বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনালী যুগের সুচনা

১৯৭২ সালে স্বাধীনতার ঠিক পরের বছরই ক্রিকেটের উন্নতির জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তখন সেটাকে ক্রিকেট কন্ট্রোল বাংলাদেশ বলা হতো। ১৯৭২সালে গঠিত হলেও এর মুল কার্জক্রম শুরু হয় ১৯৭৭ সালে । এ বছর বাংলাদেশ আইসিসিরর সদস্য পদ লাভ করে।

১৯৭৮ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক দল হিসেবে শ্রীলংকা আসে বাংলাদেশে এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম আইসিসি ট্রফিতে খেলে বাংলাদেশ । কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে ১৯৯৭ সালে। আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। এর আগে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ জিতে কেনিয়ার সাথে। তবে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয় এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ১৯৯৯ সালে খেলে প্রথম বিশ্বকাপ এবং প্রথম বিশ্বকাপেই সেবারের হট ফেবারিট পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। এই খেলার মাধ্যমে জানান দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির এবং এই জয়ের পুরস্কার স্বরূপ ২০০০ সালে বাংলাদেশ দল টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করে। সেইসময় তখন বাংলাদেশ দল জয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ছিলো না। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে জিততে পারেনি কোনো ম্যাচ। তবে ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ওডিআই এ জয় পায়। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারত ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়। ২০০৯ এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে হোয়াইট ওয়াস করা ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকের বিপক্ষে জয়। এমনকি ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ। কিন্তু এসবই যেনো ছিলো বিচ্ছিন্ন ভাবে। ২০১৩ সালটাও ভালোই কেটে ছিলো বাংলাদেশে ।

হঠাৎ করে সবকিছু পাল্টে যাচ্ছিলো ২০১৪ সালে, এই বছরটা যেনো বাংলাদেশের সব অর্জনকেই জলে ভাসিয়ে দিচ্ছিলো। ঘরের মাঠে একের পর এক হার যেনো বাংলাদেশ দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো খাঁদে। কেউ কেউ তো বলে ফেলেছি বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস কেড়ে নেয়ার কথা। তাছাড়া টি২০ বিশ্বকাপে দুর্বল আফগানিস্তান এর কাছে হারটা যেনো মানতেই পারছিলো না কেউই। তবে সব হিসাবনিকাশ পাল্টে দিলো বছরের ২০১৪ সালের শেষ দিকে দলে আসে একটি আমূল পরিবর্তন। নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে অধিনায়ক কারা হয় এখনকার দলের সবচেয়ে সিনিয়র প্লেয়ার মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। আর এটাই কাজ করে ম্যাজিকের মত। ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ে সিরিজটাই যেন ছিলো সকল অবজ্ঞার জবাব দেওয়ার জন্য এবং তা শুরু হয় প্রথম ম্যাচ থেকেই ৮৭ রানে জিতে বাংলাদেশ । ৫ম উইকেট জুটিতে ১৪৮ রান করে রেকর্ড গরেন সাকিব -মুশফিক। আর এটাই যেনো বাংলাদেশ ক্রিকেট এর নতুন যুগের সুচনা করে। এই সিরিজ সহ বাংলাদেশ ঘরের মাঠে টানা ৬টা সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। আর এই সোনালী যুগের সুচনার পেছনে যার ভুমিকা কেউ ভুলতে পারবেনা তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজা।

অভিষেকটা হয়েছিলো ২০০১ সালে। কিন্তু ইন্জুরির কারনে বারবার ছিটকে গেছেন আবার ফিরে এসেছেন রাজার মত। ২০০৯ সালে প্রথম বারের মত অধিনায়ক করা হয় তাকে। কিন্তু ছিটকে যান ইন্জুরির কারনে। ২০১৪ সালে যখন ২য় বারের মত দায়িত্ব পান তখন দলের অবস্থা ছিলো করুন। উনি এসেই যেনো পল্টে দিলেন দৃশ্যপট। জিতেন একের পর এক ম্যাচ। এখন পর্যন্ত ২৯ ম্যাচে জয় ২১টি আর হার ৮টি। গড় বাংলাদেশের সব ক্যাপ্টেন থেকে বেশি।।
খেলেন ১৫ বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনাল।

বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট বিশ্বের একটি বড় দলে পরিনত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ । আর এটা করতে পারলেই বাংলাদেশ কে করা সব অবজ্ঞার জবাব পেয়ে যাবে ক্রিকেট বিশ্ব।

Leave a Reply