কুমিল্লা আর চট্টগ্রামের ভরাডুবির কারণ

বিপিএলের এই আসরের অন্যতম আলোচিত দুই দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর চিটাগাং ভাইকিংস। মাশরাফি মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স গত আসরের চ্যাম্পিয়ন, আর অন্যদিকে গত আসরের মতো এই আসরেও বেশ ভালো দল গড়েছে ভাইকিংসরা। তবে মাঠের লড়াইয়ে এবার প্রথম পর্ব শেষে বেশ জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দুই দলকেই।  এক ম্যাচ জিতে আর তিন ম্যাচ হেরেছে চিটাগাং, আর চার ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে কুমিল্লা। ফলাফল, পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে আলোচিত দুই দল। কি কারণ এই ভরাডুবির?

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবারো দল গড়েছে চ্যাম্পিয়নশিপ ডিফেন্ড করার লক্ষ্য নিয়েই। স্কোয়াডে দেশী তারকা প্লেয়ারের স্বল্পতা রয়েছে, তবে বেশ কয়েকজন তরুন উদীয়মান খেলোয়াড় সেই ঘাটতি পূরণ করার সক্ষমতা রাখেন। তবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিলো একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার না থাকায়। ডাচ অলরাউন্ডার রায়ান যোগ দেয়ায় সেটার অভাব কিছুটা ঘুচেছে বলেই অনুমান করা যাচ্ছে। তবে স্কোয়াডের দুর্বলতা দলের ভরাডুবির কারণ নয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ভুগছে ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতার কারনে। একমাত্র নাজমুল হোসেন শান্ত একটা ম্যাচে রান করেছেন, কোন সঙ্গী পাননি সেই ম্যাচে। দলের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ দারুন ফর্মে থেকে বিপিএল শুরু করা ইমরুল কায়েসের হঠাৎ করেই নিজের ছায়া হয়ে যাওয়া। টপ অর্ডারে রান নেই, মিডেল অর্ডারে বিদেশী খেলোয়াড়রা কেউ নিজেদের চেনাতে পারছেননা। ব্যাটিং নিয়ে এতোটাই ভুগছে দল তার প্রভাব দলের মানসিকতায় গিয়ে আঘাত হেনেছে।

এরসাথে যোগ হয়েছে মালিকপক্ষের সাথে অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার মনোমালিন্যের খবর। যদিও দুই পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে যে এমন কিছুই হয়নি। তবে এটা তো চিরাচরিত সত্য হারতে থাকা দলের পারিবারিক কোন্দলের খবর বেশীই রটে। ঢাকা ডাইনামাইটস এর বিপক্ষে অধিনায়ক মর্তুজার চোখে মুখে ব্যাটে ছিলো রাগ, ক্ষোভ, অভিমান! সেটা আপনি চাইলে ম্যানেজমেন্টের প্রতি ধরে নিতে পারেন কিংবা তার দলের ব্যাটসম্যানদের প্রতি হতে পারে। মাশরাফির দল, মাশরাফির মতো খেলছেনা, দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে নিচ্ছেনা এক কথায় এই হ্লো ভিক্টোরিয়ান্সের ভরাডুবির কারণ।

চট্টগ্রামেই যোগ দিবেন ভিক্টোরিয়ান্সের শ্রীলঙ্কান দুই অলরাউন্ডার ।  জাতীয় দলের খেলা শেষে নুয়ান কুলাসেকরার অন্তর্ভুক্তি ভিক্টোরিয়ান্সের বৈচিত্র বাড়াতে পারে। হতে পারে লংকা থেকে সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন। দুই দিনের বিরতি শেষে, নিজেদের শুধরে নেয়ার সুযোগটা নিয়ে দলের ব্যাটসম্যান আর টিম স্পিরিট চাঙ্গা হয়ে উঠলে চট্টগ্রামেই নতুন রূপে ভিক্টোরিয়ানসকে দেখা যেতে পারে। এই আশাবাদ ভিক্টোরিয়ানসরা করতেই পারেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম ভাইকিংস কেন ভুগছে? নিতান্তই ভাগ্যের খেলা বলা যায়। তামিম ইকবালের দল গত আসরেও বেশ কয়েকটি ক্লোজ ম্যাচ হেরেছে। এবারো তার ব্যাতিক্রম হচ্ছেনা। টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি করে, কুমিল্লার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা বেশ ভালোভাবেই জিতেছে তামিমের দল। তারপর থেকেই পড়েছে চোরাবালিতে। বেশীরভাগ সময়ে ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোন থেকে কোন ব্যাখ্যাই হয়না। তামিমের দল প্রতিটা ম্যাচেই ভালো অবস্থানে ছিলো। একটা ম্যাচ তো হেরে গেছে, শেষ ওভারে তিন উইকেট দিয়ে। অথচ ঐ ওভারে দুইটা সিঙ্গেল রোটেট করতে পারলেই ম্যাচটা ভাইকিংস এর হতে পারতো। সেই ম্যাচ শেষে ব্যাটসম্যানদের মাথায় সমস্যা আছে বলে বোমা ফাটিয়েছিলেন তামিম ইকবাল।

তবে তামিমের দল তার প্রত্যাশিত স্মার্ট ক্রিকেটটা আর খেলতে পারছেন কই? নিজে খুব ভালো শুরু এনে দিয়ে আউট হবার পর ধ্বসে পড়েছে ভাইকিংসদের ব্যাটিং অর্ডার। আউট হয়নি, তবে শেষ ৮ ওভারে ৪০ রান তুলে খেলার অর্ধেকটা সেখানেই নষ্ট করেছে। টানা দুই হারে ভাইকিংসরা সম্ভবত সন্দিহান হয়ে পড়েছিলো নিজেদের সম্ভাব্য সেরা কম্বিনেশন নিয়েও। তাসকিনকে ড্রপ করার কারণটা এখনো পরিস্কার নয়।

তবে বিপিএলের চট্ট্রগ্রাম পর্বে ভাইকিংসদের ভালো সম্ভাবনা আছে সবাইকে উতরে যাবার। ঘরের মাঠে দল উজ্জীবিত হয়েই মাঠে নামবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। তাছাড়া তামিম ইকবালের সাথে ঝড় তোলার জন্য ক্রিস গেইল যোগ দিলে আর ঝড় একবার তুললেই ভাইকিংসরা সত্যিকার অর্থেই দস্যু হয়ে উঠতে পারে।

 

ম্যানিয়াক্স ডেস্ক
ক্রিকেট ভালোবাসি, কেননা বাংলাদেশকে ভালোবাসি।

Leave a Reply