বিপিএল এর ঢাকা নাকি ঢাকার বিপিএল

বিপিএল তো ঢাকারইঃ

শিরোনাম দেখে চমকে গেলেন? ভাবছেন কার পাল্লায় পড়লাম, শুরুর আগেই ঢাকার হাতে ট্রফি তুলে দেয়। ক্লিয়ার করি তাহলে। শুধু বিপিএল বলাটা ভুল হবে, বিসিবিও ঢাকার – আপনি এটাও বলতে পারেন।

ঢাকা ডিনামাইটসের মালিকপক্ষ বেক্সিমকো গ্রুপের একজন চাকুরে বিসিবি সভাপতি। এতটুকু শুনেই ঘাবড়ে যাবেন না। বিপিএল গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ইসমাইল হায়দার মল্লিকও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বি.পি.এল কার সেই সিদ্ধান্ত এখন নিতান্তই আপনার। এতটুকু বলেই শেষ করলে মনে হবে, এখানে বুঝি ঢাকার সাথে আমার পুরোনো কোনো শত্রুতার ঝাল ঝাড়লাম। মাঠে তো আর কর্মকর্তারা খেলবেন না, প্লেয়াররাই খেলবেন। সেখানে তাকালেও আপনি স্বীকার করতে বাধ্য হবেন, নাহ ঢাকার সাথে পারা কঠিনই বটে।

ফরম্যাটটাই এমন, হালকা ব্যাটিং, ঝাপসা বোলিং দিয়েই কাজ চালায় নেওয়া যায়। আদর করে যাকে অলরাউন্ডার বলি আমরা। আর এক টিমে যদি একই সাথে থাকেন সাকিব আল হাসান, চ্যাম্পিয়ন ব্রাভো আর আন্দ্রে রাসেল – তাহলে বিপক্ষের সম্ভাবনা কোথায়। ১ম জন এই ফরম্যাটের সেরা অলরাউন্ডার,পরের জন সেরা বোলার হলে শেষ জন শুধুই পাওয়ার।

আসলে বিপক্ষ দল তাদের ব্যাটিংয়ে নামাতে পারেন নাকি, তা নিয়েও ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কুমারা সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনে নামের দুই মহিরূহকেও দলে টেনে নিয়েছে তারা আগেই। সাথে বল শুধু উড়বে – এই নীতিতে বিশ্বাসী এভিন লুইস। ৩ অলরাউন্ডার একটু বেশিই ফেমাস দেখে আগে বলা হলো, দলের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, শুধুই অলরাউন্ডারের ছড়াছড়ি। রবি বোপারা, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন নামগুলোকে অস্বীকার করেন কিভাবে? শুধু ব্যাটিং বা বোলিং দিয়ে অনায়াসে যেকোনো দলে চান্স পেতে সক্ষম এদের মাঝে যে কেউ।

যত প্লেয়ার বললাম, শুধু তাদের নিয়েই একাদশ বানালে বিপক্ষের বিপদস্য শীঘ্রম। বোলিং ডিপার্টমেন্ট তাহলে বাদই যাবে। ওয়েইন পারনেল, সেকুগে প্রসন্ন, মোহাম্মাদ শহীদ কিংবা ইংলিশদের কাঁপন ধরানো তানভীর হায়দারের যে কেউ হতে পারেন ঢাকার স্বপ্নের চাকা।

টিম ম্যানেজমেন্ট, প্লেয়ার সব দিক মিলিয়ে ঢাকাই যে কাগজে-কলমে সেরা তা সবাই স্বীকার করবেন। কিন্তু অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্টপ্রবাদটা ঢাকার মনে আছে কি?

মনে না থাকলেই ভালো, তবেই তো এক সংস্করণ বিরতি দিয়ে আবারো ঢাকার হাতে উঠবে ট্রফি। বিপিএল শুধুই ঢাকার কথাটা তখন আক্ষরিক অর্থেই বলা যাবে।

Leave a Reply