সাফল্যের সূচনা নাকি পুনরাবৃত্তি?

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি কর্তৃক পরিচালিত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক প্রতিযোগিতা বিশেষ। মর্যাদার দিক থেকে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস্ ট্রফির অবস্থান বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পরেই। এখন পর্যন্ত মোট ৭ বার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বাধিকবার  চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২ বার করে। এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা একবার করে শিরোপার স্বাদ পেলেও ক্রিকেটের উদ্ভাবক ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে তেমন সাফল্য নেই। সর্বসাকুল্যে ২ বার ফাইনালে পৌছালেও শিরোপার স্বাদ তারা আজও পাইনি। বৈশ্বিক যেকোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের অঘোষিত ফেভারিট তাদেরই ধরা হয়। যতগুলো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আসে প্রতিবারই শিরোপার জোরালো দাবিদার হয়ে অংশগ্রহণ করে। নান্দনিক ব্যাটসম্যান থেকে স্ট্রাইক বোলার সবই থাকে তাদের। কিন্তু সোনার হরিণটি শেষমেশ অধরাই থাকে। এ যেনো নিয়তির লিখন। 

আগামী ১লা জুন থেকে ইংল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৮ম আসর। ইতিমধ্যে ৮টি দলেরই দল ঘোষণা শেষ। সিটি-১৭ এর দল রিভিউ এর ধারাবাহিকতাই আজ আলোচনার বিষয় ইংল্যান্ড।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০১৭ এর জন্য ঘোষিত ইংল্যান্ড দল : ইয়ন মরগান (অধিনায়ক), মঈন আলী, জনি ব্যারিস্টো, জ্যাক বল, স্যাম বিলিংস, অ্যালেক্স হেলস্, জস বাটলার, লিয়াম প্ল্যাঙ্কেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস্, ডেভিড উইলি, ক্রিস ওকস্, মার্ক উড।

বরাবরের ন্যায় এবারেও ইংল্যান্ড দল অনেক শক্তিশালী। বরং তুলনা করলে দেখা যাবে এবারের দলটি অন্যবারের তুলনায় অনেক ব্যাল্যান্সড্। তাদের দলে কী নেই। যেমন রয়েছে জেসন রয়, অ্যালেক্স হেলসের মতো মারকুটে ওপেনার তেমন রয়েছে ইনিংস বিল্ডআপ করার মতো জো রুট, জনি ব্যারিস্টো, মঈন আলী, ইয়ন মরগানের মতো প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটসম্যান। শুধু প্রতিশ্রুতিশীল নয় এবারের ইংল্যান্ড টিমের তুরুপের টেক্কা হতে পারে জো রুট। এছাড়া শেষের দিকে স্লগ ওভারে ঝড় তুলতে লিস্টে চোখ বুলালেই চোখে পড়বে বেন স্টোকস্ আর জস বাটলারের নাম। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বিবেচনাই পেস বোলিং লাইনআপের শক্তিও কম নই ইংল্যান্ডের। হয়তোবা জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ড ব্রড কিংবা টিম ব্রেসনানের মতো পরীক্ষিত প্লেয়ার চোখে পড়বে না তবে রয়েছে জ্যাক বল, মার্ক উড, ক্রিস ওকস্, লিয়াম প্ল্যাঙ্কেটের মতো সম্ভাবনাময় পেস এটাক। নিজেদের দিনে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে করে দিতে পারে তছনছ। স্পিন ডিপার্টমেন্টও জেনুইন লেগী আদিল রশিদ কিংবা মঈন আলীর মতো পার্টটাইমার কে নিয়ে যথেষ্ট সমৃদ্ধ।

সুতরাং নিঃসন্দেহ এটা বলা যেতেই পারে ব্যাটিং, বোলিং ২ ডিপার্টমেন্ট মিলিয়ে তারুণ্য নির্ভর দলটি শিরোপার জোরালো দাবিদার। সবাই একসাথে জ্বলে উঠলে কোনো পরাশক্তিই বাধা হতে পারবে না। আর টুর্নামেন্টটা যখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সেখানে সবকিছুই সম্ভব। মাত্র ৫ ম্যাচের মাধ্যমে শিরোপার ফয়সালাতে ইংল্যান্ডের এই নবীন দলটি যে কারো স্বপ্ন ভঙ্গ করতে পারে। ১৮ জুন ওভালে দিন শেষে বিজয়ী দলটির নাম ইংল্যান্ড হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আমার কাছে বাজির ঘোড়া ইংল্যান্ডই। গত সাতবারের প্রচেষ্টাই সোনার হরিণের দেখা না পেলেও আশা করি এইবার ক্রিকেট ভাগ্যদেবীর সুনজর পরবে তাদের উপর। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ১৭তেই সাফল্য আসবে দুহাত ভরে। ঘরে উঠবে তাদের প্রথম শিরোপা।

Leave a Reply