মার্ভ হিউজ – ক্রিকেটের সুমো

মার্ভ হিউজ - ক্রিকেটের সুমো

স্বাস্থ্যটা ঠিক ফাষ্ট বোলার সুলভ ছিল না। উচ্চতাটা মানানসই হলেও (৬’ ৪”) একটু ওভার ওয়েট ছিলেন। ১৯৯৩ সালের অ্যাসেজ ট্যুরে যখন বল করতে শুরু করতেন তখন দর্শকেরা চিৎকার শুরু করতো ‘সুমো’ বলে। ট্রেড মার্ক গোফটা দেখে মনে হতো কোন স্কুলের রাগী হেড মাষ্টার বোধ হয় মাঠে তার পালিয়ে যাওয়া ছাত্রটাকে খুজতে এসেছেন। কিন্তু বল হাতে পেলেই লোকটা প্রতিপক্ষের জন্য চরম ভীতিকর হয়ে উঠতো। ৫৩ টেষ্টে ২৮.৩৮ গড়ে ২১২ উইকেট তার সামর্থ্যের পুরোটুকু বোঝাতে পারছে না। ব্যাটিং এও দুটি অর্ধশতক সহ ১০৩২ রান আছে। তবে এর চেয়ে ভালো পারফর্মেন্স অনেকেরই আছে। কিন্তু একটা ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করে মার্ভ হিউজ অন্য সব ক্রিকেটারের চেয়ে একটু আলাদা হয়ে আছেন।

কি এমন ব্যাতিক্রম কাজ করেছিলেন মার্ভ হিউজ? টেষ্ট ক্রিকেটে হ্যাট্রিক করেছিলেন। কিন্তু এটা একটু কঠিন কাজ হলেও তেমন দূর্লভ কোন কাজ তো নয়। টেষ্ট ক্রিকেটে এই পর্যন্ত ৪২ টি হ্যাট্রিক হয়েছে। এর মাঝে ট্র্যাম্বল, স্টুয়ার্ট ব্রড, জিমি ম্যাথুজ আর ওয়াসিম আকরাম দুটি করে হ্যাট্রিক করে এদের মাঝেও নিজেদের আরেকটু আলাদা করে রেখেছেন। ‘ওয়াসিম আকরামের দুই টেষ্ট হ্যাট্রিক পরপর দুই ম্যাচে ৯ দিনের ব্যবধানে’ এই তথ্যটা যদি আপনাকে মুগ্ধ করে তাহলে ‘জিমি ম্যাথুজের দুই হ্যাট্রিক একই ম্যাচে, একই দিনে’ – এই তথ্যটা আপনাকে বিস্মিত করার জন্য মনে হয় যথেষ্ট। ১৯১২ সালের ২৮শে মের সূর্যটা মনে হয় জিমি ম্যাথুজের জন্যই উঠেছিল। সেই গল্প না হয় আরেকদিন বলা যাবে, আজ হিউজের ঘটনাটাই শুনি।

হ্যাট্রিক পেতে হলে আসলে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা পেতে হয়। খুব ভালো বোলার হলেই হ্যট্রিক পাবে বিষয়টা এমন নয়। সর্বকালের সবচেয়ে কমপ্লিট বোলার বলা হয় যাকে সেই ডেনিস লিলি কিংবা টেষ্টের সর্বাধিক উইকেট শিকারী মুরলিধরণ টেষ্টে কখনো হ্যাট্রিক করতে পারেনি। অথচ মাত্র ২০ টেষ্টে ৭৫ উইকেট পাওয়া ডেমিয়েন ফ্লেমিং টেষ্ট অভিষেকেই হ্যাট্রিক করেন।

টেষ্টে পরপর দুই বলে উইকেট পাওয়া বোলার প্রচুর পাওয়া যাবে। এদের মাঝে ইংল্যান্ডের ওল্ড আর পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরামকে কিছুটা দূর্ভাগাই বলা যায়। ওল্ড পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পাচ বলে চার উইকেট পান। প্রথমে দুই বলে দুই উইকেট, মাঝে এক বল মিস, আবার দুই বলে দুই উইকেট। ওয়াসিম আকরামেরও একই অবস্থা, ৯০-৯১ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ বলে চার উইকেট পেলেও হ্যাট্রিক পাওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অবশ্য ওয়াসিম আকরাম দুটি হ্যাট্রিক করে সেই আক্ষেপ মিটিয়েছিলেন।

মার্ভ হিউজের হ্যাট্রিকের একটা বিশেষত্ব হলো হ্যাট্রিকটা হয়েছিল দুই ইনিংস মিলিয়ে। কিন্তু এ কাজেও তো তিনি নিঃসঙ্গ নন, কোর্টনি ওয়ালশ আর জার্মেইন লসনও তো তার সঙ্গী হিসেবে আছেন। কিন্তু একটা জায়গায় তিনি সবার চেয়ে আলাদা, মার্ভ হিউজ আলাদা হয়ে আছেন তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাট্রিক করার কারণে। হ্যাট্রিক পেতে হলে একই ম্যাচে পরপর তিন বলে উইকেট পেতে হয়। এমন হতে পারে এক ওভারের শেষ বলে আর পরের ওভারের প্রথম দুই বলে উইকেট পেল, এতেও হ্যাট্রিক কাউন্ট হবে। কিন্তু তিন ওভারে হ্যাট্রিক, বিষয়টা একটু অদ্ভুত নয় কি?

ম্যাচটা ছিল ১৯৮৮-৮৯ সালের, অষ্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েষ্ট ইন্ডিজের। ম্যাচের ৩৬তম ওভারের শেষ বলে কার্টলি এমব্রোসকে আউট করে প্রথম উইকেট নেন হিউজ। পরের ওভারের প্রথম বলে যখন প্যাটারসনকে আউট করেন তখন ঊইন্ডিজের ইনিংস শেষ। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বলেই গর্ডন গ্রিনিজ কে যখন আউট করলেন তখন নাকি হ্যাট্রিকের বিষয়টা হিউজের মাথায় ছিল না।

রান, উইকেট তো টেষ্ট ক্রিকেট অনেক দেখেছে। কিন্তু তিন ওভারে হ্যাট্রিক, মার্ভ হিউজকে ক্রিকেট ইতিহাসে অমর করে রাখার জন্যই মনে হয় উপরওয়ালা এই কর্মটি করেছেন।

আজ (২৩ শে নভেম্বর) মার্ভ হিউজের ৫৫তম জন্মদিন, জন্মদিনে উনাকে শুভেচ্ছা।

Leave a Reply