অবশেষে জয় এলো ভিক্টোরিয়ান্সের দুয়ারে

টানা চারটি ম্যাচ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স হেরেছে। হেরেছে বললে ঠিক দলের অবস্থাটা বুঝানো যাবেনা, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লড়াইটা ছিলো নিজেদের সাথেই। ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতা, ভুলের বৃত্তে আটকে থাকা টিম সিলেকশনে বিপর্যস্ত ছিলো কুমিল্লা শিবির।
অবশেষে চট্ট্রগ্রামে দেখা দিলো জয়। একটি জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলো দল। আর হারতে থাকা দল মানেই অসুখী পরিবার। অসুখী পরিবারে হাসি ফোটাতে একটি জয় খুব দরকার ছিলো। অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজাও সেদিন বলছিলেন একটি জয়ই বদলে দিতে পারে সবকিছু। সেই জয়টা বড্ড দেরী করে এলো কিনা সেই বিতর্কে না যাওয়াই ভালো। আপাতত ভিক্টোরিয়ান্সদের নবযাত্রার সূচনা ধরে নেয়াই শ্রেয়।
রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা এবার ব্যাটিং কম্বিনেশনে কিছুটা পরিবর্তন করে। জাতীয় দল থেকে বিপিএলে যেতে যেতেই ফর্ম হারানো ইমরুল কায়েসকে নামিয়ে দেয়া হয় মিডেল অর্ডারে। উপরে নাজমুল হোসেন শান্তের ৪০ উর্দ্ধ ইনিংস আর মাঝে ইমরুল কায়েসের ৩৪ রানের সাথে সোহেল তানভীর আর রায়ান ডেসকাট এর ছোট্ট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসে কুমিল্লা ১৫০ এর গন্ডি পেরোয়। শিশির ভেজা মাঠে এই রান যথেষ্ট ছিলো কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু এই রানটা যে বোলারদের মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ড্যারেন স্যামির রাজশাহী কিংস শুরুটা ভালোই করেছিলো। ওপেনার মমিনুল নজড় কাড়ছিলেন। একমাত্র মমিনুলই আসলে ব্যাটিং করেছেন। টেষ্ট ব্যাটসম্যানের তকমা পাওয়া মমিনুল ৪৩ বলে ৫৩ রানের ঝকমকে এক ইনিংস খেলেছেন। আর অন্য প্রান্তে ছিলো আসা যাওয়ার মিছিল। দুই অংক ছুঁয়েছেন কেবল দুইজন। রাজশাহীর ব্যাটিং অর্ডারকে তাসের ঘরে পরিণত করেছেন মূলত সোহেল তানভীর আর তরুন উদীয়মান পেসার সাইফুদ্দিন। দুইজন যথাক্রমে নিয়েছেন ৪ টি আর ৩ টি করে উইকেট। সাথে অধিনায়ক মাশরাফির এক আর রায়ান ডেসকেটের এক উইকেটে ১২০ রানেই থেমে যায় রাজশাহীর ইনিংস।
স্বস্তিকর আর মহামূল্যবান জয়ের দিনে ম্যাচসেরা সোহেল তানভীর।

Leave a Reply