শিরোপা ধরে রাখতে পারবে ভারত?

জুনে ইংল্যান্ডে বসছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসর। এতে কাট অফ সময়ের আগে আইসিসি র‍্যাংকিং এর শীর্ষ আট দল অংশ নেবে। এ টুর্নামেন্টে কোন দল কেমন করবে তা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ক্রিকেটের যেকোন আসরেই ফেভারিট হিসেবে প্রথম দিকেই থাকে ভারতের নাম। তাই ভারতকে নিয়ে আলোচনা একটু বেশিই। আইসিসির উপর নাখোশ ভারত, অনেক টালবাহানার পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষনা করেছে। দলে তেমন কোন চমক নেই।

ভারতীয় দল: বিরাট কোহেলি (অধিনায়ক), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, যশপ্রীত বুমরাহ, শিখর ধাওয়ান, এমএস ধনি (উইকেটকিপার), রবীন্দ্র জাদেজা, কেদার যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার, রোহিত শর্মা, মণীশ পাণ্ডে, হার্দিক পাণ্ডিয়া, অজিঙ্ক রাহানে, উমেশ যাদব, যুবরাজ সিংহ, মুহাম্মদ শামি।


দলে ফিরেছেন রোহিত শর্মা, মুহাম্মদ শামি। যুবরাজ সিংহকেও পনেরো জনের দলে রেখেছে শিরোপাধারীরা। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর থেকে আর একদিনের ম্যাচ খেলেননি শামি। রোহিত শেষ খেলেছেন গত অক্টোবরে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ভারতের অন্যতম ভরসা লোকেশ রাহুলের অভাব শিখর ধাওয়ান পূরন করতে পারবে কিনা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই ওপেনিং নিয়ে বাড়তি চিন্তা ছিল কোহেলিদের। ওপেনিংয়ের সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হল রোহিত শর্মার অন্তর্ভুক্তিতে।

ভারতের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলতে পারে ইংল্যান্ডের কন্ডিশন। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া দলগুলির পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব ফেলবে। যদি উইকেটে স্যুইং ও সিম থাকে, তাহলে পেসারদের সামলাতে ব্যাটসম্যানদের বেগ পেতে হবে। এই ক্ষেত্রে ভারতের উভয় সংকট। একদিকে শর্ট পিচে ভারতীয়দের দুর্বলতার কথা এখন ওপেন সিক্রেট। অন্যদিকে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনাআপের তুলনায় পেস বোলিং এটাক যেন বড্ড বেশি নির্বিষ। এক বুমরাহ ছাড়া অন্য কেউ তেমন ধারাবাহিক পারফরমেন্স করতে পারছেন না। তবে এক্ষেত্রে ধোনিদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে বিগত দশ বছরে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভারতীয় পেসারদের পারফরমেন্স। ২০০৭ টি-টিয়োন্টি বিশ্বকাপ জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আরপি সিং, শ্রীশান্ত। টুর্নামেন্টের চমক ছিল আরপি সিং,শ্রীশান্তের বোলিং। ২০১১ বিশ্বকাপে এসে জহির খান তো যৌথ ভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিই হয়েছিলেন। ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইশান্ত, ভুবনেশ্বরের হাত ধরেই ভারতের শিরোপা জয় পূর্নতা পেয়েছিল।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণ তাপমাত্রা বেশি থাকলে উইকেটে স্পিন ধরতেও পারে। তাহলে রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন তো রয়েছেই। সাম্প্রতিক পারফরমেন্স বিবেচনায় কোহলি, রাহানে ছাড়া বাকি ব্যাটসম্যানদের উপর পূর্ন আস্থা রাখতে পারছেন না সমর্থকেরা। সুপার ফর্মে থাকা গম্ভীর, উথাপ্পা, রায়নাদের বাদ দিয়ে কেন শিখর ধাওয়ান, যুবরাজদের নেওয়া হল তা নির্বাচকমণ্ডলীই ভালো বলতে পারবেন। ডেথ ওভারে বোলিং এবং পাওয়ার প্লে-র বোলিং নিয়ে বাড়তি কাজ করতে হবে। এক বুমরাহর উপর ভরসা করতে পারছেন না ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। মিড্ল অর্ডারে যুবরাজ সিং সম্ভবত মাথাব্যথার সবথেকে বড় কারণ। তাই রাহানেকে মিডল অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।

সবকিছু মিলিয়ে ভারতের দলটাকে মন্দ বলা যাবে না। কোহেলির উপর নির্ভর করছে ক্রিকেটের পরাশক্তিদের সাফল্যের অনেকখানি।

Leave a Reply