রাজা তার হারানো রাজত্বের লক্ষে

আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে একদিনের ও টি২০ বিশ্বকাপের পরেই অবস্থান আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। টেস্ট খেলুরে ১০টি দেশের মধ্যে সেরা আটটি দল রেংকিং অনুসারে ১ থেকে ৮ পর্যন্ত দলগুলো অংশগ্রহণ করে এই টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্ট শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথম দিকে ২বছর পরপর অনুষ্ঠিত হলেও ২০০৯ সালের পর থেকে এটা ৪বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এসোসিয়েট দলগুলোও অংশগ্রহণ করতে পারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মে আসে ব্যাপক পরিবর্তন।

এবার আয়োজক ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। এই ধরনের টুর্নামেন্টে সব দলই ফেভারিট থাকে। যে কেউ জিততে পারে ট্রফি। দলগুলোর মধ্যেও শক্তির খুব একটা পার্থক্য থাকেনা। তবে আইসিসির সকল টুর্নামেন্টের মত এখানেও কিছু দল অন্য দলগুলোর সমীহ আদায় করে নেয় তাদের পারফর্মেন্স ঐতিহ্য দ্বারা। তেমনি একটা দল অস্ট্রেলিয়া। অনেকে বলে অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের দ্বিতীয় সারির দল ও পাঠায় তবে তাদের ট্রফি জেতার ক্ষমতা আছে। যদিও এখনকার অস্ট্রেলিয়া ও আগের অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনেকটা পার্থক্য আছে তবুও তাদের কোনো ভাবেই কম গুরুত্ব দিয়ে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

কেমন হয়েছে এবারের দল? আসুন দেখে নেই –

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডঃ স্টিভ স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার (সহ অধিনায়ক), এরন ফিঞ্চ, ক্রিস লিন, মজেজ হ্যানরিক্স, প্যাট কমিন্স, মিচেল স্টারক, জস হ্যাজেলউড, জন হ্যাস্টিং, ট্রেভিস হেড, গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল, জেমস প্যাটিনসন, মার্কোস স্টয়নিস, ম্যাথিউ ওয়াইড, এডাম জাম্পা।

১৫ সদস্যের দলে ৬ জন ব্যাটসম্যান ৩জন অলরাউন্ডার ৫জন বোলার ও ১জন উইকেট কিপার।

প্রতি বিভাগেই তাদের পর্যাপ্ত পরিমান ব্যাকাপ আছে। ওয়ার্নার তো বর্তমান সময়ের সেরা ওপেনারদের একজন তার সাথে ক্রিস লিন বা এরন ফিঞ্চ যে কারো জুটিই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। এদের সবাই হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান। প্রত্যেকেই ১০০+ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পারে। তাছাড়া তাদের সাম্প্রতিক ফর্মও ভালো। নাম্বার তিনে বর্তমানের সবচেয়ে ধারাবাহিক প্লেয়ারদের একজন স্টিভ স্মিথ। যে যেকোনো পরিস্থিতিতেই ভালো খেলতে পারে। নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

মিডল অর্ডারের জন্য আছে গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল, জন হ্যাস্টিং, ট্রেভিস হেড, মজেজ হ্যানরিক্স, ম্যাথিউ ওয়াইড ও মার্কোস স্টয়নিস। সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী মিডল অর্ডার প্রত্যেকেরই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা আছে। বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েলের প্রতি প্রতিপক্ষের আলাদা নজর তো থাকেই। আর বোলিং ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্বে থাকবে মিচেল স্টার্ক। তর্ক সাপেক্ষে বর্তমান সময়ের সেরা বোলার তার সাথে প্যাট কমিন্স, জস হ্যাজেলউড, জেমস প্যাটিনসন ও এডাম জাম্পা। সাথে আছে ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার।

তবে তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো স্পিনিং ডিপার্টমেন্ট। এডাম জাম্পা ও অলরাউন্ডার ম্যাক্সওয়েল ছাড়া আর কোনো স্পিনার নেই দলে। অধিনায়ক স্মিথ হাত ঘুরাতে পারলেও তা কতটা কার্যকর হবে দেখার বিষয়। এই একটা বিভাগ ছাড়া সম্পূর্ণ দলটাই একটা পারফেক্ট প্যাকেজ। যদিও ইংল্যান্ডেরর কন্ডিশনে স্পিনারদের থেকে পেসাররা বেশি সুবিধা পায় তবুও স্পিনারা অনেক বড় ভুমিকা পালন করে। এই একটা বিভাগ ছাড়া দলটা অনেক ভারসাম্যপূর্ণ।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২ বার শিরোপা জেতা দল এই অস্ট্রেলিয়া। তাদের সমনে সুযোগ আছে একক ভাবে সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা দলে পরিনত হবার। তবে এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপে আছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এদের কেউই কাউকে ছেড়ে কথা বলবেনা । আর তাই এই গ্রুপটাকে বলে হয় গ্রুপ অফ ডেথ। এখান থেকে সেমিফাইনালে যেতে হলে অবশ্যই প্রতিম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আর অস্ট্রেলিয়ারর মত একটা প্রফেশনাল দল তাতে কার্পন্য করবেনা অবশ্যই। তাই দেখার বিষয় কি হয় এবারের আসরে। একটা রোমাঞ্চোকর টুর্নামেন্টের অপেক্ষায়।

Leave a Reply