পিসারা ওভালে ২য় দিন

শততম টেস্টের ২য় দিন গেলো আজ। ২য় সেশন টা বাংলাদেশের হলেও ১ম ও ৩য় সেশন টা ছিলো শ্রীলংকার।  প্রথম সেশনটা যেনো শ্রীলংকানরা তাদের জন্য সাজিয়ে ছিলো। প্রথম দিনে টপ অর্ডাররা ব্যার্থ হলেও প্রথম দিনে অপরাজিত থাকা চান্ডিমাল ট্যালেন্ডার দের নিয়ে ভালোই লড়াই করেছেন। তুলে নিয়েছেন তার ৮ম সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের সাথে ৪র্থ।

২য় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের বোলাররা বোলিং ভালো করলেও শ্রীলংকান ব্যাটসম্যান দের দৃড়তা উইকেট পেতে অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা সময়। দলিয় ৯২ তম ওভারে সাকিব আল হাসানের বল বুঝতে না পেরে সৌম্য সরকারে হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয় ৯১ বলে ২৫ রান করা লংকান সেনাপতি রঙ্গনা হেরাথ। কিন্তু অপর প্রান্ত আগলে রাখেন ডিনেশ চান্ডিমাল। সুরাঙ্গা লাকমাল কে সাথে নিয়ে তুলে নেন নিজের ৮ম সেঞ্চুরি। দলিয় ৩০৫ রানে যখন চান্ডিমাল আউট হন তখন তার নামের পাশে এক বিরচিত ইনিংস ৩০০ বলে ১৩৮ রান। যা তিনি করেন ১০ বাউন্ডারি ও ১ ওভার বাউন্ডারির মাধ্যমে। এবং সুরাঙ্গা লাকমালের ৩৫ রানের উপর ভর করে শ্রীলংকা ৩৩৪ রানে অল আউট হয়। শ্রীলংকার ৩৩৪ রান করার পেছনে অবশ্য সবচেয়ে বেশি অবদান ডিনেশ চান্ডিমালের।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবে সেশনের শেষে এসে ৪৯ রানে আউট হোন তামিম ইকবাল আর তার জন্য আক্ষেপ তিনি করতেই পারেন। রঙ্গনা হেরাথের বলে লেগ বিফোরের ফাদে পরেন তামিম। ২য় সেশনে বাংলাদেশ করে ১ উইকেটে ৯৫ রান।

কিন্তু বিপত্তি বাধে ৩য় সেশনে এসে। সৌম্য সরকার তার টানা চতুর্থ অর্ধশতক তুলে নিয়ে যেনো আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। আর তার ফল পেতে ও দেরি হয়নি। সান্দকানের আগের বলে চার মেরে পরের বলই ড্রাইভ করতে যেয়ে বোল্ড হোন তিনি। তিনি ১২১ বলে করেন ৬১ রান। তারপরও সময় টা ভালোই যাচ্ছিলো। ইমরুল আর সাব্বির ভালো একটা জুটি করার পথেই ছিলো। কিন্তু আবারও সেই সান্দাকানের আগের বলে চার মেরে পরে বলেই লেগ বিফোরের ফাদে পরেন ৭৮ বলে ৩৪ রান করা ইমরুল। যদিও এর আগে লাকমালের বলে ক্যাচ তুলেও চান্ডিমালের কল্যানে বেচে গেলেন তবে এবার আর রক্ষা হয়নি। এর পরের বলেই আউট হয় নাইট ওয়াচ ম্যান হিসেবে নামা তাইজুল ইসলাম।
অপর প্রান্তে থাকা সাব্বির প্রথম থেকেই ছিলেন টি২০ মুডে। মাত্র ৫৪ বলে ৪২ রান করে লাকমালের বলে সিলভার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। তখন ছিলো ৫৭ ওভার। আর শেষ মুহুর্তে এসে এমন উইকেট দিয়ে আসা নিয়মিত ক্রাইমের পর্যায়ে পরে। মাত্র তিন ওভারের জন্য নেমে সাকিব আল হাসান ও যেনো রানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন খেলতে থাকেন একের পর এক শট। আবার সেই চান্ডিমালের কল্যানেই বেচে গেলেন সাকিব। দিনের শেষে আর উইকেট না পরায় হয়ত কিছুটা স্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ শিবির। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ২১৪ রান ৫উইকেটের বিনিময়ে। শ্রীলংকার হয়ে সান্দাকান ৩টা ও হেরাথ ও লাকমাল একটি করে উইকেট নেয়।

তবে দিন শেষে বলা যায় ৩য় সেশনটা সম্পূর্ন শ্রীলংকার ছিলো। যদি বাংলাদেশেরর ব্যাটসম্যানরা তাদের উইকেট এভাবে বিলিয়ে না দিয়ে আসত তবে হয়ত অন্য ভাবে লেখা যেতো কোনো রোমাঞ্চোকর কাহিনী ।

এখন এই টেস্টে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশ কে কালকের ৩য় সেশন পর্যন্ত খেলতে হবে। এবং কমপক্ষে ১০০রানের লীড নিতে হবে । যদি তা সম্ভব হয় তবেই ইতিবাচক কিছু আসা করা যায়।

তবে ৫ দিনের টেস্টে কোনো কিছুই যে বলে আসেনা। তাই প্রস্তুত থাকতে হবে সব কিছুর জন্যই। আজতো মাত্র দ্বিতীয় দিন।

Leave a Reply