সাব্বির, মিরাজরা চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ টিকলো আর এক সেশন। মাহমুদুল্লাহ ৬৪ করলেন প্রায় দেড়শ বল খেলে, মিরাজ সাব্বিরও ৬১ বল করে খেললেন, কামরুল একাই খেললেন ৭০ বল, রান করলেন ৩! তবুও যথেষ্ট না, ২৫০ রানেই গুটিয়ে গেলো বাংলাদেশ, ভারত ২০৮ রানে জয়ী।

টেস্টটা হারার পিছনে কারণ দুইটি। এক, বাজে ফিল্ডিং; দুই, দায়িত্বহীন ব্যাটিং।

ফিল্ডিং এ একটি নিশ্চিত রান আউট, একটি নিশ্চিত স্ট্যাম্পিং, দুটি নিশ্চিত ক্যাচ, দুটি হাফ চান্স মিস গেছে। নিউজিল্যান্ড এ টেস্ট ব্যর্থতার মূলেও ছিলো এই বাজে ফিল্ডিং আর ক্যাচিং, এই ম্যাচেও কাল হলো তাই। শুধুমাত্র পিছলে হাতের জন্যই টেস্টটা ফসকে গেলো বলা যায়।

দ্বিতীয়ত, দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে সাকিব এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকের আউট দুটো আত্মহনন, আর কিছুই নয়। দলের বিপদের সময় এরকম শট খেলে আউট হওয়া সিনিয়র ব্যাটসম্যান দের মানায় না।

এই টেস্টে সামান্য প্রাপ্তি হলো মাহমুদুল্লাহের ফর্মে ফেরা আর মিরাজের ব্যাটিং ফর্ম পাওয়া। তাসকিনের বোলিং এও পাওয়া গেছে উন্নতির আভাস।

অপ্রাপ্তির তুলনায় প্রাপ্তিটা সামান্যই। তবুও আশা রাখছি, আসন্ন শ্রীলংকা সিরিজে এই ভুলগুলো কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ এবং বিজয়ীর বেশেই ফিরবে।

Leave a Reply