খুলনা টাইটান্স এবং ক্যাপ্টেন কুল

বিপিএল এর এবারের আসরে খুলনা টাইটান্স দলকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? এক কথায় যদি বলতে হয় তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যায় ‘ অদম্য লড়াকু সৈনিক’। নিশ্চিত পরাজয়কে জয়ের সাফল্য বদলে দেয়ার ক্ষমতা মনে হয় শুধুমাত্র এই দলটিরই আছে। আর এই লড়াকু দলটির যোগ্য সেনাপতি দ্যা সাইলেন্ট কিলার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দ্যা ক্যাপ্টেন কুল। দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকেই। বিপিএল এর যুদ্ধক্ষেত্রে খুলনা যখন পরাজয়ের খুব কাছে, দলের সেনারা হয়ত আশা ছেড়েই দিচ্ছিলেন। তখনই সেনাপতির হুংকার। আমরা পারবই, আমাদের পারতেই হবে!

বিপিএল এর প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে খুলনাকে টেনে নিলেন এই দক্ষ সেনাপতি। ব্যাট হাতে করলেন মুল্যবান ৩২টি রান। দলের সংগ্রহ ১৩৩ রান। টি২০ এর ধুন্ধুমার ব্যাটিং এর জন্য এই স্কোর খুব একটা বেশি ছিল না। তবে ঐ যে বললাম, অদম্য লড়াকু সৈনিক। খুলনা টাইটান্স এর মন্ত্রটা সম্ভবত ছিল; ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী’। শেষ পর্যন্ত তাই হল। ১৯ ওভার শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১২৭ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৭ রান। সেই সময়েই রুদ্রমূর্তি হয়ে আবির্ভাব ক্যাপ্টেন কুল এর। মাত্র তিন রান দিয়ে শেষ তিন উইকেট নিয়ে দলকে নিয়ে গেলেন জয়ের বন্দরে।

আবারো খুলনা টাইটান্স, আবারো একই রুদ্র মূর্তি। এবারের প্রতিপক্ষ চিটাগাং ভাইকিংস। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১২৭ রানের পুঁজি খুলনার। মাত্র এই কয়টি রান কিভাবে ডিফেন্ড করবে? না দুশ্চিন্তার কিছুই নেই। দলটা যে খুলনা টাইটান্স। আর এই দলটার ত্রাণকর্তা সাইলেন্ট কিলার যে মাঠেই উপস্থিত। ১৯ ওভার শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ১২২ রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন মাত্র ৬ রান। জয়টা যেন চট্টগ্রামেরই, শুধু সময়ের অপেক্ষা। শেষ ওভারে আবারো সেই চিরচেনা রূপে ক্যাপ্টেন কুল। প্রথম বলে ১ রান। ব্যাস এতটুকুই চট্টগ্রামের বাকি পাঁচ বল যেন আয়নাবাজির ধোঁকা। বাকি পাঁচ বলে কোন রান না দিয়েই তিন উইকেট নিলেন মাহমুদুল্লাহ।

নিশ্চিত পরাজিত হবার জায়গা থেকে জয় ছিনিয়ে আনা যেন অভ্যাসে পরিণত করেছে খুলনা টাইটান্স। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে বিপিএলের এবারের আসরের মুকুটটা হয়ত দেখতে পাব খুলনার হাতেই। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হুঙ্কারটা ভালোই দেখাচ্ছে খুলনা টাইটান্স। ক্যাপ্টেন কুল এবং তাঁর দলের এই হুঙ্কারটা অব্যাহত থাকুক বিপিএল এর পুরোটা আসরে।

Leave a Reply