সিংহের গুহায় বাঘের হুংকার!

“আমরা করব জয়, আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন!” এই প্রত্যয় আমাদের মাঝে সব সময়ই ছিল। কিন্তু সেই একদিন যে কবে আসবে তা হয়ত আমরা সঠিক করে বলতে পারতাম না। কিন্তু আজকের এই দিনে দাঁড়িয়ে হয়ত আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি, হ্যা আজকের দিনটাই সেই দিন।

সিরিজ শুরু হবার আগে থেকেই সবার আলোচনায় একটি বিষয়ই ছিল, শ্রীলংকার এই দলটার সাথে কেমন খেলবে বাংলাদেশ? আলোচনা- সমালোচনা যাই হোক না কেন, ফলাফল একটাই ছিল, আমরাই জিতব! সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, দিলশানদের অবসরের পরে অপেক্ষাকৃত তরুণ লংকানদের দলের চেয়ে অভিজ্ঞতা আর মেধার দিক থেকে বাংলাদেশ দলটা যে অনেক বেশি এগিয়ে। বড় দল হয়ে খেলতে নামার চাপটা অবশ্য খুব ভালোভাবেই ম্যানেজ করেছে বাংলার টাইগাররা।

পাঁচ উইকেটে ৩২৪ রানের বিশাল স্কোরই বলে দেয় কতটা প্রাধান্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রাধান্য বিস্তার করবে আর সেই ম্যাচে তামিম ভালো করবে না এমন তো হতে পারে না! তবে আজকের তামিম অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই আলাদা। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার দিনে ব্যাট করলেন ৪৭.৫ ওভার পর্যন্ত। বড় দলের বড় তারকা তামিম দলকে বিপদে না ফেলে গড়তে থাকলেন শক্ত ভীতের। যে ভীত গড়ার অন্যতম সহকর্মী সাব্বির রহমান। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম আজ ব্যর্থ হলেও বরাবরের উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নিজের জন্মদিনের উদযাপনটা করলেন অর্ধশতক দিয়েই। শেষের দিকে সৈকত আর রিয়াদ এর ঝড়ো ব্যাটিং এর কল্যাণে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ রান।

ব্যাটসম্যানদের কাজটা শতভাগের চেয়েও একটু বেশি হওয়াতে বোলাররা ছিল নির্ভার। তাই বলে নিজেদের কারিশমা দেখাতে ভুল করেননি বোলাররা। বাংলাদেশ বোলিং এর মূল স্তম্ভ অধিনায়ক মাশরাফি দিয়েই শুরু। প্রথম ওভারে কোন রানের খাতা খোলার আগেই এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠালেন ধানুস্কাকে। দলীয় ১৫ রানের মাথায় দ্বিতীয় এবং ৩১ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতনের পর শুধু রূপকথার বাস্তবয়ান সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। দীনেশ চান্দিমাল আর থিসারা পেরেরারা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটুকুই কমাতে পেরেছে। ৪৫.১ ওভারে অলআউট হবার আগে লংকান খেলোয়াড়রা স্কোর বোর্ডে জমা করতে পেরেছিল মাত্র ২৩৪ রান। ফলাফল সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯০ রানে জয়ী বাংলাদেশ।

আজকের ম্যাচে তিনটি বিভাগেই প্রচ্ছন্নভাবে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। যার ফলশ্রুতিতে কাঙ্ক্ষিত জয়টা এসেছে অনেকটা সহজভাবেই। আজকের একাদশ নির্বাচন এর বিষয়টাও প্রশংসার দাবীদার। এরকম ব্যালেন্সড একটি দল নিয়ে বাংলাদেশ আগে কখনোই খেলেনি। স্কোয়াড নিয়ে ইঁদুর দৌড় খেলে ক্লান্ত নির্বাচক প্যানেল অবশেষে পারফেক্ট একটি একাদশ উপহার দিয়েছে, এই কারণে আন্তরিক ধন্যবাদ তারা পেতেই পারেন। সিরিজের শুরুর এই ম্যাচ জয় বাকি দুই ম্যাচে মানসিক দিক দিয়ে এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে। আজকের মত পারফর্মেন্স বজায় রাখলে সিরিজ জয়টা এখন শুধু সময়ের ব্যাপারই মাত্র!

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ডঃ
বাংলাদেশ – ৩২৪/৫
তামিম ইকবাল – ১২৭ রান
সাকিব আল হাসান – ৭২ রান।
সাব্বির রহমান – ৫৪ রান

শ্রীলংকা ২৩৪ অল আউট
দীনেশ চান্দিমাল ৫৯ রান
থিসারা পেরেরা ৫৫ রান

মুস্তাফিজুর রহমান ৩ উইকেট
মাশরাফি এবং মিরাজ ২ উইকেট

ম্যানিয়াক্স ডেস্ক
ক্রিকেট ভালোবাসি, কেননা বাংলাদেশকে ভালোবাসি।

Leave a Reply