ফর্ম তুমি বড়ই অপয়া

বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যান কে, প্রশ্ন করা হলে উত্তর ১টাই হবে আর তাহলো তামিম ইকবাল, বাংলাদেশের ওপেনার ব্যাটসমান, তার সাথে ওয়ানডে ও টি২০তে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারছিলোনা কেউই ।  কিন্তু ২০১৫ সালে পাকিস্তান সিরিজে এসে একটু ভিন্নতা দেখা গেলো। একটা ছেলে শুরু থেকে আক্রমণাত্মকভাবে খেলে প্রেশার রিলিজ করছিলো আর এতে তামিমও তার রোলটা ঠিকমত প্লে পারছিলো। ফলাফল ভয়ঙ্কর ১টা জুটিতে পরিনত হয়েছিলো তারা। কিন্তু হঠাৎ ছেলেটার ছন্দপতন রান পাচ্ছেন না ব্যাটে। কন্ফিডেন্স লেভেলও নিচে নেমে গেছে । হতাশায় পুড়ছেন নিজেও। পোড়াচ্ছে দর্শকদেরও।

বলছিলাম সৌম্য সরকারের কথা। দারুন প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যানের শুরুটা যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আতুরঘর বিকেএসপিতে। খেলেছেন ২০১০ ও ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিলো ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজে। তেমন কিছু করতে পারেননি অভিষেকে তবে ১৮ বলে ২০ রানের ইনিংসটার সবগুলো শর্টই যে ছিলো দেখার মত। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপে। খেলেছেন ৩ নাম্বারে মাহমুদুল্লার সাথে কয়েকটা ছোট জুটি ও তার ৩০-৪০ রানের ইনিংসগুলো তখন দলের কতটা কাজে দিয়েছে তা সবাই দেখেছে । পেসবলের বিরুদ্ধে তার অসাধারন টাইমিং গুলো ছিলো দেখার মত। বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান সিরিজে ইন্জুরির কারনে ওপেনারের সংকটে পরলে তাকে দিয়ে ওপেন করানো হয় এবং প্রথম ম্যাচেই ১০০রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল এর সাথে । এই সিরিজেই পেয়ে যান প্রথম সেঞ্চুরি । ভারতের সাথেও ছিলেন ধারাবাহিক। আর সাউথ আফ্রিকাকে তো একাই হারিয়ে দেন। ৮৮ ও ৯০ রানের ইনিংস খেলে। তারপর থেকেই যেনো হারিয়ে গেছে সেই সৌম্য সরকার । যা এখনো অব্যাহত আছে। কোনো কিছুতেই যেনো কাজ হচ্ছে না । ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করেছেন। নিচে নামছেন। তবুও রানে ফেরা হচ্ছেনা।

একজন সৌম্য সরকারের এক একটা ড্রাইভ দেখার জন্য যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা । কবে পাবে সৌম্য রানের দেখা? ব্যাট হাতে মাঠে নামলে সবার একটাই কথা থাকে আজ রানে ফিরবেন সৌম্য। কিন্তু হতাশার মেঘ যেনো কাটছেই না।

এই অফফর্ম কেরে নিয়েছে নাফিস ইকবাল, শাহরিয়ার নাফিস, শামসুর রহমানদের মত আরও ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ার। এই লিস্টে সৌম্যকে দেখতে চায়না বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটপ্রেমীই

তাছাড়া সামনে নিউজিল্যান্ড সিরিজ । আর ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার যে পেস বোলারদের বিরুদ্ধে কত ভয়ঙ্কর তা সবাই জানে। তাই তার ফর্মে ফেরাটা যে এখন বাংলাদেশ দলের জন্য খুব জরুরি।

Leave a Reply