একজন বিশ্বসেরার গল্প

যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় যে কয়েকজন সেরা অলরাউন্ডার এর নাম বলোতো সে হয়ত বলবে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি, স্যার গ্যারি সোবার্স, ইয়ান বোথাম, এন্ডু ফ্লিনটফ, জেক ক্যালিসদের নাম। কারন তারা তাদের সময়ে সেরা সেরা ছিলেন এবং সবসময়ের জন্যই সেরা বলা যায়। কেননা তারা তাদের সে পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন।

এখন আসি আসল কথায় ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশ এর খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় একটা ছেলের জন্ম হয়। যার বাবা ছিলেন ফুটবলার। তিনি চেয়েছিলেন ছেলেও তার মত ফুটবলার হবে। কিন্তু না ছেলেটা হয় ক্রিকেটার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলে নিজেকে প্রমান করে ছেলেটা। তার ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে অভিষেকও হয় তার। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি একে একে টি২০ ও টেস্ট অভিষেক হয় তার।

তাকে নিয়ে বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছিলো দলের সবচেয়ে পেশাদার ক্রিকেটার সে । সময় মত মাঠে আসে বোলিং এর সময় বোলিং করে ব্যাটিং এর সময় ব্যাটিং। নিজের কাজটা করে আবার বাসায় চলে যায়। ঠিক যেনো নিয়ম মেনে অফিস করার মত। আর এটাই তাকে এত উপরে নিয়ে যাবে। তিনি আর কেউ নন বাংলাদেশ ক্রিকেটের তথা এই মুহুর্তে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের একজন সাকিব আল হাসান।

সাকিব এখন পর্যন্ত ৪৫টি টেস্ট খেলে রান করেছেন ৩১৪৬ এবং ১৬১ উইকেট নিয়েছেন। ১৬৬টি একদিনের ম্যাচে করেছেন ৪৬৫০ রান  এবং নিয়েছেন ২২০টি উইকেট। আবার ৫৭টি টি২০তে ১১৫৯ রান ও ৬২ উইকেট। ২০০৯ সালে তিনি প্রথমবারের মত কোনো অলরাউন্ডার হিসেবে ৩ ফর্মেটেই ছিলেন ১ নাম্বার। খেলেছেন বিশ্বের সকল টি২০ লীগ। কিন্তু এসব বিষয় ১জন সাকিব আল হাসানকে বোঝাতে সক্ষম নয়। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দলের কতটা জুড়ে আছে তা কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমী মানুষই জানে।

কিন্তু নানা কারনে তিনি বিতর্কিত হয়েছেন বহুবার। পারফর্মেন্স এর জন্য দল থেকে বাদ না পরলেও বাদ পরেছেন নানা উদ্ভট কান্ডের জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাকে নিয়ে ঝড় তোলে তার উটকো শ্রেনীর কিছু মানুষ। তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে চলে তারই কিছু অংশ।

আপনি হয়ত আজ সাকিবকে গালি দিবেন। সে আপনার প্রত্যাশা পুরন করতে না পারলে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মার এই সাকিব আল হাসানই। এমনও সময় ছিলো তিনি একা টেনে নিয়ে গেছেন দলকে। লড়ে গেছেন প্রানপনে। শুধু একবার দেশের মানুষকে হাসাবে বলে। কথায় আছে দাত থাকতে কেউ দাতের মর্ম বোঝেনা । ঠিক তেমনি যেদিন সাকিব থাকবেনা সেদিন বুঝবে সাকিবকে ছিলো। একজন সাকিব পেতে এক একটা দেশের এক একটা যুগ কেটে যায় আর আমরা পেয়েও তার মর্যাদা দিতে পারিনি।

সাকিব হয়ত আরও ১০ বছর ক্রিকেট খেলে যাবে। হয়ত আরও রেকর্ড করবে। দেশকে আরও উপরে নিয়ে যাবে এবং একটা সময় গ্রেটারদের সাথে ফলাও করে তার নামও উচ্চারিত হবে।

“দ্যা গ্রেট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।”

Leave a Reply