চট্টগ্রামে ইংল্যান্ড বধের মহাকাব্য , মাহমুদুল্লাহ-শফিউলের অমরকীর্তি

২০১১ বিশ্বকাপে চট্টগ্রাম , কে জানতো ইংল্যান্ডকে হারাবো বাংলাদেশ ! ইতিহাস নতুন করে রচিত করবে ! পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে হতবাক করে জয় ছিনিয়ে নেয় বাঘের মতো টাইগাররা ৷ ক্রিকেট বোদ্ধাদের যেমন মনে দাগ কাটবে ম্যাচটি অনেকদিন , টাইগার ভক্তদের মনেও অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে ম্যাচটি ৷

বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোভাবে হয়নি ইংলিশদের ৷ স্পিনবান্ধব উইকেটে শুরুতেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন অাবদুর রাজ্জাক ৷ দলীয় ৩২ রানে ম্যাটকে অাউট করেন রাজ্জাক , উইকেট রক্ষক মুশফিকুর রহিমের সহায়তায় স্ট্যাম্পিং হোন ম্যাট ৷

এর কিছুক্ষন পরই অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস কে সাজঘরে ফেরান নাইম , তালুবন্দি করেন জুনাইদ সিদ্দিকি ৷ দলীয় ৫৩ রানে বেলকে ফেরান মাহমুদুল্লাহ ৷ বাঘের মতো হুংকার দিয়ে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দেয় লড়াইয়ে একবিন্দু ছাড় দেবেনা ৷

এরপর ইংলিশদের হয়ে দূর্দান্ত ব্যাটিং করে জোনাথন ট্রট ও মরগান ৷ দুজন মিলে ১০৯ রান যোগ করার পর মরগানকে ব্যক্তিগত ৬৩ রানে সাজঘরে ফেরান নাইম ইসলাম , তালুবন্দি করেন ইমরুল কায়েস ৷

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব অাল হাসান অাঘাত হানেন ইংরেজ শিবিরে ৷ এবার জোনাথন ট্রটকে ৬৭ রানে ফিরিয়ে লড়াইয়ে ফেরত অানেন বাংলাদেশকে ৷

দলীয় ১৯৫ রানে রবি বোপারাকে ফেরান রাজ্জাক ৷ গর্জে উঠে জহুর অাহমেদ স্টেডিয়াম ৷ ২০৯ রানে অাবারও সাকিব ফেরান ইংরেজ স্পিনার সোয়ানকে ৷ এবার ১৬ রান করার পরই বাকি তিন উইকেট পড়ে এবং ২২৫ রানে অল অাউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড ৷ শফিউল , রুবেল , মাহমুদুল্লাহ একটি করে উইকেট পান আর সাকিব-নাইম-রাজ্জাক পান দুটি করে উইকেট

পারবে কি বাংলাদেশ ইতিহাস রচনা করতে ? পারবে কি জিততে ? এরকম হাজারো প্রশ্ন ছিলো সবার মনে ৷

বাংলাদেশকে উড়ন্ত সুচনা এনে দেন দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস আর তামিম ইকবাল ৷ ৫২ রানে তামিম আউট হবার পর একে একে জুনাইদ সিদ্দিক এবং রাকিবুল হাসান আউট হবার পর স্কোর বোর্ড দাড়ায় ৭৩ রানে ৩ উইকেট ৷
দরকার ছিলো বড় একটা পার্টনারশীপের , ইমরুল কায়েস আর সাকিব অাল হাসান মিলে ৮২ রান যোগ করে টাইগার ভক্তদের মনে স্বস্তি দেন ৷ জয়ের স্বপ্নে বিভোর টাইগার ভক্তদের মনে কিছুক্ষন পর সেটা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় !
ইমরুল কায়েস অাউট হবার পর মাত্র ১৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ ৷ সাকিব-মুশফিক-নাইম-রাজ্জাক একে একে সাজঘরে ফিরে গেলে বাংলাদেশের স্কোর দাড়ায় ১৬৯/৮ , ৩৯.৪ ওভার !

এমন সময় শফিউল যখন নামলেন ব্যাট হাতে দিশেহারা বাংলাদেশ ৷ সেই মুহূর্তে সবাই অাশা ছেড়েই দিয়েছিলো ৷ দর্শক গ্যালারি ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো ৷ জয়ের স্বপ্নটা চুরমার হয়ে যখন হারের দুঃস্বপ্নে বিভোর সবাই তখন শফিউল নিজেকে উজার করে দেখালো অামরাও পারি ৷ কে জানতো ৫৭ রান চেজ করে ইতিহাসটা নতুন করে লিখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শফিউল-মাহমুদুল্লাহ এর ওপর ভর করে ?

হতাশ টাইগার ফ্যানদের মনটা ভেঙ্গে গেছিলো ৷ এমন সময় ত্রাণকর্তা হিসেবে দলের হাল ধরেন শফিউল অার মাহমুদুল্লাহ ৷

মাহমুদুল্লার ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দিক ছিলো সিঙ্গেল নিয়ে দেখে শুনে খেলা ৷ তার বাউন্ডারি ছিলো দুটি ৷ ৪২ বলে ২২ রানের এই ইনিংসটি যা গুরুত্ব ছিলো তা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয় ৷

অপরদিকে শফিউল , কি নেই তার ইনিংসে ? ইংলিশ বোলারদের নাজেহাল করে ৪টি চার এবং ১টি ছয় মেরে ২৪ বলে ২৪ রানের ইনিংসটিতে ২২ রানই করেন বাউন্ডারি মেরে ৷ শফিউলের ভূমিকাটা অসাধারন ছিলো ৷ বোলার হয়েও মাহমুদুল্লার সাথে যোগ্য সঙ্গির মতো সঙ্গ দেন ৷ এবং ৬ বল হাতে রাখে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বাংলাদেশ ৷ পুরো স্টেডিয়াম গর্জে উঠে , জয়ের অানন্দে পুরো দেশ মাতোয়ারা ৷

অসম্ভব অবস্থায় ম্যাচটাকে জিতে অমর কীর্তি করে ফেলেন মাহমুদুল্লাহ-শফিউল ৷
অাকাশ সমান চাপ নিয়ে হারা ম্যাচ যেভাবে ইংল্যান্ডের মুখ থেকে ছিনিয়ে এনে জিতে বাংলাদেশ তাকে মহাকাব্য বলাটাই শ্রেয় !
পুরো বিশ্ব তাকিয়ে দেখে বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা ৷ গ্রাম থেকে শুরু শহরের গলি সব জায়গাতে বিজয় মিছিল বের হয় ৷ জয়ের দুই মহানায়ক শফিউল-মাহমুদুল্লাকে সবসময় মনে রাখবে টাইগার ভক্তরা , ইংল্যান্ড বধের অমর কীর্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে সর্বদা ৷

Leave a Reply