একজন মাশরাফি

নতুন বলের রাজা তিনি। ওনার প্রথম স্পেল যেকোনো ব্যাটসম্যানকে ভাবিয়ে তোলে। ইনসুইং, আউটসুইং, কাটার, স্লোয়ার, সব আছে ওনার কাছে আর সাথে অভিজ্ঞতা তো আছেই। শুধু আগের সেই গতিটাই নেই। সেটা না হয় বাদই দিলাম। তবুও তিনি দলের সেরা বোলার। প্রয়োজনে সব সময় নিজেই এগিয়ে আসেন বল হাতে। এনে দেন ব্রেক থ্রু।

দলে অনেক ভালো বোলার আছে আরও আসবে সেই অপেক্ষায় আছে। কিন্তু তিনি একজনই! সেই ২০০২ থেকে এখন পর্যন্ত তার তুলনায় শুধু তিনি। তবুও অনেকে অনেক কিছু বলে।

কিছুদিন আগে রেংকিং এ ছিলো সেরা দশের মধ্যে। ২০১৭ এশিয়ার একমাত্র সফল পেসার তিনি। এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ১৫ উইকেট । বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ উইকেট পাওয়া বোলার। এই হলো আমাদের বোলার মাশরাফি।

কিন্তু এখানে অনেকগুলো কিন্তু আছে। যেমন একটা ম্যাচ খারাপ হলে দেশের মানুষ তাকে অধিনায়ক কোঠায় খেলা খেলোয়ার বানিয়ে দেয়। ঠিক সেভাবে না বললেও তাকে শুধু অধিনায়ক হিসেবে খেলাতে চায়। কিন্তু মাশরাফি? সে কি কখনো শুধু অধিনায়ক হিসেবে খেলবে?

মাশরাফিকে নিয়ে মানুষ কথা বলে তার উদারতা, তার দেশপ্রেম, তার ডেডিকেশন, তার অধিনায়কত্ব নিয়ে। অনেকে তো আবার তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেয়। কিন্তু এসব কিভাবে নেন একজন মাশরাফি?

তিনি এমন একজন যেদিন মনে করবেন তার দ্বারা আর দেশের উপকার হবে না, সেদিন নিজে থেকেই সরে যাবেন। শুধু অধিনায়কত্ব দিয়ে বাংলাদেশ দলে খেলার খেলোয়ার এই মাশরাফি না। আর তার গ্রেটনেস ডেডিকেশন? বাংলাদেশ দলের প্রতিটি খেলোয়ার খেলতে নামে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এবং নিজের সবটা দিয়ে চেস্টা করে দেশের হয়ে কিছু করার জন্য। তিনিও তেমনি ভাবেন নিজেকে, এর বেশি কিছুনা।

কাল ভাইরাল হওয়া উনার পায়ের পিক নিয়ে অনেকে ওনাকে সমবেদনা জানায়। কিন্তু আসলে কি তা সমবেদনা নাকি অপমান?

মাশরাফি কারো সমবেদনা পেতে চায়না। মাশরাফি নিজের যোগ্যতায় দলে থাকতে চায়। যেদিন বুঝবে তিনি আর পারছেননা সেদিন নিজে থেকেই প্রিয় লাল সবুজের জার্সি তুলে রাখবেন। সুযোগ করে দেবেন তরুণদের। সেটা কাউকে বলে দিতে হবেনা। তাই তাকে তার দুর্বলতা দেখিয়ে সমবেদনা নয়। বরং শক্তির জায়গা দেখে ভালোবাসা দিন।

Leave a Reply