শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট

চতুর্থ দিনের বৃষ্টি বাধায় শেষ সেশনে ৪৫৭ রানের টার্গেটের লক্ষে ভাল খেলেছিলেন টাইগার দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য। কোন উইকেট না হারিয়ে করেছিলেন ৬৭ রান। অন্তত পক্ষে ড্রয়ের আশার প্রদীপ জ্বলে ছিল টাইগার শিবিরে। আজ পঞ্চম দিন ভাল কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামেন তামিম, সৌম্য। হাতে ছিল ৯৮ ওভার।
ওয়ানডে স্টাইলে খেলা আগের দিনের ৫৩ রানেই আজ ফিরতে হল সৌম্যকে। বাংলাদেশের দাড়ায় ১ উইকেটে ৬৭ রান।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ৬৭ থেকে আরও ৩৭ রান যোগ করতে নেই টাইগারদের পাঁচ পাঁচটি উইকেট! তামিম ১৮, মমিনুল ৫, সাকিব ৮, সাইলেট কিলার খ্যাত মাহমুদুল্লাহ আবার ও ব্যর্থ ০ রানে ফ্যাভিলিয়নে আউট হয়ে ফিরলে ড্রয়ের আশার মৃত্যু ঘটে। ১০৪ রানে ৫ উইকেটের পতন হলেও দল নেতা মুশফিক ও লিটন দাশ ৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লে ও টাইগাররা বেশি এগিয়ে যেতে পারে নি। ১৫৭ রানে আবার ধাক্কা খেলে আর খাদ থেকে উঠে দাড়াবার মত কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি শেষের ব্যাটসম্যানরা। মুশফিক ৩৪ রানে আউট হন। পরের ৩৯ রান নিতেই বাংলাদেশ অল আউট! লিটন দাস দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ ৩৫ রান ও শেষ উইকেটে মিরাজ ২৮ রানে আউট হলে বাংলাদেশ ৬০.২ ওভারে ১৯৭ রানে অল আউট হয়ে যায়। লোয়ার অর্ডারে আর কেউ দু’অঙ্কে যেতে পারে নি।

শ্রীলংকা জয় পায় ২৫৯ রানের বড় ব্যবধানে। গলে টার্গেটে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্ছ ইনিংস হল ৩১২। যেটি পাকিস্তান করেছিল। আর টার্গেটে বাংলাদেশ এর চতুর্থ ইনিংসে ছিল ২১৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে জয় করেছিল। যেখানে বড় দল গুলা ও সাড়ে তিনশ রান টার্গেটে অতিক্রম করতে পারে নি, সেখানে টাইগাররা কিভাবে করবে! তবে সবার প্রচেষ্টায় ম্যাচ ড্র করতে পারত।
শ্রীলংকার হয়ে ৫৯ রানে ৬ উইকেট ও দিলরুয়ান পেরেরা ৬৬ রানে দুই উইকেট নিয়ে টাইগার ব্যাটিং লন্ডপন্ড করে দেন। হেরাথ ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার হওয়ার দিনটি স্মরণীয় করে রাখলেন দলের জয় আর নিজের আরেকটি অর্জনে। প্রথম শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক হিসেবে জিতলেন নেতৃত্বের প্রথম তিন টেস্টই। আগের দুটি জয় ছিল জিম্বাবুয়েতে।

বাংলাদেশের জন্য আরও একটি হতাশার টেস্ট। পরের ম্যাচটিই বাংলাদেশে শততম টেস্ট। তবে উপলক্ষ উদযাপনের চেয়ে দুর্ভাবনাই অনেক বেশি! শততম টেস্টকে কতটা ভাল করে স্মরণীয় করে রাখে দেখার বিষয়।

Leave a Reply