ক্রিকেটের অধিনায়কেরা!

১.
‘অধিনায়ক’ – ক্রিকেটের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। সব দলীয় খেলাতেই একজন অধিনায়ক থাকে কিন্তু ক্রিকেটে অধিনায়কের গুরুত্ব যতখানি অন্য কোন খেলায় খুব সম্ভবত এতটা নেই। মাঠে থাকা অবস্থায় অধিনায়ককেই মূহুর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হতে হয়। বোলিং পরিবর্তন, ব্যাটসম্যানের দূর্বলতা বুঝে ফিল্ডিং পরিবর্তন, অফ ফর্মে থাকা কোন খেলোয়াড়কে সমর্থন দেয়া, সব খেলোয়াড়দের সাথে সম্পর্ক নিজের ঠিক রাখা আর সাথে সাথে নিজের ফর্মের দিকে লক্ষ রাখা – কাজ গুলো নিঃসন্দেহে কঠিন। মাঠের বাইরেও অধিনায়কের অনেক কাজ।
মনে করুন একজন অধিনায়কের নিজের ব্যাটিং ফর্মই খুব বাজে অবস্থায় আছে, এই অবস্থায় আরেকজন ব্যাটসম্যানের দূর্বলতা নিয়ে কথা বলাটা একটু বিব্রতকর। আবার মনে করুন হয়তো দলের কোন বড় স্টার অফ ফর্মে আছে, তাকে দল থেকে সাময়িক বাদ দিয়ে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার কথা হয়তো ভাবছেন। একজন অধিনায়কের জন্য সেই কাজটাও সহজ হবে না। কিন্তু এর ভেতর দিয়েও দলের কথা চিন্তা করে কাজ গুলো তাকে করতে হয়।
ব্যাটিং বা বোলিং এর মতো অধিনায়কত্বও একটা স্পেশালাইজড ব্যাপার, নেতৃত্ব বিষয়টা অনেকটাই সহজাত । তবে অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েও অনেকে ভালো অধিনায়ক হতে পারে। সমস্যা হচ্ছে কোন খেলোয়াড় ব্যাটিং বা বোলিং দিয়ে দলে সুযোগ পেতে পারে কিন্তু কিছুটা ভালো খেলোয়াড় না হলে শুধু অধিনায়কত্ব দিয়ে দলে সুযোগই পাবে না। তাই একজন ব্যাটসম্যান বা বোলারের ভেতর অধিনায়কত্ব বিষয়টা না থাকলেও সমস্যা নেই, কিন্তু একজন অধিনায়ককে প্রথমেই বেষ্ট এলিভেনে সুযোগ পাওয়ার মতো একজন ভালো খেলোয়াড় হতে হবে।
ভালো অধিনায়কের শুধু দল পরিচালনায় সফল হলেই হবে না; কোন ম্যাচে বা সিরিজে দল খারাপ করলে সেই খারাপ সময়টাকে সামলানো, ভবিষ্যতের জন্য দলকে তৈরী করা, নতুন নতুন প্রতিভা খুজে বের করা, নতুন নতুন আইডিয়া বের করা, সতীর্থদের কাছ থেকে সেরা খেলাটা বের করে আনা – এমন আরো অনেক কাজ আছে। দলের সেরা খেলোয়াড়টিকেই সাধারণত অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু সেই সেরা খেলোয়াড় ব্যর্থ হলে বাধ্য হয়ে অন্য কাউকে সিলেক্ট করতে হয়।

PKT5231 - 378304 IAN BOTHAM CRICKETER 1992 Ian Botham, cricketer.

২.
দলের সেরা খেলোয়াড় অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ এমন খেলোয়াড়ের নাম আনলে শুরুতেই সম্ভবত ইয়ান বোথামের কথা বলতে হবে। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের তালিকার শুরুর দিকেই তার নাম জ্বল জ্বল করবে। কিন্তু অধিনায়কত্ব বোথামের ক্যারিয়ারের এক হতাশাজনক অধ্যায়।
অধিনায়ক হিসেবে বোথাম অভিষেকেই ৫৭ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলেন কিন্তু এরপর ২০ টি ইনিংসে আর কোন ফিফটি নেই। টেষ্টে ২৭ বার ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন কিন্তু এর কোনটাই অধিনায়ক হিসেবে নয়। অধিনায়ক হিসেবে ১২ টেষ্টে বোথামের অর্জন ১৩.১৪ গড়ে মাত্র ২৭৬ রান এবং ৩৫ উইকেট। ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেষ্টে বোথাম দুই ইনিংসেই শূণ্য রানে আউট হলে নির্বাচকেরা বোথামকে অধিনায়কের পদ থেকে মুক্তি দেন। এরপর বোথাম যা করেছিলেন তা রুপকথার একটা অংশ হয়েই থাকবে । ১২ টেষ্ট পর অধিনায়কত্ব ছেড়ে সাধারণ খেলোয়াড় পেলেন ৯৫ রানে ৬ উইকেট। ব্যাটিং এ দুই ইনিংসে ৫০ ও ১৪৯। কিন্তু সংখ্যা দিয়ে বিষয়টাকে বুঝানো যাবে না। সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ফলো অনে পড়ার পর টেল এন্ডারদের নিয়ে ১৪৯ রান করেছিলেন বোথাম। এই ইনিংসের কারণেই ইংল্যান্ড জয় পায়। গত ৫০ বছরের সেরা ৫০ টি টেষ্ট পারফর্মেন্সের তালিকায় এটা দ্বিতীয় হয়েছে।

50241481
খেলোয়াড় হিসেবে ব্যর্থ না হলেও অধিনায়ক হিসেবে গত দশকের সেরা দুই খেলোয়াড় শচীন টেন্ডুলকার আর ব্রায়ান লারাকে ব্যর্থই বলা যায়। যদিও অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেও তাদের ব্যাটিং এ তেমনটা মরচে ধরে নি। শচীনের অধিনায়ক থাকা অবস্থায় টেষ্ট গড় ৫১.৩৫ আর অধিনায়ক না থাকা অবস্থায় ৫৪.১৬, দুটোই গ্রেট। অধিনায়ক থাকা অবস্থায় লারার টেষ্ট গড় ৫৭.৮৩ আর অধিনায়ক না থাকা অবস্থায় ৫০.১২। তারা দুজনেই অবশ্যই একটা কারণ দেখাতে পারেন যে তাদের দল তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী ছিল প্রতিপক্ষদের তুলনায়। কিন্তু তুলনামূলক ভাবে কম শক্তিশালী দল নিয়েও অন্যান্য অনেক অধিনায়ক যেভাবে লড়াই করেছেন তা এই দুজন করতে পারেনি। শচীনের পর সৌরভ তো মোটামুটি শচীনের দলটা নিয়েই সাফল্য পেয়েছিলেন। লারা কিংবা শচীনের মাঝে অধিনায়কসুলভ বিষয়টা সেভাবে ছিল না।

1440125106583
৩.
অধিনায়কদের জন্য আরেকটা উল্লেখযোগ্য গুণ হচ্ছে নিজে পারফর্ম করে উদাহরণ সৃষ্টি করা। রিকি পন্টিং এর একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে তার দলটা সর্বকালের সেরা দলের একটা হওয়ায় অধিনায়কত্বে তেমন কিছু করার সুযোগ ছিল না। ম্যাকগ্রা, ওয়ার্নের মতো বোলার আর হেইডেন, গিলক্রিষ্ট, বেভান, মাইক হাসি দের মতো ব্যাটসম্যান থাকায় প্রতিপক্ষ দলগুলো খুব কম সময়েই তাকে ঝামেলায় ফেলতে পেরেছে। দল যত ভালো হবে একজন অধিনায়কের নৈপূন্য দেখানোর জায়গা তত কমে যাবে। কেউ একজন বলেছিলেন, ‘একজন অধিনায়ক ততটাই ভালো যতটা ভালো তার দল’।
তবুও ভালো দল পাওয়াটা একজন অধিনায়কের দোষ নয়, এটা ভাগ্যের একটা ব্যাপার। এখন দেখার বিষয় সেই ভাগ্যটা কে কতদূর ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন। স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস দল ভালো পেয়েছিলেন। লয়েড উইন্ডিজের দায়িত্ব নেয়ার পর অধিনায়ক হিসেবে ১৮ টি টেষ্ট সিরিজ খেলেন। এর মাঝে হারেন মাত্র ২ টা সিরিজ, ড্র করেন ২ টা, বাকি ১৪ টা সিরিজ জয় পান। ওয়ানডের কথা চিন্তা করুন, ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলেছেন ৮৭ টি, এর ৮৪ টিতেই ক্যাপ্টেন ছিলেন। ওয়ানডেতে টুর্নামেন্ট আর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছেন ১৯ টি। হেরেছেন মাত্র ৪ টি সিরিজে। এই সময়ে দুই বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, এক বার রানার্স আপ।
অধিনায়ক হিসেবে স্টিভ শুরুতেই সর্বজয়ী দল পাননি, তার দলটা ভালো ছিল কিন্তু তখনো পরিপূর্ণ ছিল না। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম সিরিজেই ভঙ্গুর উইন্ডিজের সাথে সিরিজ ড্র করে লারার একক নৈপূণ্যের কাছে হার মেনে। এরপর শ্রীলঙ্কার মাঠে গিয়ে সিরিজ হারেন। তারপরেই শুরু হয় স্টিভের জয়যাত্রা। এ সময়ে স্টিভের অধীনে অষ্ট্রেলিয়া ১৬ টি সিরিজ খেলেন। মাঝে লক্ষনের অসাধারণ ২৮১ রানের কাছে ১ টি সিরিজ হারলেও ১৩ টি সিরিজ জিতেন আর মাত্র দুটি সিরিজ ড্র করেন। স্টিভ তার অধিনায়কত্ব ৫৭ টি টেষ্ট খেলে ৪১ টি জয়ের বিনিময়ে মাত্র ৯ টি টেষ্ট হারেন। জয় পরাজয়ের অনুপাত ৪.৫৫ যা যে কোন অধিনায়কের মাঝে সর্বোচ্চ। সর্বকালের আরেক সেরা অধিনায়ক লয়েডের জয় পরাজয়ের হার মাত্র ৩.০।
পন্টিং এর অধীনে অষ্ট্রেলিয়া খেলে ২৭ টি টেষ্ট সিরিজ; এর মাঝে ২০ টি সিরিজই জেতেন, ৬ টি সিরিজ হারেন আর ১ টি ড্র করেন। এই সময়ে পন্টিং আরাধ্য প্রায় সব কিছুই জয় করেন। এই সময়ে ওয়ানডেতেও দূর্দান্ত ছিল অষ্ট্রেলিয়া, তার অধীনেই দুইবার বিশ্বকাপ জেতে অষ্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষের দিকে ম্যাকগ্রাথ আর ওয়ার্নের অবসর কারণে অষ্ট্রেলিয়া দলটা অনেকখানিই দূর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়া দলের সফলতার জন্য এককভাবে কাউকে ক্রেডিট দিলে অন্য অন্য জনকে অসম্মান করা হবে। কারণ অষ্ট্রেলিয়ার এই সফলতা একজনের কারণে আসে নি। বোর্ডার যখন দায়িত্ব নেন তখন অষ্ট্রেলিয়ার অবস্থা মোটামুটি ভাঙ্গা গড়ার মাঝে দিয়ে যাচ্ছিল। তার অধিনায়কত্বে অষ্ট্রেলিয়া ২৭ টি সিরিজ খেলে যার মাঝে জিতে মাত্র ১০ টি সিরিজ, ড্র করে ৭ টি আর ১০ টি সিরিজে হারেন। তার সফলতার হারও খুব বেশি নয় কিন্তু অষ্ট্রেলিয়ার আজকের উন্নতির জন্য একটা কাঠামো দাড় করান বোর্ডার। তার নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ জয় করে অষ্ট্রেলিয়া। এরপর বোর্ডার ঘরোয়া ক্রিকেটের দিকে নজর দেন। অষ্ট্রেলিয়ার পরবর্তী কালে যে ডমিনেট করেছে তার ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে বোর্ডারের হাত ধরে। মার্ক টেলর সেই ফাউন্ডেশনের উপর দাঁড়িয়ে বিল্ডিং তুলেছেন, সেই বিল্ডিং কে পাচ তলা করেছেন ওয়াহ আর তাকে সুউচ্চ মিনারে পরিণত করেছেন পন্টিং।
তবে ভালো দল থাকলেই সফল হওয়াটা এত সহজ নয় সেটা ২০০৩ বিশ্বকাপের পাকিস্তান দল আর ২০০৭ বিশ্বকাপের ভারতকে দেখলেই বোঝা যায়। ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তান স্কোয়াডে ছিল সাঈদ আনোয়ার, আফ্রিদি, ইউনুস খান, ইনজামাম, ইউসুফ, আব্দুর রাজ্জাক, রশিদ লতিফ, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সাকলাইন মুসতাক, শোয়েব আকতার। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের স্কোয়াড ছিল গাঙ্গুলী, দ্রাবিড়, সচীন, যুবরাজ সিং, হরভজন, ধোনী, সেবাগ, জহির খানদের মতো খেলোয়াড়। এরপরেও দুই দল সেই বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই বাদ পড়ে। তারমানে ভালো দল পেলেই সফল হওয়াটা সহজ বিষয়টা ঠিক এমন নয়। এখানেও প্রচুর কাজ করতে হয়।

 

clive-lloyd

 

৪.
তবুও বিশেষজ্ঞরা কেন যেন সফল অধিনায়কের তালিকায় সফলদের নাম রাখলেও সেরা অধিনায়কের তালিকায় রানাতুঙ্গার মতো পরিসংখ্যানে অনেক পেছনে থাকা মানুষটার কথাও বলে। আজকের শ্রীলঙ্কা যে সবার কাছে ফেভারিটের মর্যাদা পায় তা কিন্তু রানাতুঙ্গার হাত ধরেই। শিশু শ্রীলঙ্কা কে বড় করার দায়িত্বটুকু পালন করেছেন দীর্ঘদিনের সাথী ডি সিলভাকে নিয়ে। তবে তার কাজ শুধু মাঠেই ছিল না। শ্রীলঙ্কার মুল ক্রিকেট হতো কলম্বোতে। শহরের বাইরে থেকে যত ক্রিকেটার আসতো তার বেশীরভাগেরই আশ্রয় হতো রানাতুঙ্গার বাসায়। এমনকি দলের যে কোন খেলোয়াড়ের বিপদে তিনিই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন । অষ্ট্রেলিয়া সফরে মুরালিকে যখন নো কল করা হয় তখন প্রতিবাদ করে পুরো দল নিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে আসেন রানাতুঙ্গা। শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরে থেকেও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে সাহায্য করে গিয়েছেন রানাতুঙ্গা।
এর মানে হচ্ছে বিশেষজ্ঞরা শুধু জয়ের হারটাকেই মূল্য দেননা, বরং কোন দলকে নিয়ে কতটুকু সফল হওয়া সম্ভব এবং সেই বিচারে একজন কতটুকু সফলতা অর্জন করেছেন সেটাও বিবেচনা করেন। ঠিক এ কারণেই সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের তালিকায় ইমরান খান বা কপিল দেবের নাম যতটা আসে, ভিভ রিচার্ডসের এর নাম সেভাবে আসে না। ইমরান আর কপিল দুজনেই ভঙ্গুর একটা দল পেয়েছিলেন। কপিলকে তো মোকাবেলা করতে হয়েছিল সর্বকালের সেরা দল গুলোর মাঝে একটিকে । আর ইমরান তো আরেক জিনিস। ১৯৯২ বিশ্বকাপে যখন সবাই পাকিস্তানকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছিল তখনই ইমরানের ম্যাজিক। দলের সেরা পারফর্মার ছিলেন না ইমরান কিন্তু সবাই জানে সেই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া হতো না পাকিস্তানের যদি ইমরান দলে না থাকতো।

14650213_1279516965427577_4767600690338830251_n
৫.
অনেক সময় ভালো পারফর্মেন্সের কারণে অধিনায়কত্ব বিষয়টা তেমন হাইলাইট হয়না। ব্র্যাডম্যান আর ভিভ রিচার্ডস ছিলেন অনেকটা সেই ঘরনার। অধিনায়ক হিসেবে ব্র্যাডম্যান কখনো টেষ্ট সিরিজ হারেন নি। তবে তিনি অধিনায়ক ছিলেন মাত্র ৫ টি সিরিজে, চারটিতে জয় পান আর একটি ড্র হয়। এরপরেও যে অধিনায়ক হিসেবে ব্র্যাডমেনের নাম অনেকের আগে আসে না তা তার ব্যটিং এ অতিমানবীয় পারফর্মেন্সের জন্য। ভিভ রিচার্ডস ১২ টি সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন, কোন সিরিজ হারেননি তবে ড্র করেছেন ৫ টা সিরিজ।
‘একজন অধিনায়ক দলের সবচেয়ে সেরা পারফর্মার’ – এমন রেকর্ড কম থাকলেও মোটামুটি পারফর্মার হবে সেটা বলা যায়। কিন্তু প্রতিটি নিয়মেই কিছু ব্যতিক্রম থাকে। ব্যাতিক্রম হিসেবে ইংল্যান্ডের মাইক ব্রিয়ারলি খুব আদর্শ উদাহরণ। ৩৯ টি টেষ্টে ২২.৮৮ গড়ে ১৪৪২ রান কখনোই একজন ইংলিশ খেলোয়াড়ের জন্য আদর্শ নয়। ওপেনিং থেকে শুরু করে ৭ নম্বর পজিশনেও ব্যাটিং করেছেন। তার অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ড খেলেছে ৯ টি সিরিজ; ১ টিতে ড্র আর ১ টিতে হেরে গেলেও বাকি ৭ টি সিরিজে জিতেন। কমপক্ষে ২৫ টি টেষ্টে অধিনায়কত্ব করেছেন এমন অধিনায়কদের মাঝে জয় পরাজয়ের হারে স্টিভ ওয়াহ এর পরেই আছেন ব্রিয়ারলি (৪.৫০)। শুধুমাত্র অধিনায়ক হিসেবেই তাই খেলে গিয়েছিলেন ব্রিয়ারলি। বোথামের কাছ থেকেই অধিনায়কত্ব কেড়ে দেয়া হয় ব্রিয়ালিকে। প্রথম দুই টেষ্টে ১-০ তে সিরিজ পিছিয়ে থাকার পরে পরের চার টেষ্টে তিনটি জিতে অ্যাসেজ জিতেন নেন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। মানুষকে খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারতেন বিধায় খেলা ছাড়ার পরেও পেশাদার সাইকোথেরাপিষ্ট হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন।
৬.
ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়াটাও অধিনায়কদের একটা গুরুত্বপূর্ণ গুণ। অধিনায়ককে পেছনে তাকালে হবে না, বরং সামনের দিকে তাকিয়ে দেখতে হবে। কলিন ক্রফটের জবানীতে একটা ঘটনা বলি। ১৯৮১ সালের একটা ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১২৭ রানে অল আউট হয়ে যায় ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের শেষ ওভারে দেখা গেল জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৩ রান, উইকেটে শেষ জুটি। ক্রফটের তখনো ১ ওভার বাকি, সেই ম্যাচে ক্রফটের পারফর্মেন্স ৯ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট। এর ভেতরে সর্বশেষ ওভারে নিয়েছেন ২ উইকেট। মাঠের সবাই নিশ্চিত শেষ ওভারটা ক্রফটই করবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে লয়েড বল তুলে দিলেন মাইকেল হোল্ডিং এর হাতে। তার যুক্তি ছিল হোল্ডিং ক্রফটের চেয়ে অনেক সোজা বল করেন, তাই তাকে দিয়েই শেষ ওভার করানো উচিত। হোল্ডিং এর দ্বিতীয় বলে অফ স্ট্যাম্প উড়ে যায়, উইন্ডিজ ম্যাচ জিতলো। পরবর্তীতে ক্রফটকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল লয়েডের সেই সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কিনা? ক্রফট অবাক হয়ে বলেছিলেন, ‘কেন অসন্তুষ্ট হবো কেন? আমি নিজেও তো সেটিকেই সঠিক বলে মনে করেছি। এই হলো ক্যাপ্টেন্সি, একেই বলে অভিজ্ঞতা’।
এই গুণটা ইমরানের মাঝেও ছিল। একটা ম্যাচের কথা বলি। নিজের চোখে দেখা হয়নি। আমার মামার মুখে শোনা ঘটনাটা একটু বলার চেষ্টা করি। ম্যাচের শেষ ওভারে রান দরকার ৪। বোলিং এ আসলো ভিভ রিচার্ডস, আকরাম রাজা ১৯ রান করে অপরাজিত। কিন্তু প্রথম দুই বলে রানই নিতে পারলো না। ৪ বলে ৪ রান দরকার এই অবস্থায় ইমরান খান ইচ্ছেকৃতভাবে আকরাম রাজা কে রান আউট করে। তখন ব্যাট করতে নামার কথা আব্দুল কাদিরের কিন্তু ড্রেসিং রুমের দিকে ইমরান খান ইশারা করে দেখালেন বা হাতি ব্যাটসম্যান নামানোর জন্য। ইমরানের ইশারায় নামলেন ওয়াসিম আকরাম। ইমরান ১ রান নিয়ে স্ট্রাইক দিলেন ওয়াসিমকে, প্রয়োজন ২ বলে ৩ রান। ওয়াসিম প্রথম বলেই ৬ মারলেন, ১ বল হাতে রেখে নেহরু কাপ চ্যাম্পিয়ন হল পাকিস্তান। ইমরান কিভাবে বুঝেছিলেন শেষ ওভারে বাহাতি ব্যাটসম্যানই বাজিমাত করতে পারবে? দূরদর্শিতার জন্য ব্যাপক ভাবে প্রশংশনীয় ছিলেন ইমরান খান।
এই দূরদর্শিতার জন্যই আধুনিক সময়ের অধিনায়কদের মাঝে ধোনী ব্যাপক প্রশংসনীয়। অধিনায়ক থাকা সময় এমন অনেক কিছু করেছেন যা প্রচলিত ক্রিকেটিয় চিন্তার বাইরে। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সফলতা পেয়েছেন। তবে ধোনী টি-২০ আর ওয়ানডের তুলনায় টেষ্টে কিছুটা অসফল। ভারতীয় দলের সফল অধিনায়ক হিসেবে আজহার আর কপিলের কথাও মনে রাখতে হবে। কিন্তু ভারতীয় দলের মানসিকতা পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছিলেন সৌরভ। সৌরভ খুব ভালো জহুরীও ছিলেন। উপমহাদেশে অষ্ট্রেলিয়া বা সাউথ আফ্রিকার মতো সেরকম কোন একাডেমি নেই। তাই খেলা দেখেই একজন খেলোয়াড় বাছাই করতে হয়। যুবরাজ, হরভজন, জহির খান, ধোনি, সেবাগ দের মতো খেলোয়াড় সৌরভের আবিষ্কার ছিল যারা পরবর্তীতে ভারতের হয়ে বেশ ভালো সার্ভিস দিয়েছিলেন। এই গুণটা ইমরানের মাঝেও ছিল। সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম, ওয়াকার ইউনুস, মুশতাক আহমেদ, মঈন খান – এরা সবাই ইমরানের আবিষ্কার।
৭.
তুলনামূলক দূর্বল দলের হয়ে তেমন সফলতা না পেলেও অনেক অধিনায়ককে সেরার তালিকায় আনা হয়। নিউজিল্যান্ডের স্টিফেন ফ্লেমিং এমনই একজন অধিনায়ক ছিলেন। নিউজিল্যন্ডের অনেক খারাপ সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেখান থেকে সফলতাও পেয়েছেন। তবে এরপরেও নিউজিল্যান্ডের সেরা ক্যাপ্টেন বললে ৯০ দশকের অনেকেই মার্টিন ক্রোর নামটা নিয়ে আসবেন। সাধারণ একটি দলকে প্রায় বিশ্বজয়ী বানিয়ে ফেলেছিলেন ক্রো ১৯৯২ এর বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে একমাত্র পাকিস্তানের সাথে ম্যাচটিতে হারে। সেমিতে ৮৩ বলে ৯১ রান করে রান আউট হলেও নিউজিল্যান্ড বড় স্কোর করেন। ফিল্ডিং এর সময় ইনজুরির জন্য মাঠে নামতে পারেন নি। প্রায় হেরে যাওয়া সেই ম্যাচ যে পাকিস্তান জিতে নিল এর কারণ হিসেবে অনেকেই ক্রোর অনুপস্থিতিকে মনে করেন।
খারাপ অবস্থায় দায়িত্ব পেয়েছিলেন গ্রায়েম স্মিথও, সাউথ আফ্রিকাকে একটা ট্র্যাকে রেখেছিলেনও। কিন্তু এরপরেও কি তাকে সর্বকালের সেরা সাউথ আফ্রিকান অধিনায়ক বলা যাবে? ক্রনিয়ের নামটা মনে রাখতে হবে। যদিও ম্যাচ ফিক্সিং এর জন্য ক্রনিয়ের ভাবমূর্তি কিছুটা নষ্ট হয়েছিল। তবুও ৯০ এর দশকে যে সাউথ আফ্রিকাকে একটা যন্ত্রের মতো দলে পরিণত করে ফেলেছিলেন তার চালক ছিলেন ক্রণিয়ে।
মিসবাহ উল হকের কথাও ভুলে গেলে চলবে না। দলের সেরা খেলোয়াড়েরা ফিক্সিং এর অভিযোগে বাইরে, ঘরের মাঠে খেলতে পারছে না, দলটাও ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এত প্রতিকুলতার পরেও দলকে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বারের মতো টেষ্ট র্যাংেকিং এ ১ নম্বরে নিয়ে আসাটা অবশ্যই সফলতা। পরিসংখ্যানে জিম্বাবুয়ের সেরা অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক হলেও অলিষ্টার ক্যাম্পবেলকেই অনেকে এগিয়ে রাখবেন।
তবে অধিনায়ক হতে পারতেন কিন্তু নানা কারণে হননি এমন তালিকা করলে আমি ওয়ার্নের নামটা নিয়ে আসবো। ওয়ার্নের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা ছিল সহ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে নেওয়া। এই ক্ষেত্রে অবশ্য ইমরান খানও খুব পারদর্শী ছিলেন। তবে শেন ওয়ার্ন তার প্রাপ্য সুযোগটা পাননি নানা কারণে। অনেকে হয়তো এটাও জানে না যে স্টিভ ওয়াহর পরবর্তী অধিনায়ক ওয়ার্নেরই হওয়ার কথা ছিল। এমনকি ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপের আগে স্টিভকে বাদ দিয়ে ওয়ার্নকেই অধিনায়ক হিসেবে চিন্তা করা হচ্ছিল। বিশ্বকাপ শুরুর আগের সিরিজেই ওয়েষ্ট ইন্ডিজের মাঠে ২-২ এ টেষ্ট সিরিজ ড্র করে । আবার ওয়ানডে সিরিজেও ৩-৩ এ ড্র হয়। খর্বশক্তির উইন্ডিজের সাথে এই ড্রটা হারের সমতূল্যই ছিল বিপরীতে এর আগের টুর্নামেন্টেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড আর শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে বেশ কিছু নৈপূন্য দেখিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করান। কিন্তু অষ্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক হওয়ার জন্য যে চারিত্রিক স্থিরতার প্রয়োজন ওয়ার্নের মাঝে সেটির অভাব ছিল। তবে জাতীয় দলের হয়ে না পারলেও পরবর্তীতে আই.পি.এল এ ওয়ার্নের কিছুটা নমুনা দেখা গিয়েছে। আই.পি.এল এর প্রথম সিজনে ফেভারিট না হয়েও সাধারণ মানের দলকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। পরের সিজন গুলোতেও যথেষ্ট ভালো পারফর্মেন্স করেছিল।

 

images

৮.
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক কে? আসলে বিচার করার জন্য সময়টা খুবই কম। আকরাম খান, বুলবুল, দূর্জয়, আশরাফুল, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ – এদের কেউই আসলে খুব ভালো দল পায়নি। মোটামুটি ভালো একটা দল পেয়েছে সাকিব, মাশরাফি আর মুশফিক। যেই মূহুর্তে দলটা গড়ে উঠছিল তখন কিছুটা সময় পেয়েছিল হাবিবুর বাশার। তবে বাশারকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমি অন্যতম সেরা একজন অধিনায়ক মনে করি। মুশফিকের অধিনায়কত্ব আমার কাছে অনেকটা প্রেডিক্টেবল মনে হয়। সেই তুলনায় সাকিব অনেক স্মার্ট। নতুন নতুন আইডিয়া, ম্যাচের মূহুর্তে মাঠে থাকা অবস্থাতেই তরিৎ সিদ্ধান্ত – বিষয়গুলো তাকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পারফর্মেন্স। সাকিব বাংলাদেশের জন্য ধারাবাহিক একজন পারফর্মার। অনেকটা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া বলতে যা বোঝায়। কিন্তু অফ দ্য ফিল্ডে সাকিব কিছুটা পেছনে।
এই অফ দ্য ফিল্ডে এগিয়ে থাকার কারণেই মাশরাফি সাকিবের চেয়ে এগিয়ে যায়। এমন নয় যে মাশরাফির অন দি ফিল্ডের রেকর্ড খারাপ, তবে অফ দি ফিল্ডের ভুমিকাটা অনেক বেশি। যে কোন দলগত খেলায় শুধু নিজে ভালো খেললেই হয়না, সতীর্থদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে হয়। এই কাজে মাশরাফি অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে তার অধিনায়কত্বের কথা বাদই দেই, ২০১৫ সালের ৩য় বি.পি.এল এর জন্য যখন দল গঠন করা হচ্ছিল তখন বিগত দুই বারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটসের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কোন দল খুজে পাচ্ছিলেন না। দল গঠনের সময় সবার চোখ ছিল সাকিব, তামিম, রিয়াদ, মুস্তাফিজ, মুশফিক, সাব্বির, নাসির, তাসকিনদের মতো পারফর্মারদের উপর। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানের মালিক নাকি প্রথমে মাশরাফিকে দলে পেয়ে খুশি হতে পারছিলেন না। খুশি না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছুও ছিল না। ইনজুরিপ্রবণ একজন খেলোয়াড়ের বোঝা কে বইতে চাইবে?
মাশরাফিকে বাদ দিলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানের অন্যান্য খেলোয়াড়গুলোও শ্রেষ্ঠ মানের ছিল না। ইমরুল কায়েস অনেক আগেই টি ২০ এর জন্য অপাংতেয় ঘোষিত হয়ে গিয়েছিল, অলক কাপালীর নামই তো অনেকের মনে নেই। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঢাকার কাছে হেরে যাওয়াটা তাই কারো কাছে অবাক করার মতো কোন বিষয়ের ছিল না। কিন্তু আস্তে আস্তে মাশরাফি তার যাদু দেখাতে শুরু করেন। ১২ ম্যাচের ৯ টিতে বল করে ৩৭.৪০ গড়ে ৫ উইকেট কিংবা ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭ ইনিংসে ২০.৪০ গড়ে ১০২ রান তাকে ঠিকভাবে চেনাতে পারবে না। গ্রেট খেলোয়াড়ের একটা বড় গুণ হচ্ছে সে তার আশেপাশের সাধারণ খেলোয়াড়কেও গ্রেটের সমতূল্য বানিয়ে ফেলে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আবু হায়দারকে কয়জন চেনতো। ইমরুল কায়েস তো এই সংষ্করণের জন্য প্রায় বাতিলের পর্যায়েই ছিল। অথচ টুর্নামেন্ট শেষে দুজনেই সর্বোচ্চ উইকেট আর রানের তালিকায় দুই নম্বরে। তারকা সমৃদ্ধ অন্যান্য দলকে টপকিয়ে কুমিল্লার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যে মাশরাফির সেটা যে কেউই বুঝে। এবারের বিপিএল এও মাশরাফি হয়তো কুমিল্লাকে শেষ চারে নিতে পারতো কিন্তু দলের ম্যানেজম্যান্টের কিছু লোকের ভুলের কারণে সেটা আর হয়ে উঠে নি।
তিন সংষ্করণের ক্রিকেটেই সবচেয়ে বেশী উইকেট সাকিবের, দেশ সেরা অলরাউন্ডার তো অনেক আগেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও এক নাম্বার অল রাউন্ডার। সবচেয়ে বেশী রান তামিম ইকবালের। কিন্তু এরপরেও একজনকে পছন্দ করলে বেশির ভাগ মানুষ বেছে নিবে মাশরাফিকে। মাশরাফি টাইপ খেলোয়াড়দের মাঝে আলাদা কিছু ব্যাপার আছে যা কিনা অন্য দশজনের চেয়ে তাকে আলাদা করে তোলে। এটাই একজন অধিনায়কের অনেক বড় গুণ।
৯.
অনেকের মতেই অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের সেরা অধিনায়ক রিচি বেনো অধিনায়কত্ব সম্পর্কে বলেছেন, ‘ অধিনায়কত্বের শতকরা ৯০ ভাগই ভাগ্য আর ১০ ভাগ হলো দক্ষতা। কিন্তু ঈশ্বরের দোহাই, ওই ১০ ভাগ ছাড়া ওটা চেষ্টা করতে যেও না’। ওই ১০ ভাগকেই যারা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন তারাই সফল, আর ব্যর্থরা সবসময় ভাগ্যেকেই অজুহাত হিসেবে দাড় করায়।
তবে ক্রিকেটের বুড়ো ডাব্লিউ জি গ্রেস সকল অধিনায়কদের জন্য একটা উপদেশ দিয়ে রেখে গিয়েছেন যা কিনা পরিস্থিতি বিরুপ না হলে বেশিরভাগ সময়েই মানার চেষ্টা করেন। উপদেশটা বলি, ‘ টস জিতলে প্রথম ব্যাট করো। যদি তোমার মনে কোন সংশয় থাকে তাহলে আরেকবার ভাবো, তারপর ব্যাট করো। তারপরেও যদি সংশয় থাকে তাহলে সহ খেলোয়াড়দের সাথে পরামর্শ করো, তারপর ব্যাট করো’।
বেশিরভাগ অধিনায়কই এই পর্যন্ত এটা মেনে চলার চেষ্টা করে। ভাগ্য বিষয়টা এ কারণেই অনেক সময় এসে পড়ে। কারণ ম্যাচ শুরুর আগের টসটা অনেক সময়েই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এতটুকু বাদ দিলে অধিনায়কের বাকি বিষয়টাতে ভাগ্যের ভূমিকা আমার কাছে খুব অল্প মনে হয়।

Leave a Reply