আজ ফুটেছিলো এক নীল পদ্ম

১৯৯৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল বাংলাদেশ আর কেনিয়ার মধ্যকার খেলা। বাংলাদেশ জিততে পারলে খেলবে ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপ। বৃষ্টির কারনে ডিএল মেথডে বাংলাদেশ এর টার্গেট দাড়ায় ১৬৬ রান। লাস্ট ওভারে দরকার পরে ১১ রান। প্রখম বলেই ছক্কা। ছক্কা মেরেই ব্যাটে চুমু খেলেন ব্যাটসম্যান। লাস্ট বলে দরকার পরে ১ রান ছক্কা মারা ব্যাটসম্যানটা তখন অপর প্রান্তে । স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যানের পেডে বল লেগে ফাইন লেগে যায় বল আর এর মধ্যেই ১ রান নিয়ে নিলেন ব্যাটসম্যানরা। আর জয়ের উল্লাস শুরু করলেন।

প্রথম বলে ছক্কা মারা ব্যাটসম্যানটার নাম খালেদ মাসুদ পাইলট। এমন আরো অনেক জয়ের সাক্ষী তিনি। ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে পাকিস্তান বধ। ২০০৪ এ ওয়েস্টইন্ডিজ এর সাথে প্রথম টেস্ট ড্র। সেটাতে তো নায়কই ছিলেন উনি। ১২৭ রানে ৭ উইকেট পরে যাওয়ার পর ও তিনি ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ড্র করেন সেই ম্যাচ। এটাই ছিলো তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস । ২০০৩ এ মুলতান টেস্ট ২০০৪ সালের ভারতে সাথে জয় ২০০৬ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার সাথে জয় সব ম্যাচেই তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলের অপরিহার্য সঙ্গী। ২০০৩ এর বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

১২ বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন মাত্র ১২৬ টি ওডিয়াই আর ৪৪টি টেস্ট।
৪৪ টেস্টে ৮৪ ইনিংস ব্যাট করে করেন ১৪০৯ রান। একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি সাথে ৮৭ টি ডিসমিসাল । ১২৬ ওডিয়াইতে করেছেন ১৮১৮ রান ৭টা ফিফটি সাথে ১২৬ টা ডিসমিসাল।
এসব দিয়ে একজন খালেদ মাসুদ পাইলটকে বিবেচনা করা যাবেনা। আর তাইতো তখন কার কোচ ডেভ হোয়াইট মোর বলেছিলেন-

Khaled Mashud was a valuable player in a Bangladesh side that struggled to create impact on the world stage.

১৯৯৫ সালে শারজাহতে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক এর পর দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৭ এ অবশর এর আগে তিনি দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন। উইকেটের পিছনে দাড়ানো সাথে শেষ দিকে নেমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রানকরে জিতিয়েছেন ম্যাচ। তাকে বলা হয় বাংলাদেশ এর সেরা উইকেটরক্ষক। হয়ত এখনকার বাংলাদেশ দলে খেলতে পারলে গড়তেন আরও অনেক রেকর্ড। কিন্তু তখন তিনি এটুকু করতে পেরেছেন বলেইতো আমরা পেয়েছি মুশফিক, লিটন, সোহানদের।

১৯৭৬ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহীতে জন্মগ্রহন করেন তিনি। তার বাবা শামসু মাসুদ ছিলেন একজন ফুটবলার। তিনি ১৯৭৭ সালে আবাহনীর হয়ে লীগ জিতেন।
আজ ০৮ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এর সেরা এই উইকেটরক্ষক এর জন্মদিন। ৪১ বছরে পা দিবেন তিনি। শুভ জন্মদিন খালেদ মাসুদ পাইলট।

Leave a Reply