পুনেতে ঘোর বিপদে ভারত

প্রথম টেস্ট, দ্বিতীয় দিনের সমাপ্তি। প্রথম দিনের ৯ উইকেটে ২৫৫ রান নিয়ে শেষ উইকেটে খেলতে মাঠে নামেন বিপদের কান্ডারি স্টার্ক ও সঙ্গ দেওয়া হাজলিউড। বোলার হিসেবে উভয়ের পরিচয় বহন করলে ও স্টার্কের অল রাউন্ডারিং নৈপুণ্যে আড়াইশ অতিক্রম করতে সক্ষম হয় অজিরা। স্টার্ক হাজলিউডকে নিয়ে প্রথম দিনেই করে ফেলেছিলেন ক্যারিয়ারের নবম হাফসেঞ্চুরি। আজ সকাল বেলা মাত্র ৫ বল খেলতেই অজিদের দশম উইকেটের পতনের মধ্য দিয়ে প্রথম ইনিংসের পরিসমাপ্তি ঘটে। মিচেল স্টার্ক ৬৩ বলে ৬১ রানে অশ্বিনের বলে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

২৬০ রানের লক্ষে ভারতের কোহলি বাহিনী প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। ২৬ রান নিতেই ভারতে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। মুরালি বিজয় ১০ রান করে হাজলিউড এর বলে ওয়েড এর তালু বন্ধি হন। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে আসেন পূজারা। রাহুল ও পূজারা দলের কিছুটা হাল ধরতে চাইলে ও ৪৪ রানে আবার ধাক্কা দেন বিশ্বের অন্যতম বোলার স্টার্ক। পুজারা ৬ রান নিয়ে আউট হওয়ার পর দল নেতা বিরাট কোহলির ব্যাট করতে মাঠে আগমন। কেউ কি ভেবেছিল ভারতকে হতাশ করে ২ বলে আউট হয়ে যাবেন সেরা রান চেঞ্জার খ্যাত কোহলি? পূজারা আউটের ১ বল পর স্টার্কের বলে ০ রানে আউট হয়ে সাজ ঘরে ফিরতে হয় কোহলিকে। মাত্র ৪৪ রানে ৩ টি উইকেট খুইয়ে বসে ভারত। লুকেশ রাহুল এগ্রেসিভ মোডে খেলতে থাকেন। সঙ্গি রাহানেকে নিয়ে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছিল ভারত। দলীয় ৯৪ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন হলে কেউ ভাবে নি মাত্র ১১ রানে ঘুটিয়ে যাবে হোম গ্রাউন্ডের অন্যতম ফেভারিটররা! ও’কিফি ও কি ভাবছিলেন এমন বোলিং পার্ফরমেন্স করবেন! লুকেস রাহুলকে আউট করেন অজি স্পিনার ও’কিফি। রাহুল বিগ শট খেলতে গিয়ে স্মিথের তালুবন্ধি হন। দলীয় লাঞ্চ থেকে দ্বিতীয় সেশন, ১১ রানের মধ্যেই ৭ উইকেটের পতন। এর মধ্যে ৬ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার স্টিভ ও’কিফি, আর একটি উইকেট নেন নাথান লিওন। গোটা ভারত গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৫ রানেই। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার লোকেশ রাহুল (৬৪)।

৯৪- ৪ , ৬৪ রান করে ও’কিফির বলে আউট লোকেশ রাহুল।
৯৫-৫ , ১৩ রান করে ও’কিফির শিকার অজিঙ্কে রাহানে।
৯৫-৬, কোনও রান না করেই ও’কিফির বলেই উইকেট দেন ঋদ্ধিমান সাহা।
৯৫-৭ , ১ রান করে নাথান লিওনের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আর অশ্বিন।
৯৮ -৮, ২ রান করে ও’কিফিকে উইকেট দেন জয়ন্ত যাদব।
১০১-৯ , ২ রানে ও’কিফির বলেই আউট হন রবীন্দ্র জাদেজা।
১০৫-১০ , ভারতীয় ইনিংসের শেষ উইকেটের পতন হয় উমেশ যাদবের উইকেট দিয়েই। ও’কিফিই উইকেট তুলে নেন। ভারতের মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান দু’অঙে পৌছাতে সক্ষম হয়। এরি মধ্যে ইনিংসে নিজেদের ঘরের মাঠে, অজিদের সাথে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংসের লজ্জায় ডুবতে হয় ভারতকে। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ে ১০৪ রানে অল আউটটি ছিল অজিদের সাথে ঘরের মাঠে ভারতের সর্বনিম্ন ইনিংস।

১৫৫ রানের তাজা লিড পায় অজিরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামেন ওয়ার্নার ও শন মার্শ। কিন্তু ইনিংস ও অশ্বিনের প্রথম ওভারের ষষ্ট বলে এল বি আউট হয়ে যান ওয়ার্নার। ব্যক্তিগত ১০ ও দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে অজিদের। অজি ক্যাপ্টেন স্মিথ ক্রিজে আসলে ও দলীয় ২৩ রানে শূন্য রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন সঙ্গি মার্শ। উইকেটে আবার ধাক্কা আনেন কম টেস্ট খেলে আড়াইশ উইকেটের রেকর্ড গড়া অশ্বিন। তৃতীয় উইকেট জুটিটে পিটার হ্যান্ডসকম কে নিয়ে স্মিথ ৩৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। অজিরা ৬১ রানে ৩ উইকেট হারালে ও ততক্ষণে তাদের লিড দাঁড়ায় ২১১ রান। হ্যান্ডসকম ব্যাক্তিগত ১৯ রানে অশ্বিনের বলে পূজারার তালুবন্ধি হন। এক পর্যায়ে হাফ সেঞ্চুরিয়ান স্মিথ একে একে ২৩, ২৭, ২৯ রানে তিনটি জীবন পান। ক্যাচ মিসতো ম্যাচ মিসের সত্যি হয়ত প্রতিফলন ঘটবে। চতুর্থ উইকেটে মাট রেন্সাওকে নিয়ে ৫২ রানের এক দার্শনিক জুটি বাঁধেন অজি অধিনায়ক স্মিথ। ১১৩ রানে দিনের শেষ ও অজিদের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটলে ও স্মিথের দক্ষ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে ও মিচেল মার্শকে সঙ্গে নিয়ে ১৪৩-৪ দিন শেষ করে অজিরা। স্মিথ ৫৯* ও মার্শ ২১* রানে অপরাজিত আছেন। দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া লিড পেয়েছে ২৯৮ রানের। ভারতের হয়ে অশ্বিন ১৬ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া জয়ান্ত যাদব ৫-২৭-১ উইকেট নেন।

Leave a Reply