শুভ জন্মদিন কিং রিচার্ডস!

১.
ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট বলতে আমরা কি বুঝি? বল প্রতি কত রান করেছে তার একটা হিসেব। কোন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ১০০ এর অর্থ হচ্ছে সেই ব্যাটসম্যান ১০০ বল খেলে ১০০ রান করেছেন। ব্যাটসম্যানদের গড় বলতে আমরা কি বুঝি? একজন ব্যাটসম্যান প্রতি ইনিংসে কত রান করেছেন তার একটা হিসেব।
এখন সচরাচর দেখা যায় এই ব্যাটিং গড় আর স্ট্রাইক রেট কিছুটা ব্যস্তানুপাতিক। একজন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট বেড়ে যাওয়ার সাথে তার গড় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্ট্রাইক রেট বাড়ার মানে হচ্ছে সে একটু আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান। আর আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান মানেই তার আউট হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। গত কয়েক দশকের আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানের নাম নিলে শহীদ আফ্রিদী, বিরেন্দার শেবাগ, গিলক্রিষ্ট কিংবা জয়াসুরিয়ার নাম মাথায় আসবে। এদের গড় আর স্ট্রাইক রেটটা একটু লক্ষ করুন। আফ্রিদী ( ২৩.৫৭ গড় ও ১১৭ স্ট্রাইক রেট); শেবাগ ( ৩৫.০৩ গড় ও ১০৪.৩৩ স্ট্রাইক রেট); গিলক্রিষ্ট ( ৩৫.৮৯ গড় আর ৯৬.৯৪ স্ট্রাইক রেট) আর জয়াসুরিয়া ( ৩২.৩৬ গড় আর ৯১.২০ স্ট্রাইক রেট)। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য করলে বুঝা যায় যে সময়ের সাথে সাথে ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট আর গড় দুটোই বেড়ে চলেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে আধুনিক ক্রিকেট রান দেখতে চায়। তাই ব্যাটসম্যানদের সুবিধার জন্য সব আইন কানুন সাজানো হয়। একারণেই আগের যুগের বোলারদের তুলনায় এখনকার যুগের বোলারদের অনেক মলিন মনে হয়।
৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত গ্রেট ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং গড় আর স্ট্রাইক রেটটা একটু লক্ষ্য করি। ডেসমন্ড হেইন্স ( ৪১.৩৭ গড় আর ৬৩.০৯ স্ট্রাইক রেট); মিয়াদাদ (৪১.৭০ গড় আর ৬৭.০১ স্ট্রাইক রেট); ডিন জোন্স (৪৪.৬১ গড় আর ৭২.৫৬ স্ট্রাইক রেট)। সেই সময়ে আসলে রান তুলতে বল খরচ করাকে দোষের মনে করা হতো না। লোয়ার অর্ডারের কিছু খেলোয়াড় একটু মেরে খেলতো। তাদের স্ট্রাইক রেট কিছুটা বেশি থাকলেও গড় নেমে যেত ২৫ এর নীচে।
এত পরিসংখ্যান কপচানোর কারণ কি? কারণ আমরা আজ এমন একজনের কথা শুনবো যিনি আক্রমণ করতেন গিলক্রিষ্ট কিংবা আফ্রিদীর মতো, কিন্তু ধারাবাহিক ছিলেন শচীন কিংবা লারার চেয়েও বেশি। ব্যাটসম্যানটার নাম ভিভ রিচার্ডস। তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪৭.০০ যা কিনা তার প্রজন্মের সেরাদের চেয়ে বেশি তো বটেই এমনকি পরের সেরা শচীন, পন্টিং, লারা, সাঙ্গাকারা কিংবা ক্যালিসদের চেয়েও বেশি। স্ট্রাইক রেটে (৯০.২০) ইনাদের চেয়ে তো এগিয়েই, সমসাময়িকদের সাথে হিসেব করলে চোখ আতকে উঠতে বাধ্য। মনে রাখতে হবে যে সেই মূহুর্তে পাওয়ার প্লের অপশন ছিল না। সেই সময় বোলারদের বিপক্ষে যেভাবে রান তুলেছেন সেই হিসেবে এই যুগে জন্মালে হয়তো তার স্ট্রাইক রেট থাকতো প্রায় ১৫০ আর গড় ৬৫ এর মতো।


২.
ওডিআই এর স্ট্রাইক রেট নিয়ে তো বললাম। টেষ্টেও সমান আক্রমণ করে খেলতেন ভিভ, কারণ স্বভাবগত ভাবেই তিনি ছিলেন আক্রমণাত্মক। ১৯৮৫/৮৬ সালে মাত্র ৫৬ বলে করেন টেস্টের দ্রুততম সেঞ্চুরীর রেকর্ড। ( রেকর্ডটা গত বছর ভেঙ্গেছেন ব্রায়ান ম্যাককুলাম ৫৪ বলে)। সেই সময় ওডিআই তে কম বলে সেঞ্চুরীর রেকর্ড ছিল ৭২ বলে ( সেটাও ভিভের ছিল)। ওয়ানডেতে এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরী হয় আরো দশ বছর পরে। সেই ৫৬ বলের সেঞ্চুরীর সম্পর্কে সাবেক উইজডেন সম্পাদক শিল্ড বেরি লিখেছিলেন, ‘পুরো ইনিংসে রিচার্ডস যদি সংশয়ে ভুগে থাকেন তা হলো চার মারবেন নাকি ছয়?’
আচ্ছা, পরিসংখ্যান বাদ দেই। পরিসংখ্যান আসলে একজন খেলোয়াড়ের গ্রেটনেস কখনোই পুরোপুরি বুঝাতে পারে না। ভিভ কে বুঝতে চাইলে আরো একটু ডিপলি অ্যানালাইসিস করতে হবে। যদিও পরিসংখ্যানেও ভিভ যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ১২১ টেষ্টে ৫০.২৩ গড়ে ৮৫৪০ রান আর ১৮৭ ওয়ানডেতে ৪৭ গড় আর ৯০ স্ট্রাইক রেটে ৬৭২১ রান তার গ্রেটনেস বুঝানোর জন্য যথেষ্ট। সবচেয়ে কম ইনিংসে ১০০০, ৩০০০, ৪০০০, ৫০০০, ৬০০০ রান করার রেকর্ড ছিল তার। ১০০০ রানের রেকর্ডটা এখনো আছে। বাকি গুলো শচীন, লারা, পন্টিং কিংবা সাঙ্গাকারার মতো গ্রেটরাও ভাংতে পারেন নি। এই রান বন্যার যুগে হাশিম আমলা রেকর্ডগুলো ভেঙ্গেছেন। কিন্তু খেলাটাকে উনি যেভাবে নাড়া দিয়েছেন তা সংখ্যা দিয়ে বুঝানো সম্ভব না। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্যাট করার ধরণ – সব কিছু থেকে ফুটে উঠতো অন্য রকম একটা আত্মবিশ্বাস।
শিল্ড বেরির কথায় ফিরে আসি। ভিভের মাঠে প্রবেশের পুরো বিষয়টা একটা শিল্প। পৃথিবী বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার দিয়ে আরো শব্দ, কিংবা ইফেক্ট যোগ করেও সেটা আর ভালো করা সম্ভব নয়।

 


৩.
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ডবল সেঞ্চুরী দেখেছে শচীনের । কিন্তু ১৯৮৪ সালেই সেটা দেখা যেতে পারতো। অপরাজিত ১৮৯ রানের ইনিংসটা উইজডেনের গত শতাব্দীর সেরা ১০০ টি ইনিংসের ১ম স্থানে আছে। ২য় স্থানেও ভিভের একটা ইনিংস, সব মিলিয়ে ১০০টির মাঝে ৭ টি। ১ম টা নিয়ে একটু বলি।
ওল্ড ট্রাফোর্ডের ১৯৮৪ সালের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড বিধংসী বোলিং করছিল। ১০২ রানেই উইন্ডিজের ৭ উইকেট পড়ে যায়। প্রথমে Baptiste কে ৫৯ রানের একটা জুটি গড়েন যাতে Baptiste এর অবদান ছিল মাত্র ২৬ রান। ১৬৬ রানে যখন গার্নার আউট হয় তখন একপ্রান্ত ধরে রেখে রিচার্ডস খেলে যান। ৫৫ ওভার শেষে ( তখন ওয়ানডে ৫৫ ওভারে হতো) হোল্ডিং কে নিয়ে যখন ফেরত আসেন তখন উইন্ডিজের রান ২৭২। ১০৬ রানের শেষ জুটিতে হোল্ডিং এর অবদান ছিল মাত্র ১২ রান। রিচার্ডস অপরাজিত ১৮৯ রানে, বল খেলেছেন ১৭০ টি। এখন পর্যন্ত দশম উইকেট জুটির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা টিকে আছে।
অন সাইডে ফ্লিকের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন আজহারউদ্দিন, দ্রাবিড়, ইনজামাম। ইদানিং কালের মাহেলা কিংবা আমলাও ভালো। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিভের মতো অতটা অবকাশে এমন অবহেলায় অফস্ট্যাম্পের বল কেউ লেগে টেনে নেননি। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল মিড উইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া, স্ট্যাম্পের বলে এক্সট্রা কাভারের উপর দিয়ে ছয় – রিচার্ডসের জন্য এসবই ছিল যেন ইচ্ছের ব্যাপার। ১৮৯ রানের ইনিংসটি খেলার পথে বোথামকে ওভাবে স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে আছড়ে ফেলার পর ইংলিশ অলরাউন্ডার উইকেটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকেন, ‘এটা কি করলে তুমি?’ ভিভ এগিয়ে এসে ব্যাট দিয়ে আলতো করে প্রিয় বন্ধুর হাতের পেছনে বারি দেন।এই ইয়ান বোথামই ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এক সাথে কাউন্টি খেলার কারণে খুব কাছ থেকে ভিভ কে দেখেছেন? দিনের পর দিন এক সাথে খেলা দেখেছেন আর নিজেকেই প্রশ্ন করেছেন, ‘এর চেয়ে ভালো আর কিভাবে খেলা যায়’?

ভিভের সময়ে সেরা ব্যাটসম্যানদের নাম বললে সুনিল গাভাস্কারের নাম আসে। গাভাস্কারের মতে, ‘আমার প্রজন্মের নিঃসন্দেহে সেরা ব্যাটসম্যান, সেটাও বাকিদের থেকে অনেক এগিয়ে থেকে’।
অষ্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ডিন জোন্সের নাম হয়তো অনেকেই শুনেন নি। অষ্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ব্যাটিং এর ধারাকে পালটে দেওয়া সেই ব্যাটসম্যানের ভাষায়, ‘ মাঠে তিনি এমন কাজ করেছেন যা করার স্বপ্ন দেখেন গ্রেট ক্রিকেটাররা’।

ক্রিকেটে একমাত্র তাকেই ‘কিং’ উপাধিতে ডাকা হয়।

 

৪.
গত তিন দশকের যত ব্যাটসম্যান এসেছে তাদের প্রায় সবাই বলেছেন যে ওয়াসিম আকরামকে খেলতে তাদের সমস্যা হয়েছে। সেই আকরাম বলেছেন, ‘‘গাভাস্কার, ক্রোকে বল করা কঠিন ছিল। সবকিছুরই প্রতিউত্তর জানা ছিল ওদের। তবে ভিভকে বল করতে ভয় পেতাম আমি।’ লিলি, উইলিস, কপিল, হ্যাডলি, বোথাম, ইমরান কেউ বাদ পরেননি তার খড়গহস্তের অত্যাচার থেকে। ৭০-৮০ দশক আসলে পেসারদের যুগ ছিল। সেই সময়ের পেসার বব উইলিসের একটা মন্তব্য ছিল বেশ মজার, ‘ ও আমার ভালো বলগুলোতে চার মারে, খারাপ গুলোতে ছয়’।
মাঠে সাধারণত আতঙ্ক ছড়ায় ফাষ্ট বোলাররা। কিন্তু ভিভ উলটো সব বোলারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। জেফরি ডুজনের ভাষায়, ‘সবসময় দেখেছি নতুন ব্যাটসম্যান আসলে ফিল্ডাররা দুই পা এগিয়ে আসে। একমাত্র ভিভ নামলেই ফিল্ডাররা দুই পা পিছিয়ে যেত’। এমনই ব্যাট করতেন, ক্রিকেট ইতিহাসে কেউ এভাবে ব্যাট করেনি। না আগে, না পরে। হেইডেন, গিলক্রিস্ট ‘অ্যাট টাইমস’ অনেক জোরে বল পিটিয়েছেন। কিন্তু কেউ চতুর্দিকে ভিভের মত ভয়ের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেননি।
তার সময়ে এক ভারত ছাড়া আর কোনো দেশ ভাল স্পিনার পয়দা করতে পারেনি। পেস বোলারদের তো দাপটের সঙ্গেই সামলেছেন। কুম্বলে, ওয়ার্ন কিংবা মুরালিধরনের যুগে জন্মালে কেমন করতেন ভিভ? উত্তর জানা নেই। জানা যাবেও না। তবে এটুকু জেনে রাখুন, ১৯৭৪ সালে তার অভিষেক হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালোরে। দ্বিতীয় টেস্টে দিল্লির ‘র‌্যাংক টার্নারে’ অপরাজিত ১৯২। একদিন আইপিএল ম্যাচে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন সঞ্জয় মাঞ্জেকার, ‘আমি শুধু চিন্তা করি এই মরা উইকেট যদি টোয়েন্টি২০ খেলতে নামতেন ভিভ, বোলাররা কি করতেন?’
একটাই অভিযোগ ছিল তার সম্পর্কে যে সেই সময়ের সেরা পেসাররা সব উইন্ডিজে ছিল। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেট আর কাউন্টিতেও তাদের পিটিয়ে সেই সন্দেহ ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন।
কখনো হেলমেট পড়ে মাঠে নামেন নি। হেলমেট পড়াটাকে কাপুরুষতা মনে করতেন। ভাবা যায় পুরো ক্যারিয়ারে ফাস্ট বোলারদের স্বর্ণ যুগে শুধু মাত্র একটা ব্যাট হাতে চুইংগাম চিবুতে চিবুতে মাঠে নামতেন। কতটুকু আত্মবিশ্বাস আর সাহস থাকলে এই কাজটা করা যায়?

 

৫.
টাকার জন্য খেলতেন না রিচার্ডস, যে কারণে ১৯৮৩, পরে ১৯৮৪ সালেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকারী বিদ্রোহী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্ল্যাংক চেক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। নিজের আত্মজীবনীতে পরবর্তীতে টাকার অংকটা উল্লেখ করেছিলেন ভিভ, পাচ লাখ ডলারেরও বেশি। মনে রাখতে হবে সময়টা ১৯৮০ সালের দিকে।

এত সাফল্য, ক্যারিশমা, ব্যক্তিত্ব, তারপরও ভিভ রিচার্ডসকে বর্ণবৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। বর্ণবৈষম্য সংশ্লিষ্ট তার একটি বাণী অমর হয়ে আছে- ‘যদি তুমি আমাকে ব্ল্যাক বাস্টার্ড বল তাহলে বুঝবে আমি যে কালো এটা ভালভাবে লক্ষ্য করেছ তুমি। কিন্তু আমি যে বাস্টার্ড (বেজন্মা/জারজ) এটার পক্ষে কি প্রমাণাদি আছে?’ হয়তো একারণেই সাদা চামড়া পেলেই জ্বলে উঠতেন। ব্যাটটাকে বানিয়ে ফেলতেন হাতিয়ার।
পরিসংখ্যানে অধিনায়ক হিসেবেও অসাধারণ ছিলেন। ভিভ রিচার্ডস ১২ টি টেষ্ট সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন, কোন সিরিজ হারেননি।

 

৬.
ওয়ানডেতে অলরাউন্ড পারফর্মেন্সও করতেন। বোলিং এ ১১৮ টি উইকেটও আছে। ওডিআই তে ক্যাচ ১০০ টি। তবে সবচেয়ে বড় ক্রেডিট একই ম্যাচে ১০০ রান আর ৫ উইকেট পাওয়া। ওয়ানডে ইতিহাসে এত বাঘা বাঘা অলরাউন্ডার থাকার পরেই এই ক্রেডিট ভিভ ছাড়া কারো ছিল না। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ভিভ ১১৯ রান করেন আর বল হাতে ৫ উইকেট নেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে কলিংউড এই কৃতিত্ব গড়ে ভিভের সঙ্গী হন। এখন পর্যন্ত এই কীর্তি দুজনেরই।
উইজডনের বিচারে গত শতাব্দীর ওয়ানডেতে সেরা ব্যাটসম্যান হন ভিভ রিচার্ডস। এছাড়া ক্রিকেট মান্থলি একটা নির্বাচনের আয়োজন করেন গত শতাব্দীর ওয়ানডের সেরা ক্রিকেটার কে সেটা নির্বাচনের জন্য। জুরি বোর্ডে ছিলেন সাবেক সেরা ক্রিকেটার; ধারাভাষ্যকার ও ক্রীড়া প্রতিবেদকরা। যার মধ্যে অন্যতম কালজয়ী ক্রিকেটার ইয়ান চ্যাপেল, ক্লাইভ লয়েড, মার্টিন ক্রো, রাহুল দ্রাবিড়, রিকি পন্টিং, গ্রায়েম স্মিথসহ আরও অনেকে। ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে ছিলেন টনি কজার, মার্ক নিকোলাস, মাইক হেইসম্যান ও সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। ক্রীড়া প্রতিবেদকদের মধ্যে ছিলেন গাইডন হাই, মাইক কোয়ার্ড, সুরেশ মেনন ও মাইক সেলভে।
৫০ সদস্যের জুরি বোর্ডে ২৯ জনের ভোট পেয়ে সর্বকালের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জুরিদের ভোটে ভিভ রিচার্ডস পান ১৭৯ পয়েন্ট। অপরদিকে টেন্ডুলকার পান মাত্র ৬৮ পয়েন্ট। টেন্ডুলকারের কাছাকাছি থাকা ওয়াসিম আকরাম পান ৬৬ পয়েন্ট।
এছাড়া উইজডেনের গত শতাব্দীর সেরা পাচ জন ক্রিকেটারের মাঝে তিনি একজন। বাক্লি চারজন হচ্ছেন ব্র্যাডম্যান, সোবার্স, জ্যাক হবস আর শেন ওয়ার্ন।

 

৭.

উইন্ডিজদের খেলার একটা অন্যতম বিষয় হচ্ছে তারা জীবনটাকে ভিন্ন ভাবে উপভোগ করতো কিংবা এখনো করে। অন্য সব উইন্ডিজ খেলোয়াড়দের মতো খেলাটাকে বিনোদন হিসেবেই দেখতেন তিনি। আসতেন, খেলতেন, মজা করতেন, আবার বাড়ি ফিরে বিচের পাশে বিয়ার খেতেন। ‘নাথিং সিরিয়াস অ্যাবাট ইট’ ভিভের মধ্যেও ছিল।
নিজে উপভোগ করতেন, অন্যকেও আনন্দ দিতেন ভিভ। একই মত গাভাস্কারের, ‘হি হ্যাজ এ্য গ্রেট এন্টারটেইনার। ও ব্যাট করতে নামলে মানুষ নড়েচড়ে বসত। নট এন্টারটেইনমেন্ট গ্যারান্টি! হি মেড ব্যাটিং সো সিম্পল।’
তবে আনন্দের জন্য খেললেও মাঠে প্রতিপক্ষকে এক চুল ছাড়ও দিতেন না। একটা ম্যাচের কথা বলি। মেলবোর্নে ওয়ানডে ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া দলে থমসন, লিলি, হগ, দুর্দান্ত ফাস্ট বোলিং অ্যাটাক! মাইকেল হোল্ডিং বলছেন, ‘হগের একটি বাউন্সার সরাসরি ভিভের চিবুকে লাগলো, হগ বলছিল, ওকি মাঠ ছাড়বে না? ভিভ মাঠ ছাড়েনি। কয়েক মিনিট পর আবার সেটেল হলো। হগ বলল, দাঁড়াও এবার বাইরে পাঠাচ্ছি। আরও জোরে আরেকটি বাউন্সার দিল। এটার জন্যই অপেক্ষা করছিল ‘কিং।’ ব্যাকফুটে কনভেনশনাল হুক। স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে। অ্যান্ড আই টেল ইউ মেলবোর্ন ইজ এ বিগ্র গ্রাউন্ড। সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ভিভ ১৫০ রান করেন।
কলিন ক্রফট ভিভ সম্পর্কে অত ডিটেইলসে যাননি। এক বাক্যে বলেছেন, ‘সে ক্রিকেটের মোহাম্মদ আলী।’

Leave a Reply