মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সাতকাহন

উপমহাদেশে ক্রিকেটকে অনেকটা ধর্মের পর্যায়ে নিয়ে গেছি আমরা। যেদিন বাংলাদেশের ম্যাচ থাকে, সবাই একবার হলেও স্কোরবোর্ডে চোখ বুলিয়ে নেই। ঢাকা বা চট্টগ্রামে খেলা হলে গ্যালারিতে একচুল পরিমাণ জায়গা খালি থাকে না। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার যে অনুভূতি, টিভি পর্দায় সেই অনুভূতি লাভ করা কখনোই সম্ভব নয়।

আসুন জেনে নেই, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ‘মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড’ বা ‘এমসিজি’ সম্পর্কে। বলাতো যায় না, যদি কখনো আপনারও সৌভাগ্য হয় সেখানে গিয়ে খেলা দেখার।


‘জি’


ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠ হল ‘মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়াম’। এটি মেলবোর্ন নগরী তথা পুরো ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। স্থানীয় অধিবাসীরা এই মাঠটিকে আদর করে ‘জি’ বলে ডেকে থাকে।

 


ইতিহাস


এমসিজি তে ১৯৫৬ সালে অলিম্পিক গেমস

মেলবোর্নের নগরীর জন্মের মাত্র ২০ বছরের মাথায় ১৮৫৩ সালে স্টেডিয়ামটি স্থাপিত হয়। ১৮৫৯ পর্যন্ত এখানে প্রধানত ফুটবল খেলা হতো। ১৮৭৭ সালে এখানেই ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টেস্ট এবং ১৯৭১সালে প্রথম এক দিনের আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ক্রিসমাসের সময় এখানে অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মাঝে ‘বক্সিং ডে’ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।


তুলনা


‘জি’ সারাবিশ্বে মেলবোর্নের প্রতিনিধিত্ব করে। অপেরা হাউজ যেমন সিডনির, আইফেল টাওয়ার প্যারিসের, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি করে নিউ ইয়র্কের। তীর্থস্থান এমসিজি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের তীর্থস্থান। এর প্রতিটি ঘাসে যেন লেপ্টে ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়।

মজার ব্যাপার হল, অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের প্রান ভোমরাও মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। শুধু ক্রিকেট বা ফুটবল নয় অগণিত ক্রীড়ানুষ্ঠানের সাক্ষী এটি। ১৯৫৬ সালের অলিম্পিক গেমস, ২০০৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস এখানে অনুষ্ঠিত হয়। রোলিং স্টোনের মতো ব্যান্ড এবং ম্যাডোনার মতো পপতারকাও এখানে সঙ্গীতানুষ্ঠান করেছেন।


ক্ষমতা


এমসিজি’র দর্শক ধারণক্ষমতা এক লাখ। বছরে কমপক্ষে ৯০ দিনই এই মাঠে ক্রিকেট বা ফুটবলের বড় কোন আয়োজন থাকে। প্রতিবছর ৩৫ লাখ দর্শক এই মাঠে খেলা উপভোগ করে থাকে। বলাবাহুল্য দর্শক ধারণ ক্ষমতার দিক বিবেচনা করলে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।


গ্যালারি


এই মাঠের গ্যালারিতে তিনটি অংশ রয়েছে। এক অংশ জনসাধারণের জন্য, আরেক অংশ মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যদের জন্য, তৃতীয় অংশটি অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লীগের সদস্যদের জন্য।

বোর্ড মেম্বারদের জন্য গ্যালারিতে নির্ধারিত স্থান

সাধারণত খেলা শুরুর আগেই টিকেট বিক্রি হয়। আবার খেলার দিন স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখেও কখনো কখনো টিকেট পেতে পারেন। খাবার ও পানীয় খেলার সময় মাঠে খাবার ও পানীয়ের স্টল খোলা হয়। লাল সাদা চিহ্ন দেখে খাবারের দোকান খুঁজে বের করতে পারেন। সালাদ, সুসি, স্যান্ডউইচ, কাবাব, বার্গার, চিকেন সবই পাবেন। দীর্ঘ ইনিংসের এক পর্যায়ে আইসক্রিম বা কফি চেখে দেখতে ভুলবেন না কিন্তু।


কোথায় থাকবেন


পায়ে হাঁটা দূরত্বে অনেক হোটেল পেয়ে যাবেন। মেলবোর্নের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক জেলাও মাঠ থেকে খুব একটা দূরে নয়। বিশ্ববিখ্যাত হিল্টন হোটেল থেকে শুরু করে স্বল্পখরচের হোটেল সবই আসেপাশে আছে। আশেপাশের এলাকা এমসিজি রিচমন্ড এবং পূর্ব মেলবোর্নের মাঝাখানে ইয়ারা পার্কে অবস্থিত। মূল শহর থেকে মাঠে হেঁটে গেলে ১৫ মিনিটের মতো লাগবে। উইলিয়াম বারাক ব্রিজ হয়ে ফেডারেশন স্কয়ারের পাস দিয়ে ইয়ারা পার্কে পৌছতে পারবেন।

Leave a Reply