স্যামি ঝড়ে কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী

টসে জিতে এলিমিনেটরে চিটাগাং ভাইকিংসকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রাজশাহী৷ এক ঝাঁক তরুণ প্লেয়ারদের নিয়ে গড়া দল রাজশাহী কিংস পর্বে শেষ দিকে জ্বলে উঠা চিটাগাং ভাইকিংসের মতো শক্তিশালী দলের সাথে শক্তির বিচারে পিছিয়েই ছিলো স্যামির রাজশাহী৷

টি২০’র ফেরিওয়ালা গেইলকে নিয়েও অনেক ভয় ছিলো রাজশাহীর৷ আগের দিন একটি একটি সংবাদ মাধ্যমকে স্যামি নিজেই বলেছিলো গেইল কতটা ভয়ংকর৷ চট্টগ্রাম ভাইকিংস ব্যাটিংয়ের শুরুতে ভালো ছন্দে খেলছিলো তামিম আর গেইলের ওপর ভর করে৷ ভয়ংকর হয়ে ওঠা গেইলকে ৪৪ রানে আউট করে উল্লাসে মাতোয়ারা হয় স্যামিরা৷ এরপর একের পর এক উইকেট পড়তে পড়তে ভেঙ্গে পড়ে চট্টগ্রামের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ৷

কেসরিকের দারুন বোলিংয়ের সামনে যেন তাসের ঘর ছিলো ভাইকিংসরা৷ মাত্র ১১ রানে ৪টি উইকেট শিকার করেন কেসরিক এবং একটি স্মরনীয় সেলিব্রেশন দেখায় রাজশাহী কিংসের পুরো দল কেসরিককে নিয়ে। কেসরিকের বোলিং সাথে ফরহাদ রেজার ২৬ রানে ২ উইকেট চট্রগ্রামকে ২০ ওভার শেষে মাত্র ১৪২ রান করতে সক্ষম হয় ৮টি উইকেট খুইয়ে ৷ চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন ৪৬ বলে কাপ্তান তামিম ইকবাল।

জবাবে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী কিংস৷ রাজশাহীর ব্যাটিং লাইন আপকে শুরুতে চেপে ধরেন চট্টগ্রামের স্পিনার রাজ্জাক ৷ যার ফলে ৪ ওভার শেষে মাত্র ২১ রান তুলতে সক্ষম হয় রাজশাহী ২টি উইকেট হারিয়ে৷

ভাইকিংস বোলারদের বোলিংয়ের চিত্র ছিলো লক্ষ্যনিয়৷ কিন্তু সাব্বিরের ক্যাচ ছেড়ে দেন তাসকিন, লাইফ পেয়ে আবারো সাব্বির ক্যাচ দিয়েই আউট হোন৷

একদিনকে ভাইকিংস বোলারদের দাপুট অন্যদিকে রাজশাহীর সোহান ছিলো একপ্রান্ত ধরে টিকে ছিলো ক্রিজে৷ ছয় মারতে গিয়ে বাউন্ডারির বাইরে থেকে দারুন ভাবে দর্শনীয় একটি ক্যাচ বানিয়ে সোহানকে ফেরায় চট্টগ্রামের ফিল্ডাররা৷ এক পর্যায় ৫৫ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে প্রায় হারার পথে রাজশাহী৷

নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান সামিত প্যাটেল, ফ্রাঙ্কলিক একে একে সাজ ঘরে ফিরেন৷ ক্যাপ্টেন স্যামি তখন মাঠে নামে৷ দলের এই অবস্থাতে মিরাজকে নিয়ে হাল ধরেন৷ সপ্তম উইকেটের পার্টনারশীপে মিরাজকে নিয়ে দারুনভাবে খেলায় রাজশাহীকে ফেরত আনেন এই দুইজন৷ কিন্তু মিরাজ-স্যামির ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান মিরাজ৷

দলের জয়ের স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দিতে একাই লড়াই করে যান ক্যাপ্টেন স্যামি৷ ফরহাদ রেজাকে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন৷ ২৭ বলে ৫৫ রান করে দলকে জয়ের প্রান্তে পৌছে দেন ৯ বল হাতে রেখে৷

ফরহার রেজার দ্বায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং স্যামির অসাধারন ব্যাটিং ও ক্যাপ্টেন্সিতে চট্রগ্রাম ভাইকিংসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টুনার্মেন্ট থেকে ছিটকে ফেলে অলিখিত সেমি ফাইনালে পৌছে যায় রাজশাহী কিংস৷

Leave a Reply