আন্ডারডগ থেকে ডার্কহর্স, এরপর কি চ্যাম্পিয়ন?

আসছে ১ জুন শুরু হচ্ছে একদিনের ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। প্রায় ১৩ বছর পর এতে সুযোগ পেলো লাল-সবুজেরা, জায়গাটা আদায় দাপটের সাথেই, টাইগারদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটা শুরু হবে র‍্যাংকিং এর ৬ নম্বর দল হিসেবে, এক সময়ে পাকিস্তান শ্রীলংকাকে হারালেই নেচে কুদে পাগল হলেও, এখন তারা চলে গেছে পেছনে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য বাংলাদেশ দলে যেমন রয়েছে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহদের মত অভিজ্ঞ সেনানী, তেমনই ভাবে রয়েছে মুস্তাফিজ, সাব্বির, মোসাদ্দেক, তাসকিন, মিরাজ, সৌম্যদের মত তরুণ তুর্কিরা। পেস আক্রমণে রুবেল শফিউল যোগ করবেন বৈচিত্র্য, ব্যাটিং ইমরুল এর ব্যাট প্রয়োজনে হয়ে ওঠে বেশ চওড়া আর সানজামুলের স্পিনটাও নেহায়েত মন্দ নয়।

ওপেনিং করবেন খুব সম্ভবত তামিম আর সৌম্য। সৌম্য দীর্ঘ সময় অফফর্মে থাকলেও ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড এর বিপক্ষে দুই ফিফটি দিয়ে ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন, যদিও এরপরের ৩ ইনিংসে ব্যর্থ তিনি, তবুও টিম ম্যানেজমেন্ট তার উপরই ভরসা রাখবেন।

৩ নাম্বারে খেলবেন সাব্বির, ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে দেখিয়েছেন তিনি যে তিন নাম্বারে হয়ে উঠতে পারেন ভরসার নাম। ৪ এ থাকবেন বিশ্বস্ত মি.ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম, যার ব্যাট থেকে রান না হওয়াই বিস্ময় জাগায়। ৫ নাম্বারে ব্যাটিং করবেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, এই বছরে ব্যাট হাতে তার সাফল্য বেশ চমৎকার, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় হয়ত ফর্মে নেই, তবে সাকিব আল হাসান যে খুব বেশী দিন অফ ফর্মে থাকেন না সেটা সবাই জানেন!

৬ নাম্বারে থাকবেন সাইলেন্ট কিলার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি হাকানো ময়মনসিংহ এর ছেলে এবারও সুযোগ পেলে যে তার পুনরাবৃত্তি করতে চাইবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ৭ নাম্বারে খেলবেন দলের তরুণ তুর্কি মোসাদ্দেক হোসেন, বেশ কিছু ম্যাচে দুর্দান্ত ফিনিশ করে ভক্তদের মন জয় করেছেন তিনি।

৮ নাম্বারে থাকবেন খুব সম্ভবত মেহেদি হাসান মিরাজ, নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর নির্ভরযোগ্য বোলিং এর জন্য যাকে প্রায়ই বলা হচ্ছে পরবর্তী সাকিব আল হাসান। এরপর থাকবেন মাশরাফি, রুবেল ও মুস্তাফিজ। তবে পেস সহায়ক উইকেট হলে মিরাজের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন তাসকিন বা শফিউলও!

বোলিং এ রয়েছে বেশ বৈচিত্র‍্য, ফিজের কাটারের সাথে মাশরাফির বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং, সাথে রুবেলের ডেথ ওভারের ইয়র্কার। ব্যাকআপ হিসেবে থাকা তাসকিন চমকে দিতে পারেন গতি দিয়ে, শফিউল সুইং দিয়ে। স্পিন ডিপার্টমেন্টে সাকিব আল হাসানের বাহাতি স্পিনের সাথে থাকছে মিরাজতো অফ স্পিন আর সানজামুলের লেফট আর্ম অর্থোডক্স। সাথে বেশ কয়েক ওভার জুড়ে দিতে পারেন মোসাদ্দেক মাহমুদুল্লাহরাও, মিডিয়াম পেস দিয়ে কাজ সারতে পারবেন সৌম্যও!

বেশ চমৎকার এক কম্বিনেশন, কিন্তু প্রশ্নটা থেকে যায়, যাত্রা কতদূর?
আমার মতে, দল শতভাগ চেষ্টা করলে সেমিফাইনাল খুব সহজেই সম্ভব। সাকিব আল হাসানকে ২০১১ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যাওয়া সম্ভব নাকি জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছিলেন, মাত্র তো ৭টা ম্যাচ।
এবার তো ম্যাচই ৫টা, ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডকে বিদেশের মাটিতে হারানোর অভিজ্ঞতাটা এই দলের প্রায় সবারই আছে, মাশরাফির তো রয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোরও! এবারও তো হারানো সম্ভব! হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠলে যাদের সাথে খেলা পড়বে প্রত্যেককেই হারানোর, বলতে গেলে বিধ্বস্ত করারই রেকর্ড আছে। আর ফাইনাল তো মাত্র একটা ম্যাচ, জিতেও তো যেতেই পারি!

তবে আশার ঘোড়াটাকে লাগাম টেনে ধরে থামিয়ে দিচ্ছি, সেমিফাইনাল খেলাটাই হয়ত আপাত সম্ভবনা। তবে খেলাটা যখন ক্রিকেট, তখন অনেক কিছুই হতে পারে, তাই আশার লাগামটা আর ধরে রাখবো না, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখা তো বারণ নয়!

বাংলাদেশের ফিক্সচার :
বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড
১ জুন – বাংলাদেশ সময় ৩:৩০ – ওভাল

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া
৫ জুন – বাংলাদেশ সময় ৬:৩০ – ওভাল

বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড
৯ জুন – বাংলাদেশ সময় ৩:৩০ – কার্ডিফ

Leave a Reply