সাকিব মোসাদ্দেকে তৃতীয় দিনে লিড বাংলাদেশের

কাল যেভাবে শেষ হয়েছিলো আর সাকিব আল হাসান যেভাবে খেলছিলো হয়ত অনেকেই লিডের আশা করেননি। তবে আজ সকালটা যেনো সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা সকাল। ঠান্ডা মাথার সাকিব আল হাসান ও ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম ভালো ভাবেই সামলাচ্ছিলেন লংকান বোলারদের। তবে আজ যেনো সাকিব থেকে মুশফিকই একটু বেশি আক্রমনাত্মক ছিলেন। দলীয় ২৯০ রানে লাকমালের একটি দুর্দান্ত ইন সুইংগারে আউট হওয়ার আগে তুলে নেন নিজের ১৭ তম অর্ধশতক। তারপরের গল্পটা শুধু সাকিব আর মোসাদ্দেকময়।

শুরুতে একটু নার্ভাস থাকলেও সময়ের সাথে সাথে ভালোই মানিয়ে নিলেন অভিষিক্ত মোসাদ্দেক। দলের বিপদের সময় নেমেও সাথে পেলেন দলের সেরা প্লেয়ারটাকে যার কাছ থেকে পেয়েছিলেন টেস্ট ক্যাপ সেই সাকিব আল হাসানকে। আর তার সাথে গড়েন ১৩১ রানের পার্টনারশিপ। দলীয় ৪২১ রানে ভাঙ্গে তাদের পার্টনারশিপ। আউট হোন আজকের দিনের সেরা খেলোয়ার সাকিব আল হাসান। সান্দাকানের বলে চান্ডিমালের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে তুলে নেন নিজের ৫ম টেস্ট শতক। করেন ১৫৯ বলে ১১৬ রানের এক বিরেচিত ইনিংস। যা সেই সময় বাংলাদেশ দলের জন্য ছিলো খুব প্রয়োজন, তাছাড়া দেশের শততম টেষ্টের পাশে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখলেন।

সাকিবের আউটের পর সৈকত আর মিরাজ দলের হাল ধরে কিন্তু হেরাথের এক ম্যাজিকেল ডেলিভারিতে মিরাজ আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। হঠাত করে টার্ন ও বাউন্স করা বলটির কোনো উত্তর ছিলো না মিরাজের কাছে। আউট হওয়ার আগে করেন ৫০ বলে মূল্যবান ২৪টি রান। অপর প্রান্তে তখনো আছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এর মধ্যে তিনি তুলে নেন নিজের প্রথম অর্ধশতক। পরের বলেই হেরাথ আবার আঘাত হানে এবার একই রকম বলে ফেরান মুস্তাফিজুরকে। কিন্তু তখনো হাল ছাড়তে নারাজ মোসাদ্দেক হোসেন। শুভাষিস রায়কে সাথে নিয়ে যোগ করেন আরও ১৩ রান।

হেরাথের বলে স্ট্যাম্পিং হওয়ার আগে মোসাদ্দেক করেন ৭৫ রান। আর বাংলাদেশের লিড হয় ১২৯ রানের। তবে তিনি যেভাবে খেলে গেছেন তাতে সবাই তার প্রশংসাই করেছেন। শ্রীলংকার হয়ে হেরাথ ৪টি সানদাকান ৪টি ও লাকমাল ২টি করে উইকেট নেয়।

জবাবে শ্রীলংকার শুরুটা ভালোই হয় বিনা উইকেটে তারা ৫৪ রান করে। যদি ২/১ উইকেট আজ নিতে পারত তবে হয়ত দিনটা বাংলাদেশেরই হতো।

তবে আজ যেভাবে খেলেছে তাতে সাকিব মোসাদ্দেক মিরাজরা প্রশংসার দাবীদার । বিশেষ করে সাকিবের এই ইনিংসটি যেনো অনেক কিছুর প্রতিবাদের চিহ্ন। তার এই ইনিংস দলে সিনিয়রদের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দেয়। একটা দলে সিনিয়র ক্রিকেটাররা যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা বুঝিয়ে দেয়। দলের প্রতি প্রতিটা খেলোয়ারদের ডেডিকেশনটা বুঝিয়ে দেয়।

এই টেস্টের ফলাফল কি হবে তা অনেকটা কালকেই হয়ত অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে ওদের যত তাড়াতাড়ি অল আউট করা যাবে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ততই বারবে। তাই কালকের জন্য শুভ কামনা।

Leave a Reply