সাব্বির, শাহজাদ, বিপিএল আর আমার ক্ষুদ্র ভাবনা

লেখার শুরুতেই একটি বিষয় পরিস্কার করে নেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি। লেখাটা পড়ে হয়ত আপনি ভাবতে পারেন, সম্পূর্ণ একপক্ষীয় লেখা। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয় নি। জি, আপনি শতভাগ সঠিক! এই লেখাটা সম্পূর্ণ একপক্ষীয়। একজন বাংলাদেশী, আই রিপিট একজন বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থক এর দৃষ্টিকোণ থেকেই এই লেখাটা।

শুধুমাত্র বাংলাদেশের চিন্তা করে লেখাটাও অবশ্য ইদানিং একটু ভয়ের কারণ! অনেকেই আবার ক্রিকেট নিয়ে আবেগকে খুব একটা ভালো চোখে দেখেন না। দেশ, দেশপ্রেম আর ক্রিকেটকে এক সাথে মিশিয়ে ফেলাটাকেও অনেকেরই আপত্তি আছে। তাঁদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যেখানে আমার লাল-সবুজের পতাকা আছে, তা ক্রিকেট থেকে শুরু করে যে কোন কিছুই হোক না কেন তাতেই আমার আবেগ জড়িয়ে থাকবে। আমার লাল-সবুজের পতাকা, আমার দেশের নাম জড়িয়ে থাকা যে কোন কিছুতেই আমি আমার দেশপ্রেম দেখাবোই। হ্যা যদি বলেন শুধুমাত্র ক্রিকেট নিয়েই দেশপ্রেম কেন? তা আমি মেনে নিতে রাজি আছি। দেশপ্রেমটা শুধুমাত্র ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ রাখতে আমিও চাই না। কিন্তু ক্রিকেটের মাঝে দেশপ্রেম আনা যাবে না যদি বলেন তাহলে আমি আপনার বিপক্ষে।

ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া তো অনেক হল এবার একটু মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাওয়া যাক! ক্রিকেটে বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি বিষয় টি২০ লীগ। বিশ্বের অন্যান্য জনপ্রিয় টি২০ লীগের আদলে আমাদের নিজস্ব একটি লীগ চলছে বিপিএল। ক্রিকেটের উন্নতির খুব একটা না হলেও ক্রিকেট বিপণনে এই লীগগুলো ভালোই অবদান রাখতে পেরেছে। বিপিএল এর সাতটি ফ্রাঞ্চাইস এর ব্যাতিক্রম নয়। দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়, বিজ্ঞাপন, বিপণন দিয়ে মাতিয়ে রেখেছে বিপিএল।

যেখানে লক্ষ্যটাই ইনভেস্ট থেকে যতটুকু পারা যায় মুনাফা আদায় করা। সেখানে অবশ্য মুনাফা ব্যাতিত অন্য কিছু আশা করাও যায় না। কিন্তু একজন দর্শক হিসাবে যখন আমার মুনাফা নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। তাই আউট অফ দ্যা বক্স গিয়ে আমি আমার ভাবনা জানাতেই পারি। বিপিএল এর গতকালের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিপিএল গভর্নিং বডি তাঁদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থক হিসাবে আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই।

সাব্বির রহমানের উদযাপন রুলস ভঙ্গ করেছে তার জন্য শাস্তি হিসাবে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ কেটে নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে শাহজাদের ব্যাট দিয়ে আঘাতের শাস্তি মাত্র দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা! এটা কি করে সম্ভব? অনেকে আবার এই ঘটনায় সাব্বিরকেই দোষী করছেন। রংপুর রাইডার্স তো শাহজাদের দোষ স্বীকার করছেই না। রংপুর এর বাংলাদেশী খেলোয়াড় আরাফাত সানির মতে, সাব্বির নাকি অভিনয় করেছে! অর্থের কাছে বিবেক যখন বন্দী হয়ে যায় তখন সত্যিই আর কি করার থাকে! ভিডিও তে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে ব্যাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যদি এই আঘাতটা অনিচ্ছাকৃত হত তাহলে শাহজাদ দাঁড়িয়ে থেকে ভুল স্বীকার করতেই পারত। প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে ড্যারেন সামির ডাকের কোন জবাবও দেয় নি শেহজাদ। এ থেকেই কি প্রমাণিত হয় না যে আঘাতটা ইচ্ছাকৃত করা হয়েছে!

২০১৩ সালের আইপিএল এর উদাহরণ এই প্রসঙ্গে দেয়া যায়। শ্রীলঙ্কায় তখন তামিল অধিবাসীদের নিয়ে কিছু সমস্যা চলছিল। লংকান তৎকালীন সরকার তামিলদের উপর জোর পূর্বক অত্যাচারে লিপ্ত হয়। যার রেশ এসে পরে ভারতের আইপিএল এর উপরও। তামিলনাড়ু রাজ্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে তামিলনাড়ুতে কোন লংকান খেলোয়াড় অংশ নিতে পারে নি সেই আসরে। খেলোয়াড়রা তো সরাসরি দায়ী ছিল না কিন্তু তারপরও নিষিদ্ধ হয়েছিল তারা। আর বিপিএল এ তো সরাসরি খেলোয়াড়ই দায়ী। তার জন্য শাস্তি মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা! সাব্বির মাত্র ১৫ ম্যাচের জন্য রাজশাহী কিংসের খেলোয়াড়। কিন্তু সাব্বির আমাদের জাতীয় দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। একজন বাংলাদেশী সমর্থক হিসাবে আমি চাই বিপিএল থেকে নিষিদ্ধ হোক শাহজাদ।

Leave a Reply