জিতেও কি হারলো রাজশাহী?

রাজশাহীর টিম ম্যানেজমেন্টের আজ রাতে ঘুম হবে না, এটা নিশ্চিত। সেমিফাইনালে খেলবো নাকি খেলবো না, এই চিন্তা নিয়ে কারো ঘুম হয় নাকি?

এ এমন এক ম্যাচ, যেখানে স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে, রাজশাহী ৩৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জয়ী। কিন্তু রাজশাহীর দল সংশ্লিষ্টদের মাথায় এ চিন্তা আসা অমূলক নয়, রাজশাহী ৩ বলে পরাজিত। এই ম্যাচে হেরে যাওয়া দল, জয়ী দলকে ঐ ৩ বলেই আটকে দিতে পেরে খুশি।

এ এমন ম্যাচ, যেখানে এক দলের ইনিংসের দৈর্ঘ্য ছিলো ১৩.২ ওভার। ১৩.৫ ওভার ইনিংসের ব্যাপ্তি যেতেই রাতের ঘুম হারাম হওয়ার যোগাড়।

এত ভাবনার কারণ একটাই, এবারের বিপিএল তার সব রোমাঞ্চ নিয়ে হাজির তার পয়েন্ট টেবিলে। যেন মাঠের খেলার ম্যাড়মেড়ে ভাব পয়েন্ট টেবিলের রোমাঞ্চ দিয়েই পুষিয়ে দেওয়ার চিন্তা।

মিরপুরের উইকেট তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উপহার দিলো আরো একটি লো স্কোরিং ম্যাচ। এবারের বিপিএলে চট্টগ্রামের সর্বনিম্ন রান আজকের ম্যাচেই। সেটা এতই কম, পুরো ২০ ওভার খেলে তাদের সংগ্রহ ১১১।

১ম বারের মত এবারের বিপিএলে মূল একাদশে সুযোগ পেয়ে কেসরিক উইলিয়ামস ১ম বলেই দেখালেন তার ভেলকি। ইনফর্ম তামিম ইকবাল আউট তার ১ম বলেই।

২৪ রানের মাঝে আনামুল আর আম্পায়ারের ভুলে জহুরুল ফিরলেও চট্টগ্রামের আশার প্রতীক হয়ে ছিলেন টি২০ এর পোস্টারবয় ক্রিস গেইল। কিন্তু, আজ যে ছিলো ধ্রুবর দিন।

আম্পায়ারের ভুলে নিজের কম উইকেট পেলেও পরের উইকেটটি নিয়ে আজীবন গর্ব তিনি করবেনই। বলের লাইন মিস করে বোল্ড ক্রিস গেইল। সেই পথে ফেরালেন আরো তিনজনকে। চার ওভারে ২১ রানে ৫ উইকেট। যেকোনো প্লেয়ারের জন্যই টি২০ তে এ এক স্বপ্নের সংখ্যা। ১৭ বছর বয়সী ধ্রুব সে সংখ্যার দেখা পেলেন জীবনের ১ম বড় ম্যাচেই।

একে একে গেইলের পথ ধরলেন জাকির, নবি, সাকলাইনরা। কিন্তু তবুও যে চট্টগ্রামের রান ১১১ হলো, তাতে একমাত্র অবদান ধ্বংসসস্তুপের মাঝে এক প্রান্ত আগলে রাখা শোয়েব মালিকের ৫৪ বলে ৬৭ রানের ইনিংসটার। তিন ছয়ের পাশে যেখানে আছে চারটি চারও।

এই ম্যাচ জিততে হলে শুরুতেই উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলা লাগতো রাজশাহীকে। ১ম ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে মুমিনুল তা করেও দিচ্ছিলেন। কিন্তু, গেইল তা ধরে রাখতে পারলে তো!

তবে ম্যাচ শেষে সেই ক্যাচ মিসের আক্ষেপটা আর থাকবে বলে মনে হয় না। বরং সেই ক্যাচ মিসটা তাদের বিপিএল যাত্রা আরো দীর্ঘই করলো, এই কথা ভেবে স্বস্তিও পেতে পারেন গেইল।

পয়েন্ট টেবিলে ২য় হয়ে বিপিএলের সেমিফাইনালে যেতে রাজশাহীর ১১২ রান করা লাগতো ১৩.২ ওভারে। সেই ক্যাচ মিসের সুবিধাকে বরং বুমেরাং প্রমাণ করে মুমিনুল ইনিংস থেকে খেয়ে নিলেন ২৮ টি বল। যদিও তার নামের পাশে ২১ রান, কিন্তু রাজশাহীর মনে তখন ২৮ টি বল বিরাট অপচয়ই। দলের রান তখন ৩৭, ৭.১ ওভারে।

এই মিরপুরের উইকেটে বাকি ৩৭ বলে ৭৫ রান, তখন দিল্লি বহুদূরের মতই।

সেই অসম্ভবকে সম্ভব প্রায় করেই ফেলেছিলেন একজন। জেমস ফ্রাঙ্কলিন। নিখুঁত টাইমিংয়ের প্রদর্শনীতে মাত্র ২৭ বলে তার রান ৬৩।একপর্যায়ে বল আর রানের পার্থক্য নামিয়ে আনেন ৬ বলে ২০ রানে।

কিন্তু, সেই রান করা দূরূহই থেকে যায় তাসকিন আর ইমরান খান জুনিয়রের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। জয়টা তাই ১৩.২ ওভারের পরিবর্তে পিছিয়ে যায় তিন বল।

এই তিন বলের এতই গুরুত্ব, জয়ের পরও রাজশাহীর তাকিয়ে থাকা লাগবে আগামীকালের দুই ম্যাচের দিকে। খুলনা অথবা রংপুরের পা হড়কানোই একমাত্র কামনা এখন তাদের। রানরেটে শ্রেয়তর দল হিসেবে তবেই সেমিতে যাবে ড্যারেন স্যামির দল।

অন্যদিকে, বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ হেরেও চট্টগ্রাম এখন ছক কষছে সেমিফাইনালের লাইনআপ নিয়ে।

মাঠের খেলা যাই হোক, এবারের বিপিএল পয়েন্ট টেবিলে তার খেলা ঠিকই দেখাচ্ছে। তাইতো, নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশাল ব্যবধানে জয়ের পরও তিন বলের আক্ষেপ রাজশাহীকে গ্রাস করে নাকি তার জন্য কিছুক্ষণেরই অপেক্ষা।

Leave a Reply