স্বপ্নের সূচনার মুখোমুখি বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এভাবে আর কোন টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিলো কি? আমরাও পারি চ্যাম্পিয়ন হতে এই মন্ত্র পড়ে তো টাইগাররা রোজ রোজ খেলতে নামেনা ক্রিকেটটা। বলা চলে, নতুন যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট। ভারতের বিপক্ষে হারটার কথা ভুলে যান, ভুলে আমাদের যেতেই হবে।  সমীহটা বাংলাদেশ দুই ম্যাচে নয়, টানা দুটা বছর ভালো খেলে আদায় করে নিয়েছে। এতো সহজেই সেটা মুছে যাবার নয়, বিরেন্দ্র শেবাগদের কটু কথাতে তো অবশ্যই নয়।

আরেকটু মোটা দাগে, আজকেই মাঠে গড়াচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। শুরুর দিনেই দ্যা ওভালে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে, দল অতি আত্নবিশ্বাসী, সাকিবের বিকল্প নানা ইস্যুতে বিপর্যস্ত টাইগার শিবির, ১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামা বাংলাদেশ যে খুব বেশী সুখী দল তা অন্তত বলা যাচ্ছেনা। অথচ এইতো সেদিন , নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে হারিয়ে কি টগবগে মাশরাফির দল। একটা প্রস্তুতি ম্যাচ হারেই কি বিপর্যস্ত দেখাচ্ছে, আবার এমন একটা জয়েই  দ্যা রিয়েল ডার্ক হর্স হয়ে উঠে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে এই দল। মাঠের বাইরের এসব টুকরো অখুশী চিত্র পাশে রেখে ক্রিকেটে ফিরলে দেখবেন …

গত দুই বছরের সবচেয়ে সফল, দারুণ দর্শনীয় দুটি ওয়ানডে দল উদ্ভোদনী দিনে মাঠে নামছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এখনো ইউটিউবে রোজ কেউ না কেউ দেখে, তারপর থেকেই তো বদলে গেছে দুটা দলই। ইংল্যান্ড ও পণ করে নিয়েছে একদিনের ক্রিকেটটাকে পোশাকের মতো গ্ল্যামারাস করেই খেলতে হবে। সেই বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দলগুলোর মাঝে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয় পাওয়া দল, আর বাংলাদেশ? বিশ্বকাপের পর থেকে আরেকটি আইসিসি ইভেন্টের আগ পর্যন্ত সময়ে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশী জয় পেয়েছে। দুই দলই টুর্নামেন্টের ঠিক আগে নিজেদের  কাঁপিয়ে দেয়া ব্যাটিং বিপর্যয়ের স্মৃতি নিয়ে মাঠে নামবে। বাংলাদেশের স্মৃতিটা প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে, আর ইংল্যান্ডের স্মৃতি অফিসিয়াল ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে। দুটোকেই নিছক দুর্ঘটনা বলা যায় নিমিষেই।

চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখা বাংলাদেশ দল সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের সাথে মনস্তাত্বিক কয়েকটি লড়াইয়েও এগিয়েই রয়েছে বলা চলে। পরপর দুটি আইসিসি ইভেন্টে  টাইগারদের জয়ের স্মৃতি রয়েছে। মাঠের ক্রিকেটে কিংবা শরীরী ভাষায় সমানে সমানে থাকার স্বাদ ও ইংল্যান্ডকে দিয়েছে বাংলাদেশ, ঘরের মাটিতে টেষ্ট জয়ে আর  উত্তেজনার উন্মাদনার ওয়ানডে সিরিজ ও দুই দলের লড়াইকে বাড়তি মাত্রাই উপহার দিবে।


  ইংল্যান্ডের শক্তিমত্তা  


দারুণ আক্রমনাত্বক এক ব্যাটিং লাইন আপ স্বাগতিকদের। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা ছুয়ে দিতে পারে ১১ নাম্বার পজিশনটিকেও। অধিনায়ক ইয়ন মরগান আর জো রুট দলের ব্যাটিং লাইন আপের স্তম্ভ। দুইজনই দারুণ খেলছেন সাম্প্রতিক সময়ে। গত দুই বছরে ইংল্যান্ড ৪০০ রান অতিক্রম করেছে দুইবার। আর তিনশতাধিক রান করাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে।

ইংল্যান্ডের শক্তি বিবেচনা করলে বেন স্টোকস দারুণ এক উদ্দীপক, দারুণ অল রাউন্ডিং পারফরম্যান্সে স্টোকস নিজেকে দারুণ এক অলরাউন্ডার হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্টিত করেছেন। বোলিং শক্তিতে ক্রিস ওকস আশা দেখাচ্ছেন ইংল্যান্ডকে। মইন আলী আর আদিল রশিদে দারুণ বৈচিত্র্যময় ইংল্যান্ডের বোলিং লাইন আপ।


বাংলাদেশের শক্তিমত্তা


টাইগার শিবিরে ছায়া হয়ে আছেন পাঁচ পঞ্চপান্ডব, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পাঁচ জন মিলে আটশতাধিক একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, সংখ্যাটা ফেলনা নয়। গত দুই বছরে বাংলাদেশ দলের উপর এদের প্রত্যেকের প্রভাব চোখে পড়ার মতো।  এই প্রভাবটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সাথে সৌম্য, সাব্বিরদের সেরা মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেলে ইংল্যান্ডের কপালে দুঃখই আছে। কোন সন্দেহ নেই তামিমের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব, গত দুই বছরে দারুণ দায়িত্ববান ক্রিকেট খেলছেন এই বাম হাতের ব্যাটসম্যান। মুস্তাফিজ আসরের অন্যতম হটকেকে, ঠিক কি রূপে আভির্ভুত হন সেটা দেখার রোমাঞ্চ দারুণ এক অভিজ্ঞতা টাইগার ভক্তদের জন্য। রুবেল, মাশরাফি, সাকিব, মুস্তাফিজে চোখ রাখাই যাচ্ছে।


চোখ রাখবেন যাদের দিকে


মার্ক উড, ইংল্যান্ডঃ দারুণ বোলিং করছিলেন সাম্প্রতিক সময়ে। কিন্তু সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন এইতো সেদিন, দক্ষিন আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়ে। সর্বোচ্চ চাপের মুহূর্তে নিজের সেরাটা যে দিতে পারেন, সেটা জানিয়ে দিয়েছেন।

সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশঃ বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশী ম্যান অব দ্যা ম্যাচ জিতেছেন তিনি, বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার তিনি, ভুলে যাবার কোন সুযোগ নেই।


পিচ এবং কন্ডিশন


ঐতিহাসিকভাবেই ওভালের পিচ  ব্যাটিং সহায়ক হয়ে থাকে। তবে এই ম্যাচের কন্ডিশন কিছুটা ধোয়াশাচ্ছন্ন, সাধারণত আইসিসি ইভেন্টে রানের ফোয়ারা ছোটে। তবে ওভালে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ হয়না, চার বছর হলো। পরিসংখ্যান বলছে, টসে জিতে ব্যাটিং নেয়াটা আদতে ফিল্ডিং টিমকে সুবিধা দিয়ে দেয়ার মতো। এই মাঠে প্রথম ইনিংসে গড় রান ২১৩, আর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া একদিনের টুর্নামেন্টে এই বছর এই মাঠের গড় রান ২৪৪। বড্ড স্পোর্টিং উইকেটই মনে হচ্ছে।  আবহাওয়ার পূর্ভাবাসে বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই।


টিম নিউজ এবং একাদশ


স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলে জনি বেয়ারস্টো জায়গা পাচ্ছেন না মুটামুটি নিশ্চিত, তার জায়গায় খেলবেন জেসন রয়। এছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে ম্যাচের দিন সকালে আরেকবার, ফিটনেস টেষ্ট দিতে হবে বেন স্টোকসকে, তার উপর নির্ভর করবে তার বোলিং করা। এই টেষ্টের উপর নির্ভর করছে ইংল্যান্ডের দলীয় ভারসাম্য ও।

সম্ভ্যাব্য একাদশঃ ১ জেসন রয়, ২ এলেক্স হেলস, ৩ জো রুট, ৪ ইয়ন মরগান (অধিনায়ক), ৫ বেন স্টোকস, ৬ জস বাটলার (উইকেট কিপার), ৭ মঈন আলী, ৮ আদিল রশিদ, ৯ ক্রিস ওকস, ১০ লায়াম প্লাঙ্কেট, ১১ মার্ক উড।

বাংলাদেশ দলে ফিটনেস ইস্যুতে কোন সমস্যা নেই। বিশ্রামে থেকে ফুরফুরে মেজাজেই নামবেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এমনিতেও বাংলাদেশ দল অনেকটাই অনুমেয়, রুবেল না তাসকিন কিংবা মিরাজ না সানজামুল এমন কিছ ভাবনার সাথে চার পেসার নাকি তিন পেসার এমন কিছু ভাবনা উকি ঝুঁকি দিলেও একাদশটা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে।

সম্ভ্যাব্য একাদশঃ ১ তামিম ইকবাল ২ সৌম্য সরকার, ৩ সাব্বির রহমান, ৪ মুশফিকুর রহিম, 5 সাকিব আল হাসান, 6 মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ৭ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ৮ মেহেদী  হাসান, ৯ মাশরাফি মর্তুজা (অধিনায়ক), ১০ রুবেল হোসেন, ১১ মুস্তাফিজুর রহমান।

 তথ্যসূত্রঃ ক্রিকইনফো। 

Leave a Reply