সেপ্টেম্বরেই বিদায় শ্রীলংকান রাজপুত্রের

২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ মনে রাখার মত বেশ কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে আমাদেরকে। মাইকেল ক্লার্কের ভেজা চোখে বিশ্বকাপ ট্রফি উচিয়ে ধরা, ওয়াহাব রিয়াজের ওয়াটসনকে কাপিয়ে দেয়া জ্বালাময়ী সেই স্পেল, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার পর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট উচিয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করা, নাক উচু ইংলিশদেরকে উড়িয়ে দেওয়ার পথে রুবেল হোসেনের এন্ডারসনের স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়া সেই ইয়র্কার, বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে টানা চার সেঞ্চুরি করার পর আধুনিক ক্রিকেটের গ্রেট ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারার ব্যাট উচিয়ে স্মিত হাসি। অস্ট্রেলিয়া – নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ আরো একটি কারনে সমর্থকদের মনে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে। এই বিশ্বকাপ দিয়েই শেষের শুরু হয়েছিল তর্ক সাপেক্ষে ব্রাডম্যান পরবর্তী যুগের সেরা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারার।

সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান বিশ্বকাপকেই বেছে নিয়েছিলেন একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর জন্য। ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেই এই ফরম্যাটকে বিদায় বলেছিলেন। এরপর ভারতের সাথে খেলে ফেলেন সাদা পোশাকে নিজের শেষ ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও দাপটের সাথে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। এবার সেখান থেকেও বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের মৌসুম শেষেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সিংহলিজদের হয়ে খেলেছেন ১৩৪ টেস্ট, ৪০৪ ওয়ানডে আর ৫৬টি টি-টোয়েন্টি। ক্যারিয়ারে তার অর্জন যেকোন ক্রিকেটারের জন্যই ঈর্ষনীয়। টেস্টে রান করেছেন ৫৭ গড়ে যা কেনো ব্যাটসম্যানের জন্যই প্রশংসনীয় । ক্যারিয়ার শেষে রানের পাল্লাটাও বেশ ভারি করে নিয়েছেন। সাদা পোশাকে ১২ হাজার ৪০০ রান করার পথে ৩৮টি শতক আর ৫২টি অর্ধশতক করেছেন ; যার বেশিরভাগই খেলেছেন ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়ে। দল যখন চরম বিপদে একহাতে সামলেছেন একপ্রান্ত। ওয়ানডেতে রান সংখ্যা ১৪,২৩৪। রঙিন পোশাকে শতক ২৫টি, অর্ধশতক ৯৩টি। টি-টোয়েন্টিতেও রয়েছে ১৩৮২ রান, আটটি হাফসেঞ্চুরি। উইকেটরক্ষক হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে তার ক্যাচ সংখ্যা ৫৮৪, স্ট্যাম্পিং ১১৯টি। টেস্টে উইকেটকিপিং না ছাড়লে হয়ত পাল্লাটা আরো ভারিই হত। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন ৫২৫টি। রান করেছেন ১৯ হাজারের ওপর, শতক ৩৮টি, অর্ধশতক রয়েছে ১১৯ টি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন ২৫৪ ম্যাচ, যেখানে ২০ হাজারের বেশি রান করেছেন। শতক ৬০টি, অর্ধশতক ৮৫টি।

ভারত কোহেলির মাঝে শচীনের ছায়া খুজে পেয়েছে, অজিরা স্টিভেন স্মিথকে ভাবছে ভবিষ্যৎ পন্টিং। কিন্তু শ্রীলংকা কি পারবে সাঙ্গাকারার অভাব পূরণ করতে? এই প্রশ্নটাই তো নিতান্ত অবান্তর। ব্যাট-প্যাড তুলে রেখে হয়ত কোচিং পেশায় মন দিবেন, ধারাভাষ্য কক্ষে সাঙ্গাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাও একবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। যে পেশায় তাকে দেখা যাক না কেন, ব্যাট হাতে ক্রিকেট ব্যাকরনের বাধ্য ছাত্রকে নিশ্চয় মিস করবে ক্রিকেটবিশ্ব।

Leave a Reply