কাপ্তান ভিক্টোরিয়ান

কাপ্তান ভিক্টোরিয়ান

টিম ক্যাপ্টেন মাশরাফি।

বোধহয় এই একটা শব্দই বিপিএল এর চতুর্থ আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সম্ভাবনা বুঝিয়ে দিতে যথেষ্ট।

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। কথাটা গত আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের ক্ষেত্রে খুব খাটে। নতুন আসর শুরুর কিছুদিন আগে দল গঠন টি২০’র তথাকথিত কোনো বিগহিটার ছাড়াই মাঠে নামা। তারচেয়েও বড় কথা অন্য ফ্র‍্যাঞ্চাইজিরা যখন ব্যস্ত নিজের দল কত স্ট্রং তা প্রমাণে, কুমিল্লার মালিক তখন প্রকাশ্যে দল নিয়ে নিজের আক্ষেপের কথা বলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। জানিয়েও দিলেন এমন আইকন না পেলেই খুশি হতেন।

বিপিএল শেষে দেখা যায়, সেই আইকনই ট্রফি হাতে স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে। দলের মালিক তখন সেই মুহূর্তের মুগ্ধ দর্শক। যেই জয়ে অন্য খেলোয়াড়দের যত ভূমিকা ছিলো, আইকনের ভূমিকা কোনো অংশে কম তো নয়ই হয়তো কিঞ্চিৎ বেশিই। ব্যাটিং দিয়ে না, বোলিং তো ইঞ্জুরি নিয়ে করতেই পারেন নাই। মাঠে স্রেফ দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্যাপ্টেন হিসেবে। তাতেই দল চ্যাম্পিয়ন।

এবারও তিনি একই দলে। ম্যানেজমেন্ট আরো গোছানো। টিমটাও কি নয়?

ওপেনিং-এ ইনফর্ম ইমরুলের সাথে দেখা যেতে পারে লিটন দাসকে। ফর্মে না থাকার ঝাঁজটা বিপিএলেই হয়তো মিটিয়ে ফেলবেন। তিনি না পারলেও আছেন শান্ত। বয়সভিত্তিক দলে এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে বইয়ে আসা রানের বন্যার কিছুটা এবার বিপিএল এ ছুটানোর পালা। ব্রিটিশ পাকিস্তানি আসহার জাইদির গতবারের পারফরমেন্স আশাবাদী করতেই পারে কুমিল্লার সমর্থকদের। সাথে স্লোয়ার বোলার মাস্টার সোহেল তানভীর।১৮ বছরের তাজা রক্ত রাশিদ খান, যার লেগ স্পিন মায়াবী বিভ্রম। ক্যারিবিয়ান হাওয়া আনার জন্য জেসন হোল্ডার। সব মিলিয়ে কমপ্লিট প্যাকেজ।

শুধু এতটুকু দেখেই থেমে না থাকে,আপনি তাকাতে পারেন বাকিদের দিকেও। ইমাদ ওয়াসিম, কুলাসেকারা, থিসারা পেরেরা একাই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম যেকোন পরিস্থিতিতে। কিংবা কে জানে, নাম না বলা জসিমউদ্দিন বা সৈকত আলির কেউ হয়ে গেলেন কুমিল্লার স্বপ্নের সারথি।

একটু বেশিই কি প্রশংসা হয়ে যাচ্ছে? দলে কি সমস্যাও নেই?

লিটন দাসের টি২০ পারফরমেন্স যদি কুমিল্লার চিন্তার কারণ হয়,তবে ওয়ান ডাউনে অনভিজ্ঞ শান্ত কেমন করে, তা নিয়ে ম্যানেজমেন্টের ঘুম হারাম হতেই পারে। এছাড়া বাকি দিকগুলো নিয়ে তাদের চিন্তার কারণ দেখছি না।

আর চিন্তার কারণ থাকলেই বা কি? জাদুর কাঠি নিয়ে ভাঙা পায়ের লোকটা আছেন না? কোচ মিজানুর রহমান বাবুলকে নিয়ে,যা করার উনিই করবেন। কুমিল্লার যে এক মাশরাফি আছে। কুমিল্লার সমর্থকরা আশাবাদী হতেই পারেন।

Leave a Reply