যেই টেস্টটা সাধারণ না

আসছে ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের হায়দ্রাবাদে হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ, যেটা কোনভাবেই একটা সাধারণ ম্যাচ না।

২০১৫ থেকে পাকিস্তানের ব্যর্থতা আর শ্রীলংকার অধঃপতনে এশিয়ান ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ভারত আর বাংলাদেশই, যদিও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিকতাটা এখনও ঠিক আসেনি, অন্যদিকে ঘরের মাঠে বরাবরই অপ্রতিরোধ্য ভারত। যদিও এশিয়ান কন্ডিশনে খেলা আগের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেইছিলো, তাও পুরো শক্তির ইংল্যান্ড এর সাথে, ঘরের মাটিতে ভারতের সর্বশেষ জয়টাও থ্রি লায়ন্স দের সাথেই।

তবে লেখাটা ম্যাচ প্রিভিউ না, তাই এসব স্ট্যাটিস্টিক্যাল আলোচনা কপচে শুধু মাথা খারাপের মানে নেই। বরং মাঠে বারুদে আগুন ধরানোর গল্পগুলো বলি…..

২০১৫, মেলবোর্ন। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতকে চেপে ধরেছে বিশ্বকাপ কাপানো মাশরাফি তাসকিন রুবেল পেসত্রয়ী। রুবেল হোসেনের এক ফুলটসে ডিপ স্কয়ার লেগে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ হলেন রোহিত শর্মা, গর্জন করে উঠলো ১৬ কোটি বাঙালি, অথচ আম্পায়ার বললেন সেটা নাকি নো বল! অথচ বল ছিলো কোমরের চেয়ে বেশ খানিকটা নীচে! এরপর লেগ বিফোর দেওয়া হলো না সুরেশ রায়নাকে, মাশরাফি রিভিউ নিলেন। স্পষ্টত দেখা গেলো বলের ৫০% এর বেশী লাইনে, কিন্তু তারপরও ডিসিশন আসলো বল নাকি লেগ স্টাম্প এর বাইরে পিচ করেছে, নট আউট! রোহিত শর্মা সেঞ্চুরি করলেন, সুরেশ রায়না ফিফটি করলেন, ভারত এক বিশাল লক্ষ্য দিলো মনোবল হারানো বাংলাদেশকে।

ব্যাটিং এ আগের দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মাহমুদুল্লাহ রানের চাকা ঘোরানো শুরু করলেন, তখনই আরেকবার ধাক্কা দেওয়া হলো। হাওয়ায় ভাসানো এক হুক শট খেললেন, রিপ্লাই এ দেখা গেলো ক্যাচ ধরার সময় শিখর ধাওয়ানের পা বাউন্ডারি কুশনে লেগে গেছে, কিন্তু তবুও দেওয়া হলো আউট! আরেকটা ধাক্কা সহ্য করার শক্তি এই তরুণ দলের ছিলো না, বাংলাদেশকে সেমিফাইনালের আশা জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরতে হলো দেশের মাটিতে।

জুন, ২০১৫। মিরপুর।

২০ বছর এক তরুণের কাটারে বিধ্বস্ত ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ, তরুণের নাম মুস্তাফিজুর রহমান। ৩ ম্যাচে নিলেন ১৪ উইকেট, বাম হাতে প্রতিশোধ নিলেন পুরো অবিচারের। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচের পর অনেক বোদ্ধাই বলেছিলেন ভারত বাংলাদেশের সাথে পরের ম্যাচে হারবে ভারত, কথাটা সত্য প্রমাণ করে ছেড়েছিলো মাশরাফি বাহিনী।

ইডেন গার্ডেন, ২০১৬। বাংলাদেশ পাকিস্তান।
টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ। বাংলাওয়াশ হওয়া পাকিস্তান যে প্রতিশোধের আশায় খেলবে তা তো অনুমিতই ছিলো। কিন্তু বাঙালি থমকে গেলো গ্যালারি থেকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগানে। যেন ইডেন গার্ডেন হঠাৎ করে আর কোলকাতায় নেই, লাহোর কিংবা দুবাই এ চলে গেছে! অধিকাংশ ভারতীয়দের মুখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দের প্রতি এই অদ্ভুত ভালোবাসা যে ভ্রু কুচকানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো, তা না বললেও হয়। এরপর ব্যাঙ্গালোরে ভারতের সাথে প্রায় জিততে জিততে হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সাথে নতুন এক এশিয়ান রাইভালরি শুরু হয়, বাংলাদেশ ভারত…

এই টেস্টটা অনন্য এই কারণে যে প্রথমবারের মত ভারতে টেস্ট সফরে যাচ্ছে টাইগাররা, টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৭তম বছরে।
এক দল বিশ্ব ক্রিকেটের প্রবল পরাক্রমশালী পরাশক্তি, অন্য দল মাত্র উঠতে শুরু করছে পরাক্রমের সিড়ি বেয়ে। ভারত পাকিস্তান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতার যুগ যেখানে শেষ, সেখানেই এই ভারত বাংলাদেশের আগুন ঝড়ানো লড়াই এর শুরু। এক দল চাইবে হেরে আসা ওয়ানডে সিরিজের প্রতিশোধ নিতে টেস্ট জিতে, অন্য দলের চাওয়া ঘরের মাঠে স্বাগতিকদেরই হারিয়ে বিশ্বকে বাঘের হুংকার শোনানো।

এই টেস্টটা তাই, কোনভাবেই, একটুও সাধারণ না…

Leave a Reply