হারিয়ে যাওয়া নাকি ছুড়ে ফেলা?

শেষ পাঁচ ইনিংসে ফিরেছেন ২৩, ১২, ২৭, ৭, ৫ রানে। নি:সন্দেহে বাংলাদেশের টেস্ট আঙিণায় সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আপনি এর চেয়ে ভালো কিছুই আশা করবেন। তবে অন্য সবার চেয়ে পারফর্ম করা একটু বেশিই কঠিন মুমিনুলের জন্য। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি এমনিতেই নিয়মিত নন। অনেক দিন ধরেই রঙিন পোশাকে মাঠে নামা হয় না তার। বাংলাদেশ বছরে যে দুই-একটা টেস্ট খেলে সেখানেই নিজেকে প্রমান করার বাড়তি তাগিদ থাকে।

প্রথম দিকে ব্যাট করতেন চারে। চারে থিতু হওয়ার পর তুলে আনা হয় তিনে। বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের সেরা রুপে নেই। শুরুর দারুণ ব্রাডমেনীয় গড় নেমে এসেছে পঞ্চাশের নীচে। খুব একটা ছন্দে হয়ত নেই তিনি, কিন্তু এই সংস্করণের বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে তার আরো সুযোগ অবশ্যই প্রাপ্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমান করার খুব একটা সুযোগও তিনি পাবেন না। জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা এখন অনেকটা অলিম্পিকের ১০০ মিটার দৌড়ের মত। একবার পিছিয়ে গেলে সামনে আসা বড্ড কঠিন।

বাংলাদেশের ইতিহাসের একমাত্র পেস বোলার হিসেবে টেস্ট সিরিজে সিরিজ সেরার পুরস্কার পাওয়া রবিউল ইসলামকে ভাবা হচ্ছিল টেস্ট স্পেশালিষ্ট হিসেবে। স্পিন নির্ভর বাংলাদেশ দলে তার পারফরমেন্স খারাপ বলা চলে না। হঠাত করেই ইনজুরির কারনে দলের বাইরে, এরপর আর সুযোগ দেয়া হয়নি ফিটনেসের ঘাটতির কথা বলে। নিজেকে প্রমান করার সুযোগই পাচ্ছেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পিনিং ট্রাকে পেসারদের তো তেমন সুযোগই দেয়া হয় না।

সাকিবের পর দেশসেরা অলরাউন্ডার। এই কথাটা শুনলে বোধহয় স্বয়ং নাসির হোসেনও আপত্তি করবেন। অনেক দিন ধরেই অবহেলিত দলে। জাতীয় দলে আসার পর নিজেকে মিস্টার ডিপেন্ডেবলে পরিনত করেছিলেন। এরপর হঠাত করেই ছন্দপতন। ঠিক নাসির সুলভ না হলেও খুব বেশি খারাপ ছিল না তার পারফরমেন্স। ব্যাট হাতে তো মাঠে নামার তো সুযোগই পাচ্ছিলেন না। বল হাতে যখনই সু্যোগ পেয়েছেন খুব একটা খারাপ করেন নি। তারপর জাতীয় লিগে ভালো পারফরমেন্স করলেও নির্বাচকদের সুদৃষ্টি তার উপর আর পড়েনি। বরং তারা শুভাগত হোমের মত মিনি অলরাউন্ডারকে একের পর এক সুযোগ দিয়ে গেছেন। টি-টিয়োন্টি বিশ্বকাপে মিথুনকে টানা খেলানো হয়েছে এক ব্যক্তির জিদের কারনে। তবু নাসির হোসেনের সুযোগ মিলেনি। সাকিব আল হাসানের একজন যোগ্য সঙ্গীর জন্য জুবায়ের লিখন, তানভীর হায়দারের মত অচেনা মুখকেও সুযোগ দেয়া হয়েছে, কিন্তু অবহেলিত থেকে গেছেন আব্দুর রাজ্জাকের মত পরিক্ষিত পারফর্মার।

ইঞ্জুরির কারনে জায়গা হারিয়ে আর দলেই ফিরতে পারেননি অমিত প্রতিভাবান এনামুল হক বিজয়।ঘরোয়া ক্রিকেটে স্বপ্ন ছোয়া পারফরমেন্সও একটা সুযোগ করে দিতে পারে নি নাফিস, তুষার, নাইমদেরকে। এই অবহেলার কারন কি?

কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে এদেরকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না নাকি তাদেরকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছে? একমাত্র সময়ই পারে দিতে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর। তবুও একটা প্রশ্ন থেকেই যায় নাফিস, রাজ্জাকরা কি হারিয়ে যায় নাকি এদেরকে ছুড়ে ফেলা হয়?

Leave a Reply