ইংলিশ গ্রীষ্ম : ক্রিকেট শত্রু?

বৃষ্টি।
এই শব্দটা শোনামাত্র কবিদের চোখ হয়ত ভরে যায় রোমান্টিকতায়, গল্পকাররা হয়ত লিখে ফেলেন দিব্যি এক প্রেমের উপন্যাস, কিন্তু এই শব্দটা শোনামাত্র এক দল মানুষের ভ্রু কুচকে যায়, তারা শুরু করেন নাক সিটকানো।

সেই দলটা বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীর দল। বৃষ্টি মানেই খেলায় বাগড়া, মাঠ ঢেকে খেলোয়াড়দের উঠে যেতে হবে। আবার আছে এক ডার্কওয়ার্থ লুইস, এই বেরসিক নিয়ম ব্যাটা প্রায়ই খেলাকে পেচিয়ে ফেলেন, গুলিয়ে ফেলেন। তাই, অধিকাংশ ক্রিকেট ভক্তের চোখের বালি এই বৃষ্টি, যদি না সমর্থিত দল বিপদে পড়ে!

যাই হোক, শিরোনামে একটা প্রশ্ন রেখেছি, ইংলিশ গ্রীষ্ম কি ক্রিকেটের শত্রু নাকি! উপরের অংশ পড়ে অধিকাংশ পাঠকই বুঝে গেছেন ইংলিশ গ্রীষ্মের চেয়ে বৃষ্টির দিকেই আমার আঙুলটা বেশী তাক করা। তা কেন আঙুল তুলবো?

১ তারিখ শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের পর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ৫টি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে, ফল পাওয়া গেছে ৩টির। না না দুইটি ম্যাচ টাই হয়নি, এখনও উত্তেজনার জন্ম দেয়নি ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, দুটো ম্যাচই বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত। এই লেখাটা লিখার সময় দেখছি কার্ডিফে হওয়া ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচটি, এখানেও বৃষ্টি হচ্ছিলো, তবে খেলা বন্ধের মত না। তবে তা সেই পর্যায়ে যেতে কতক্ষণ!

বাংলাদেশ ইংল্যান্ড ম্যাচটা বেশ চমৎকারভাবেই উপভোগ করেছে ক্রিকেট প্রেমীরা। গোলটা বাধলো গিয়ে তাসমানিয়ান ডার্বিতে। নিউজিল্যান্ড এর ইনিংস বৃষ্টির কারণে বারবার বাধাপ্রাপ্ত, এরপর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং কিছুদূর যেতে না যেতেই আবার সেই বৃষ্টির বাগড়া। এবার আর খেলা হলো না, পয়েন্ট ভাগাভাগিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দুই দলকে। গ্রুপ বি এর পরের ম্যাচটা বৃষ্টির বাধামুক্ত, প্রোটিয়া লংকানদের ম্যাচটা যদিও জমলো না, তবু বৃষ্টির চেয়ে ক্রিকেট ভালো। পরের ম্যাচটা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত পাকিস্তানের, পাকিস্তানের অধঃপতন এ আগের আবেশ হারালেও, এখনও ম্যাচটা থাকে হাই ভোল্টেজ। সেই ম্যাচেও বারবার বৃষ্টি বাগড়া, ওভার কমিয়ে খেলা হলো। আর শেষ পর্যন্ত, গত কালকে হওয়া বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের প্রথম ইনিংসটা বৃষ্টিবিহীন শেষ হলেও, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ১৬ ওভারের পরই থেমে গেলো, বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ক্যাঙ্গারুরা বেশ নাখোশ হতেই পারেন!

এবার নতুন নয়, প্রায়ই ইংল্যান্ড এ জুন জুলাই মাসে ক্রিকেট মানেই এরকম বৃষ্টিময়, থেমে থেমে খেলা হওয়া। স্মৃতি প্রতারণা না করলে, গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অনেক ম্যাচ, এমনকি ফাইনালেও বাগড়া দিয়েছিলো বৃষ্টি, যার ফলাফল ছিলো ২০ ওভারের ফাইনাল! অন্তত ফাইনালে কেউ এরকম দৈর্ঘ্যে কমে আসা ম্যাচ দেখতে চায় না, বেরসিক বৃষ্টি আবারও ফাইনালে ক্রিকেটপ্রেমীদের এভাবে বঞ্চিত করতে পারে বটে!

দোষ কি আইসিসির? চাইলে তাকে দিতেও পারেন, এরকম সময় হওয়া টুর্নামেন্ট ঠিক এমন এক জায়গায় দেওয়া যেখানে সেই সময়ে বৃষ্টির ঠিক ঠিকানা নেই। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে আইসিসির দোষ দেখি না, প্রকৃতির লীলা বোঝা বড় দায়!

যাই হোক, শেষ পর্যন্ত তাই আগের প্রশ্ন রেখেই যাচ্ছি, ইংলিশ গ্রীষ্ম কি ক্রিকেটের শত্রু নাকি?
উত্তরটা নাহয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষ হলেই যাচাই করে নেবেন!

(বি.দ্র. – ইংল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ম্যাচে রোদের ঝলক দেখা যাচ্ছে। আশা করি, এই রোদ পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে চলুক, আর আমার আকারে ইঙ্গিতে ইংলিশ গ্রীষ্মকে ভিলেন বানানোকে ঝলসে দিক)

Leave a Reply