রাইডার্স জার্সি গায়ে নিজেকে মেলে ধরবেন সৌম্য নাকি হারিয়ে যাবেন

মিরপুরে নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ খেলছিলো বাংলাদেশ। ব্যাট করছিলো বাঁহাতি তরুণ এক ব্যাটসম্যান। পয়েন্ট আর গালির মাঝখান দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দনীয় চারের মার। অসাধারণ একটি শট! কিছুক্ষণ পর রুবেল হোসেনের বলে আলতো করে ছোঁয়ালেন এবং চার। ইনিংসটা বেশি বড় করতে পারলেন না। মাত্র ১৩ রান করেই আউট হয়ে গেলেন। কিন্তু ততক্ষণে আসল কাজটা সেরে ফেলেছেন। বাংলাদেশ দলের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরু সিং এর নজরে পড়ে গেছেন তিনি। মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ তার খেলা উপভোগ করছিল হাথুরু। কিন্তু মাত্র ১৩ রানের একটি ইনিংস আর দুটি সুন্দর শট, একটা ক্রিকেটারকে যাচাই করার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু হাথুরু ঠিকই যাচাই করে ফেলেছিলো। আর তাইতো নানান সমালোচনার মাধ্যমে ১ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হলো তার।
তারপর ২০১৫ তে বিশ্বকাপ দলেও ডাক পেলেন। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের অচেনা কন্ডিশনে বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের তখন যত ভয় বাউন্স বল নিয়ে! কিন্তু সেই ভয়কেও জয় করলেন তিনি। আবিষ্কার করলেন ‘দ্যা পেরিস্কোপ’ শট।
তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান-সাউথ আফ্রিকার বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়লেন। ১ম সেঞ্চুরির দেখাও পেলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি ম্যাচে ৮৮ ও ৯০ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অফ দ্যা সিরিজ হলেন। আইসিসি ওডিআই ব্যাটিং র্যংকিংয়ে উঠে আসলেন ১৫ নম্বরে। তখনো খুব বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি তার। মাত্র ১৬ টি ম্যাচ খেলে ৬৯২ রান! বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি পাওয়া শুরু করলেন। ২০১৫ সালের বিপিএলে বিক্রি হলেন সবার আগে। কিন্তু এই বিপিএলে নিজের রং চেনাতে পারলেন না তিনি। বিপিএলে ফ্লপ খেলেন। শুধু বিপিএল নয়। এরপর একের পর এক ম্যাচে রান খরায় ভুগতে থাকলেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে আগমন হলেও টি-২০ ক্রিকেটে নিজের খেই হারিয়ে ফেললেন তিনি।
একের পর এক ব্যার্থতার পর নিজেকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে গেলেন।

কিন্তু পারলেন কই? উল্টো গত ইংল্যান্ড সিরিজে দল থেকে জায়গা হারালেন। যদিও ওডিআইয়ে নিজেকে মেলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ পান নি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯০ রানের ইনিংস খেলার পর মাত্র তিনটি ওডিআই ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। আর এই তিন ম্যাচ অফ ফর্মে থাকায় দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয় তাকে। কিন্তু সবার ধারণা তিনি আবার দলে ফিরবেন।  নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ তিনি ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন। এখন শুধু ফর্মে ফিরে দলে জায়গা ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা! দলে ফেরার জন্য যখন কঠোর পরিশ্রমে ব্যাস্ত সৌম্য। ঠিক তখনি আবার বিপিএল দরজায় কড়া নাড়ছে। আর তাই দলে ফেরার জন্য বিপিএল ২০১৬ কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সৌম্য।
প্রথমবারের মত এবারো রংপুর রাইডার্সের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন তিনি। সৌম্য সরকার যে একজন অসামান্য প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান সে বিষয়ে সন্দেহ নেই কারো। মাশরাফি সৌম্যকে নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “দেশের হয়ে সৌম্য একদিন ১০,০০০ রান করবে।” সবাই সৌম্যকে বিরল প্রজাতির এক ক্রিকেটার হিসেবেই চেনে। আর তাইতো সৌম্যের ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে সবাই। এই বিপিএল দিয়েই নিজের জাতটা চিনিয়ে দিতে পারবেন তো সৌম্য সরকার?
নাকি আরো দীর্ঘ হবে এই অপেক্ষার প্রহর?
হারিয়ে যাবেন এক অসামান্য প্রতিভাধর ব্যাটসম্যান!

Leave a Reply