বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা সিরিজ জয়

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সুসময় চলছে এখন। বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিনিয়ত নতুন করে নিজেদের চেনাচ্ছে টাইগাররা। হরহামেশাই বাংলাদেশ আজকাল বলে-কয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছে বেশ অনায়াসেই। কিন্তু সব সময় এমনটা ছিল তা কিন্তু নয়। কয়েক বছর আগেও এদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা চাতক পাখির মত অপেক্ষা করত, কখন বাংলাদেশ একটা ম্যাচ জিতবে এই আশায়। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ ব্যাট করে দু’শ রান পার করতে পারলে কিংবা বোলিং করে প্রতিপক্ষকে আড়াই’শ রানের নীচে আটকাতে/অলআউট করতে পারলেই এদেশের কোটি ক্রিকেট পাগল সমর্থক বেজায় খুশী হতেন। আর কোন ম্যাচ লড়াই করে হারতে পারলে যেন জয়ের খুশী নেমে আসতো আমার মত ক্রিকেট পাগলের মনে।

বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকেই একটা জিনিস প্রায় নিয়মিতই দেখতাম;  র‍্যাংকিং এ বাংলাদেশের ঠিক উপরেই থাকতো জিম্বাবুয়ে। আর ঠিক এই কারনেই জিম্বাবুয়ের সাথে খেলার সময় বাংলাদেশের উপর একটা অন্যরকম চাপ থাকতো আর সেই সাথে আমাদের মত সমর্থকদের প্রত্যাশাটাও পাল্লা দিয়ে বেড়ে যেত।

যাই হোক, এবার সেই সিরিজ প্রসঙ্গে আসি। আসলে সেই সিরিজটা আমার মনে দাগ কেটে আছে মূলত খাঁদের কিনারা থেকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর এক অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনীময় পারফরম্যান্সের জন্য। এই সফরের প্রথমে ছিল দু’ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। আর সে সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আর দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ড্র করে বাংলাদেশ সিরিজ জিতে ১-০ ব্যবধানে। এরপরই আসে বহুল আকাংখিত ওয়ানডে সিরিজ।

প্রথম ওয়ানডেঃ

টসে জিতে জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নেয়। ব্রেন্ডন টেইলরের ৫৮, মাসাকাদজার ৫৪ আর সে আমলে বাংলাদেশের জন্য ত্রাস হিসেবে বিবেচিত চিগাম্বুরার ঝড়ো ৪১ রানের সুবাদে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৫১ রান করতে সমর্থ হয়। বাংলাদেশের পক্ষে খালেদ মাহমুদ নেন ৩ উইকেট।

জবাবে বাংলাদেশ এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ১১৮ রান থাকা সত্ত্বেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ৭ উইকেটে ১৬৫ রানে পরিণত হয়। লেট অর্ডারের ব্যাটসম্যানেরা চেষ্টা চালালেও শেষ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ১১ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ অলআউট হয় ২২৯ রানে। বৃথা যায় আশরাফুলের ৪২, রাজিনের ৪০, বাশারের ৩৯ আর শেষ দিকে মাহমুদ-তাপশ বৈশ্যের (যথাক্রমে ৩০ বলে ৩৪ এবং ২৬ বলে ৩৩ রান) ঝড়ো ইনিংস দু’টি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে হন্ডো নেন ৩ উইকেট আর উতসেয়া-পানিয়াঙ্গারা নেন দু’টি করে উইকেট। বাংলাদেশ ম্যাচ হারে ২২ রানে। জিম্বাবুয়ে সিরিজে শুভ সূচনা করে ১-০‘তে এগিয়ে যায়।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ ডগ্লাস হন্ডো (অপরাজিত ৮ রান, ৩৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট আর ১ ক্যাচ)

প্রথম ওয়ানডেতে হেরে বাংলাদেশ বেশ খানিকটা চাপের মুখে পড়ে। টেস্ট সিরিজ জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে নিয়ে সবার প্রত্যাশার পারদ তখন বেশ উঁচুতে ছিল। তাই এই জয় দলের জন্য বেশ বড় একটা ধাক্কা হিসেবেই আসে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেঃ

চট্রগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে টসে জিতে আবারো প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টটেন্ডো টাইবু। নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাড়ায় ৫ উইকেটে ২৩৭ রান। দলের পক্ষে ওপেনার বার্নি রজার্স সর্বোচ্চ ৬৬, অধিনায়ক টাইবু ৬৪ আর মারমুখী চিগাম্বুরা ২২ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সে ম্যাচেই ওয়ানডে অভিষেক হওয়া এনামুল জুনিয়র ২ উইকেট নেন ৩৭ রান খরচায়।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ততোটা ভালো না হলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাবিবুল বাশার আর নাফিস ইকবালের ৯০ রানের জুটি দলকে শক্ত অবস্থায় নিয়ে যায়। কিন্তু এরপরেই শুরু হয় পালাবদলের খেলা। ২ উইকেটে ১৩০ থেকে বাংলাদেশ পরিণত হয় ৭ উইকেটে ১৯২ রানে। শেষ দিকে মাশরাফি আর খালেদ মাসুদ পাইলট চেষ্টা করলেও তা যথেস্ট ছিল না। ৪৭ ওভার ১ বলে বাংলাদেশ ২০৬ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হারে ৩১ রানে। দলের পক্ষে নাফিস ইকবাল সর্বোচ্চ ৫৮, বাশার ৪৪ আর খালেদ মাসুদ অপরাজিত ২৩ রান করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে এমপুফু, হন্ডো আর রজার্স ২ টি করে উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ে সিরিজে ২-০’তে এগিয়ে গিয়ে সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যায়।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ বার্নি রজার্স (৬৬ রান, ২ উইকেট, ১ ক্যাচ আর ১ রান আউট)

এরপরের ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। জিম্বাবুয়ের জন্য সমীকরণটা হয়ে দাঁড়ায় খুব সহজ- বাকি ৩ ম্যাচের যে কোন একটা জিতলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ভুল করার আর কোন পথ থাকলো না। পাহাড় সমান চাপ নিয়ে টাইগাররা এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় আর চট্রগ্রামের মাটিতে সে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামে।

তৃতীয় ওয়ানডেঃ

টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ব্যাটিং নিতে দু’দন্ডও দেরী করেননি। দুই ওপেনার বেশ ভালো শুরু এনে দেন। ৫৮ রানে নাফিসের উইকেট পতনের পর জুটি বাধেন রাজিন আর আফতাব। ৮৯ রানের চমৎকার পার্টনারশীপ করে দলের স্কোর নিয়ে যান ১৪৭ রানে। কিন্তু তারপরে মিডল অর্ডারে ছোট একটা ধ্বস নামে। ১ উইকেটে ১৪৭ থেকে দেখতে দেখতে স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৭৮ রান। এরপরের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪৪ রান। দলের পক্ষে রাজিন সালেহ সুর্বোচ্চ ৭৭, আফতাব ৩৮, হাবিবুল বাশার ১৬, নাফিস ইকবাল ২৪ আর শেষদিকে মাশরাফি বল সমান ২১ রান করেন। পানিয়াঙ্গারা আর উতসেয়া দু’টি করে উইকেট নেন।

সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর জিম্বাবুয়ে রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করে। ৪৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। কিন্তু এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকলে জিম্বাবুয়ে লক্ষ্যমাত্রার কাছে যেতে ব্যর্থ হয়। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪০ রান এলেও পরের দিকে আর বড় কোন জুটি না হওয়ায় জিম্বাবুয়ে ১৩ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় ২০৪ রানে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বার্নি রজার্সের ৫১ আর অধিনায়ক টাইবু’র ৪৬ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানা ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনকে বিদ্ধস্ত করে ফেলেন। এছাড়াও দু’টি করে উইকেট নেন মাশরাফি, খালেদ মাহমুদ আর নাজমুল হোসাইন। বাংলাদেশ সিরিজে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয় ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ মানজারুল ইসলাম রানা (৬ রান, ৪ উইকেট আর ১ ক্যাচ)

সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়া বাংলাদেশ আর সিরিজ জিততে মরিয়া জিম্বাবুয়ে। এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এক মহারণের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।

চতুর্থ ওয়ানডেঃ

দিবা-রাত্রির এই ম্যাচে টস ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয় আর বাংলাদেশ দলপতি হাবিবুল বাশার প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাফিস-আফতাব ৭১ রানের পার্টনারশীপ গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন। এরপর আশরাফুল-খালেদ মাসুদ আর শেষ দিকে রানা’র ছোট কার্যকরী ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪৭ রান। নাফিস ৫৬,পাইলট ৫১, আফতাব ৪৪, আশরাফুল ৩৫ আর মানজারুল ইসলাম রানা ৭ বলে ১৫ রান করেন। জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর ৩ টি আর এমপুফু ২ উইকেট নেন।

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা জিম্বাবুয়েকে অসাধারণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার রজার্স আর ম্যাতসিকেন্যিরি। সিরিজের প্রথমবারের মত শতরানের ওপেনিং স্ট্যান্ড গড়ে তুলে এই দুই ওপেনার বিচ্ছিন্ন হন ১০২ রানের মাথায়। কিন্তু এরপরই বাংলাদেশী স্পিনারদের সাঁড়াশি আক্রমনে জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার খেই হারিয়ে ফেলে। ১ উইকেটে ১০২ থেকে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১১৭ রান। এরপর ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৮৯ রানে। দলের পক্ষে ম্যাতসিকেন্যিরি ৫০, রজার্স ৪৯ আর মাসাকাদজা করেন ৩৩ রান। আর বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সে ম্যাচেই আবার ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া মোহাম্মদ রফিক ৩৩ রানে ৪ আর মানজারুল ইসলাম রানা ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনে ধ্বস নামান। আর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ ২-২’এ সমতায় ফিরে আসে।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ মানজারুল ইসলাম রানা (৭ বলে ১৫ রান, ৪ উইকেট আর ১ রান আউট)

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে আক্ষরিক অর্থেই পরিণত হয় সিরিজ নির্ধারনী অলিখিত এক ফাইনালে। এ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের প্রত্যাশায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। আর এ ম্যাচের একাদশে রাজিন সালেহর পরিবর্তে স্বাগতিকেরা দলে নেয় এনামুল জুনিয়রকে যা কিনা প্রথমবারের মত বাংলাদেশ দলে একই ম্যাচে তিন বাহাতি স্পিনারের অন্তর্ভুক্তি।

পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেঃ

টস ভাগ্য এদিন সফরকারী জিম্বাবুয়ের পক্ষে রায় দেয়। জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয়। ৪৪ রানে ২ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে বড় স্কোরের পথে টিকিয়ে রাখে তৃতীয় উইকেটে পুরো সিরিজে অসাধারণ খেলা রজার্স আর টেইলর জুটি। ৯৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশী সমর্থকদের কপালে ভাজ ফেলে দেন এই দু’জন। ১৩৯ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর আর বড় কোন পার্টনারশীপ না হওয়ায় আর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের ফলে জিম্বাবুয়ে ১ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয় ১৯৮ রানে। রজার্স ৮৪, টেইলর ৩৬ আর টাইবু’র ৩১ রান ছাড়া আর কোন জিম্বাবুয়ান ব্যাটসম্যান উই অংকের রানে পৌছাতে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল, এনামুল জুনিয়র আর রফিক ২ টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশ ১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামে নাফিস আর মোহাম্মদ রফিকের ওপেনিং জুটিতে। নাফিস এ ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি। ৯ রান করে দলীয় ১১ রানের মাথায় প্যাভিলিয়নে ফিরে আসলে দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা চলে আসে। কিন্তু সেই হতাশাকে আনন্দে পরিণত করতে একদমই সময় নেননি ওয়ান ডাউনে নামা আফতাব আর রফিকের জুটি। মাত্র ১৩০ বলে ১৫০ রানের জুটি গড়ার পথে এ দু’জন খেলেন স্বপ্নের মত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। দু’জনেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরী। দুজনের মধ্যে রফিকই ছিলেন বেশী আক্রমনাত্মক। ৬৬ বলে ৭ চার আর ৪ ছক্কার সাহায্যে ৭২ রান করে আউট হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশের সিরিজ জয়কে হাত বাড়ানো দুরত্বে এনে দিয়ে যান। এরপর বাশার-আফতাব জুটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ৫১ বলে ৪১ রানের অপরাজিত পার্টনারশীপের মাধ্যমে। আফতাব আহমেদ অপরাজিত থাকেন ৮৭ বলে ১০ চার আর ২ ছক্কার সাহায্যে খেলা ৮১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে আর দলপতি হাবিবুল বাশার অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৬ চারের সাহায্যে করা ৩৪ রানে। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে ১৭ ওভার (১০২ বল) হাতে রেখে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। জিম্বাবুয়ের পক্ষে পানিয়াঙ্গারা আর চিগাম্বুরা ১ টি করে উইকেট নিলেও তা দলের হার এড়ানোর জন্য যথেস্ট ছিল না, সেটা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশ সিরিজ জিতে ৩-২ ব্যবধানে।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচঃ মোহাম্মদ রফিক (৬৬ বলে ৭২ রান, ২ উইকেট)
ম্যান অফ দ্যা সিরিজঃ বার্নি রজার্স (সিরিজ সর্বোচ্চ রান)

২০০৫ সালের জানুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত এই সিরিজ জেতার এক যুগপুর্তি হচ্ছে আগামী মাসেই। কিন্তু সেই সুখস্মৃতি এখনো মনে লালন করেন কোটি বাংলাদেশী ক্রিকেট প্রেমী। এই সিরিজ জয় বাংলাদেশকে যে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল তা যেন এখনো অম্লান হয়ে আছে প্রতিটি টাইগার খেলোয়াড়-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীর মনে। আশা করি আগামীতেও এমন হাজার হাজার সুখস্মৃতি’র জন্ম দেবে টাইগাররা।

Leave a Reply