একদিনের ক্রিকেটে বাঘ কুমারদের যত হ্যাটট্রিক

ফুটবল যদি হয়ে থাকে গোলের খেলা, ক্রিকেট হল রানের খেলা। রানের খেলা ক্রিকেটে বোলারদের প্রতিটি উইকেট পেতে যেখানে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়, সেখানে ৩ বলে ৩ উইকেট পাওয়া প্রতিটি বোলারের কাছেই স্বপ্নের মত। সেই স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখা যে খুব একটা সহজ নয় সেটা একদিনের ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিকের দিকে নজর দিলেই বুঝা যাবে। ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে একদিনের ক্রিকেটের পথচলা শুরু হয়েছিল । এরপর দেখতে দেখতে ১১ বছর কেটে গেলেও কোন বোলার একদিনের ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের দেখা পায়নি। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হয়েছিল ১৯৮২ সালে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন পাকিস্তানের গতি তারকা জালালউদ্দীন। এরপর আরো ৪০ বার এই কীর্তি দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। ওয়ানডেতে মোট হ্যাটট্রিক সংখ্যা ৪১টি হলেও হ্যাটট্রিকম্যান বোলারের সংখ্যা মাত্র ৩৬। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা একাই তিনবার এই কীর্তি গড়েন। দুটি করে হ্যাটট্রিক আছে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, সাকলায়েন মুস্তাক এবং শ্রীলঙ্কার চামিন্দা ভাসের। এছাড়া আর কোন ক্রিকেটারের একাধিক হ্যাটট্রিক নেই।

বাংলাদেশের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন তাসকিন আহমেদ। তবে তাসকিনই প্রথম নন, তাসকিনের আগে আরো চারজন টাইগার একদিনের ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলারদের হ্যাটট্রিকগুলো।

প্রথম হ্যাটট্রিক: বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন পেসার শাহাদাত হোসেন। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে উতসেয়া, মুফাম্বিসি এবং চিগুম্বুরাকে আউট করে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন জাতীয় দলের এই পেসার। তবে সেই ম্যাচ নিশ্চয় ভুলে যেতে চাইবেন মাশরাফি। সেই ম্যাচে পরাজয় সঙ্গী হয়েছিল টাইগারদের। শেষ ওভারে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ১৭ রান। কিন্তু মাশরাফি দিয়ে বসেন ১৯!

দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক: জাতীয় দলের স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ২০১০ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন। রাজ্জাকের শিকার ছিল উতসেয়া, প্রাইস এবং এমপফু। শাহাদাতের হ্যাটট্রিকের প্রায় চার বছর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।

তৃতীয় হ্যাটট্রিক: পেসার রুবেল হোসেন ২০১৩ সালে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন। রুবেল হ্যাটট্রিক করার পথে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছিলেন এন্ডারসন, ম্যাককালাম এবং নিশামকে।

চতুর্থ হ্যাটট্রিক: ওয়ানডে অভিষেকেই স্পিনার তাইজুল হ্যাটট্রিক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ক্রিকেট ইতিহাসে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করা একমাত্র ক্রিকেটার তিনিই। ২০১৪ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। চাতারা, নিয়াম্বু, পানিয়াঙ্গারাকে আউট করে তিনি এই কীর্তি গড়েন।

পঞ্চম হ্যাটট্রিক: বাংলাদেশের হয়ে পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে হ্যাটট্রিকের গৌরব অর্জন করেন পেসার তাসকিন আহমেদ। মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের শেষ ওভারে গুনারত্নে, লাকমল, প্রদীপকে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন তিনি।

Leave a Reply