কম্যান্ডার অফ দ্যা অর্ডার অফ দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার – কলিন কড্রে

ইংল্যান্ড এর ইতিহাসে যতগুলো অসাধারণ ব্যাটসম্যান এসেছে তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর ব্যাটিং কৌশলে মুগ্ধ হয়ে থাকত প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও। জন্ম তৎকালীন মাদ্রাজ প্রদেশের উটিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়, তাঁর বাবার পরিচালিত চা বাগানে। শুধু তিনিই নন তাঁর বাবার জন্মও হয়েছিল এই ভারতবর্ষেই। কোলকাতায় জন্ম নেয়া এই ইংলিশ পরিবার পরবর্তীতে মাদ্রাজে বসবাস করতে শুরু করেন ব্যবসার খাতিরে। ভারতবর্ষে জন্ম নিলেও ছিলেন তো ইংলিশ! রক্তচোষা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে আসা তারপর সাম্রাজ্যবাদের অংশ। যাই হোক আবার খেলার অঙ্গনেই ফিরে যাওয়া যাক।

পুরো নাম মাইকেল কলিন কড্রে। জন্ম ২৪ শে ডিসেম্বর ১৯৩২। ক্রিকেটের হাতেখড়ি বাবার কাছ থেকেই পান তিনি। তাঁর বাবাও এক সময় প্রফেশনাল ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিল। পাঁচ বছর বছর পর্যন্ত ভারতবর্ষেই কাটিয়েছিলেন তিনি। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব আর সাম্রাজ্যবাদ খুব বেশি দিন টিকবে না বুঝতে পেরেই কলিন এর বাবা সিদ্ধান্ত নেন ছেলেকে নিয়ে পারি দিবেন ইংল্যান্ডে। ১৯৩৮ এর এপ্রিলে কলিনকে নিয়ে আসা হয় ইংল্যান্ডে তাঁর দাদির কাছে। শুরু হয় কলিন এর নতুন জীবন। স্কুল ক্রিকেটে অবশ্য শুরু করেছিলেন উইকেটকিপার হিসাবে। সাত বছর বয়সেই তাঁর ক্রিকেট জাদুর ঝলক দেখানো শুরু হয়। অনূর্ধ্ব-১১ এর একটি গেমে ৯৪ রান করে সবাইকে মুগ্ধ করেন তিনি। এই ম্যাচ নিয়ে অবশ্য একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল। শতরানের থেকে ছয় রান দূরে থেকেই শতকের উদযাপন করেন তিনি। পরে ৯৪ রানেই আউট হয়ে ফিরে গেলে মনঃক্ষুণ্ণ হন তিনি। সেঞ্চুরি না পাওয়াটা মনে হয় তাঁর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। তাঁর স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার স্যার জ্যাক হবস এর কাছে একটি চিঠি লিখেন কলিন এর ইনিংস নিয়ে। স্যার জ্যাক হবস চিঠির প্রতি উত্তর এর পাশাপাশি একটি ব্যাট উপহার দেন কলিনকে যা তাঁর জন্য অনুপ্রেরনা হয়ে কাজ করে।

Dear Master Cowdrey,
I have just heard about your wonderful performance of scoring 94 out of a total of 135. Please accept my heartiest congratulations. It is a pity you could get nobody to stay long enough to get your hundred, but I head you are very keen on the game and feel sure you will score many centuries in the years to come. I shall watch your career with interest and I wish you the very best of health and fortune.
Yours sincerely,
JB Hobbs

১৯৫০ সালে কেন্ট এর হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পদার্পণ করেন তিনি। ক্যারিয়ারে কেন্ট, এমসিসি এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি দলের হয়ে খেলেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১০৭টি শতক আর ২৩১টি অর্ধ শতকের মাধ্যমে ৪২৭১৯ রান সংগ্রহ করেন তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের মতোই টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি ছিলেন আপন আলোয় উজ্জ্বল। ১১৪টি টেস্ট থেকে ৭৬২৪ রান করেন। সেঞ্চুরির সংখ্যা ২২টি।

মাইকেল কলিনই প্রথম ক্রিকেটার যিনি ১০০ টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেন। ক্রিকেটে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭২ সালে সিবিই (কম্যান্ডার অফ দ্যা অর্ডার অফ দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার) এওয়ার্ডে ভূষিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে নাইটহুড এ্যাওয়ার্ডেও সম্মানিত করা হয় তাঁকে।

২০০০ সালের আজকের এই দিনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কলিন কড্রে এর মৃত্যু দিবসে জানাই শ্রদ্ধাঙ্গলি।

Leave a Reply